রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ১৪ জুন ২০২১, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১২:২৪ অপরাহ্ণ

ঋণ করে সিআরআর রাখছে কৃষি ব্যাংক

প্রকাশিত : ০৯:০৪ AM, ৫ নভেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ১২৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আমানতের সঙ্গে সামঞ্জস্য না রেখেই ঋণ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল করেও আশানুরূপ আদায় হয়নি। এতে করে ব্যাংকটি নগদ টাকার চরম সংকটে পড়েছে। পরিস্থিতি এত খারাপ অবস্থায় গেছে যে, নিয়মিত অন্য ব্যাংক থেকে ঋণ করে বিধিবদ্ধ নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে হচ্ছে। কৃষি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদন থেকে আর্থিক দুরবস্থার এ চিত্র পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামীণ অর্থনীতির বর্ধিত ঋণ চাহিদা পূরণ ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ঋণ বিতরণ বাড়িয়েছে কৃষি ব্যাংক। তবে প্রতিযোগিতামূলক অর্থবাজার থেকে আমানত সংগ্রহ করে তহবিলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রয়োজনীয় সিআরআর সংরক্ষণের লক্ষ্যে অন্য ব্যাংক থেকে স্বল্পমেয়াদি ও মেয়াদি ধার নিতে হয়েছে। এ বিষয়ে পরিচালনা পর্ষদের কার্যোত্তর অনুমোদনের জন্য প্রতিবেদনটি বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে তথ্য অনুযায়ী সিআরআর রাখতে গত ২৩ মে থেকে ধারাবাহিকভাবে ধার করছে কৃষি ব্যাংক। চার থেকে ৯১ দিন পর্যন্ত মেয়াদে ২৩ মে থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত ২৯ বার ধার করা হয়েছে। গত ১৯ মে মার্কেন্টাইল ব্যাংক থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ সুদে পাঁচ দিন মেয়াদে ধার নেওয়া হয় ৫০ কোটি টাকা। আর আইএফআইসি ব্যাংক থেকে ৬দিন মেয়াদে ৫০ কোটি টাকা ধার নিয়েছে ব্যাংকটি। মেয়াদপূর্তির পরদিন ৩০ মে স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক থেকে ৫০ কোটি ও সাউথইস্ট ব্যাংক থেকে ৩০ কোটি টাকা নেওয়া হয়। এভাবে এক ব্যাংকের মেয়াদপূর্তির পরের দিন আরেক ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া হয়েছে। গত জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইউসিবিএল থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে ১০ শতাংশ সুদে তিন মাস মেয়াদি ২০০ কোটি টাকা নেয় ব্যাংকটি। একশ’ কোটি টাকা করে নেওয়া ধারের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে গত ৯ ও ১১ সেপ্টেম্বর। গত অর্থবছরের ১৯ জুন সর্বশেষ ৬ মাস মেয়াদে একশ’ কোটি টাকা নিয়েছে সোনালী ব্যাংক থেকে। আট শতাংশ সুদে নেওয়া ধারের মেয়াদ পূর্ণ হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর। জুনের পরও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ধার নেওয়া অব্যাহত থাকলেও সে তথ্য এই প্রতিবেদনে আসেনি। জুন পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল সমকালকে বলেন, তারল্যের কিছুটা সমস্যা আছে। তবে এ পরিস্থিতিকে সংকট বলা যাবে না। দু’একদিনের জন্য ধার নিয়ে আবার পরে পরিশোধ করা হয়েছে। হয়তো সিআরআর রাখতে কিছু টাকা কম আছে। এ জন্য বাজার থেকে ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষি ব্যাংক এখন বিনিয়োগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। কেননা এক হাজার ৩৮টি শাখার এই ব্যাংকের ২৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ স্থিতি অনেক কম। সরকারও চায় আর্থিক অন্তর্ভুক্তির আওতা বাড়াতে। এ জন্য আগে ঋণ পেত না এমন ব্যক্তিকে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। শুধু ঋণ বেড়েছে তেমন নয়, আমানতও বেড়েছে। তবে কৃষি ব্যাংকের সমস্যা হলো, তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের তুলনায় কম সুদে ঋণ বিতরণ। বর্তমানে ব্যাংকটির তহবিল ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হচ্ছে ১০ শতাংশ অথচ ৯ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করা হচ্ছে। ফলে লোকসান হয়ে মূলধন ঘাটতি দেখা দিচ্ছে। শিগগির এ পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তার আশা।

আমানত না বাড়লেও ঋণ বৃদ্ধির তথ্য ব্যাংকের প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে নতুন করে ৭ হাজার ৮০৬ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে কৃষি ব্যাংক। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বিতরণ ছিল ৫ হাজার ৮১৯ কোটি টাকা। এক বছরে ঋণ বেড়েছে এক হাজার ৯৮৭ কোটি টাকা বা ৩৪ শতাংশ। গত এক বছরে যে ঋণ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে সরাসরি কৃষি খাতে বিতরণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৬৬ কোটি টাকা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে এক হাজার ৬৫০ কোটি টাকা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে দেওয়া হয়েছে ২৮৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অন্য ব্যাংক থেকে ধারাবাহিকভাবে ধার নেওয়ায় ব্যাংকটির সিআরআর সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আমানত বা আদায় না বাড়িয়ে অপরিকল্পিত ঋণ বৃদ্ধির ফলে ব্যাংকটির ওপর চাপ বাড়ছে। এ বিষয়ে শিগগির ব্যাংকটির ব্যাখ্যা চাওয়া হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন নাগাদ ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতি রয়েছে ৯ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে ৬ হাজার ৪৮১ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিল করার পরও খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে তিন হাজার ৫৬৬ কোটি টাকা। মোট ঋণের যা ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT