রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ জানুয়ারি ২০২২, ৬ই মাঘ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

১১:২২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ সাটুরিয়ায় গৃহবধূকে ধর্ষণ চেষ্টায় একজন গ্রেফতার ◈ তাহিরপুর হাওর পাড়ে বৃক্ষরোপণের স্থান পরিদর্শন করেন,ইউএনও ◈ সরকারি কাজে বাধা, যুবকের তিনমাস কারাদণ্ড ◈ গজারিয়ায় কম্বিং অভিযানে ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২ টি বেহুন্দি জাল আটক করে -কোস্ট গার্ড ◈ বান্দরবানে সেনা জোনে ১১০ ব্রিগেড সিগন্যাল কোম্পানী প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠিত ◈ শাহজাদপুরে আইনজীবীদের আদালত বর্জন অব্যাহত ◈ জুতা পরে কমলমতি শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে দেয় না প্রধান শিক্ষক ◈ রবিবা’র আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ পাকুন্দিয়ায় শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত ◈ ভূঞাপুরে কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন

ঈমান পূর্ণ হওয়ার ৭ শর্ত

প্রকাশিত : ০৫:৪৮ AM, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২০ বুধবার ৩৮১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি বিষয়ের ওপর: এই সাক্ষ্য দেওয়া, আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর বান্দা ও রাসুল, নামাজ কায়েম করা, জাকাত প্রদান করা, বাইতুল্লাহর হজ করা, রমজান মাসে রোজা রাখা।’ (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস: ৭৪০৩)

আলোচ্য হাদিসে ইসলামের পাঁচটি মৌলিক বিষয় তুলে ধরা হয়েছে, যা অস্বীকার করলে ব্যক্তি মুসলিম থাকবে না। এর প্রথমটি আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনের সাক্ষ্য দেওয়া। আর ঈমানের সাক্ষ্য গ্রহণে বিশেষজ্ঞ আলেমরা কতগুলো শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন, যা পূরণ করা ছাড়া ব্যক্তির ‘মুমিন’ হওয়ার দাবি যথার্থ বিবেচিত হবে না। আবদুর রহমান ইবনে হাসান (রহ.) ‘ফাতহুল মাজিদ শরহু কিতাবুত তাওহিদ’ বইয়ে (১/১৫৪) বলেন, ঈমানের সাক্ষ্য কবুল হওয়ার জন্য সাতটি শর্ত বা দাবি রয়েছে। শর্তগুলো পূরণ করা ছাড়া তা সাক্ষ্যদানকারীর কোনো উপকারে আসবে না। তা হলো:

শিরকের বিপরীত ইখলাস- ঈমানের প্রথম ও প্রধান দাবি হলো, আল্লাহর নাম ও গুণাবলিতে কাউকে প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য শরিক করা থেকে বিরত থাকা এবং একনিষ্ঠ হয়ে তার ইবাদত করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘জেনে রেখো! অবিমিশ্র আনুগত্য শুধু আল্লাহরই প্রাপ্য।’ (সুরা: জুমার, আয়াত: ৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আমার সাফায়াত লাভের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে সৌভাগ্যবান হবে, যে তার অন্তর থেকে একনিষ্ঠভাবে বলে আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৯৯)

সন্দেহের বিপরীত দৃঢ় বিশ্বাস- আল্লাহর নাম, গুণাবলি, ক্ষমতা ও রাজত্বের ব্যাপারে সংশয় ও সন্দেহ ছাড়া বিশ্বাস স্থাপন করা। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তার রাসুলের ওপর ঈমান আনে এবং পরে সন্দেহ পোষণ করে না। ’ (সুরা: হুজরাত, আয়াত: ১৫)

ছেড়ে দেয়ার বিপরীতে ধারাবাহিকতা- ঈমানের অন্যতম দাবি হলো তার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মপরায়ণ হয় সে তো দৃঢ়ভাবে ধারণ করে এক মজবুত হাতল। …’ (সুরা: লুকমান, আয়াত: ২২)

অজ্ঞতার বিপরীত জ্ঞান- আল্লাহর প্রতি মুমিনের ঈমান অজ্ঞতাসুলভ হবে না; বরং সে আল্লাহর সত্তা ও গুণাবলির জ্ঞান অর্জন করবে। আল্লাহ বলেন, ‘…যারা সত্য উপলব্ধি করে তার সাক্ষ্য দেয়, তারা ছাড়া।’ (সুরা: জুখরুফ, আয়াত: ৮৬)

উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি এই অবস্থায় মারা গেল যে সে জানে ‘আল্লাহ ছাড়া কেউ উপাস্য নেই’ সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৪৫)

প্রত্যাখ্যানের বিপরীতে আঁকড়ে ধরা- আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘…সেদিন তারা আত্মসমর্পণ করবে। তারা পরস্পর মুখোমুখি হয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তারা বলবে, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের শক্তি নিয়ে আমাদের কাছে আসতে। তারা বলবে, তোমরা তো বিশ্বাসীই ছিলে না এবং তোমাদের ওপর আমাদের কোনো কর্তৃত্ব ছিল না; বরং তোমরাই ছিলে সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়। আমাদের ব্যাপারে আমাদের প্রতিপালকের কথা সত্য হয়েছে, অবশ্যই আমাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে। আমরা তোমাদের বিভ্রান্ত করেছিলাম, কারণ আমরা নিজেরাও বিভ্রান্ত ছিলাম। তারা সবাই সেদিন শাস্তির অংশীদার হবে। অপরাধীদের প্রতি আমি এরূপই করে থাকি। তাদের ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য মাবুদ নেই’ বলা হলে তারা অহংকার করত।’ (সুরা: সাফফাত, আয়াত: ২৭-৩৫)

মিথ্যার বিপরীতে সত্য- আল্লাহ কখনো কখনো পরীক্ষার মাধ্যমে ঈমানের দাবিতে মুমিন সত্যবাদী কি না তার পরীক্ষা নেবেন। ইরশাদ হয়েছে, মানুষ কি মনে করে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ এ কথা বললেই তাদের পরীক্ষা না করে ছেড়ে দেয়া হবে। আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদেরও পরীক্ষা করেছিলাম; আল্লাহ অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা সত্যবাদী এবং তিনি অবশ্যই প্রকাশ করে দেবেন কারা মিথ্যাবাদী।” (সুরা: আনকাবুত, আয়াত: ২-৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি তার অন্তর থেকে সত্য জেনে এই সাক্ষ্য দেবে, ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নাম হারাম করে দেবেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১২৭)

আল্লাহর জন্য সম্পর্ক, আল্লাহর জন্য বিচ্ছেদ- আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আপনি আল্লাহ ও শেষ দিবসের ওপর বিশ্বাসী কোনো সম্প্রদায়কে আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি বিরুদ্ধাচরণকারীর সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে পারেন না; যদিও তারা (বিরোধীরা) তাদের পিতা, পুত্র, ভাই ও সগোত্রীয় লোক হয়।’ (সুরা: মুজাদালাহ, আয়াত : ২২)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তিনটি বৈশিষ্ট্য থাকলে ব্যক্তি ঈমানের স্বাদ পাবে- তার কাছে সব কিছুর চেয়ে আল্লাহ ও তার রাসুল সবচেয়ে বেশি প্রিয় হলে, সে কাউকে শুধু আল্লাহর জন্য ভালোবাসলে, সে আগুনে পড়াকে যেমন অপছন্দ করে, কুফরির দিকে ফিরে যেতে এমন অপছন্দ করলে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৬৯৪১)

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT