রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ২৬ জুন ২০২২, ১২ই আষাঢ় ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

০৮:০৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নোয়াখালীতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত ব্যক্তির মৃত্যু ◈ কালিহাতীতে আশ্রয়ন প্রকল্পে বসবাসরত পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ ◈ রাজারহাটে আওয়ামী লীগের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ◈ রৌমারীতে কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে স্প্রে মেশিন বিতরণ। ◈ বেদে সম্প্রদায়সহ বানভাসি অসহায় মানুষের পাশে,মধ্যনগর থানা পুলিশ ◈ পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ডামুড্যায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।। ◈ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে কালিহাতী থানা পুলিশের আতশবাজি প্রদর্শনী ◈ হাইওয়ে পুলিশের উদ্যোগে শেরপুরে বন্যার্তদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ ◈ পদ্মা সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠান ভার্চুয়ালি উপভোগ করেণ দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন ◈ দুর্গাপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের মাঝে বিনামূল্যে ঔষধ ও ত্রাণ বিতরণ করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

ঈদ মানে নতুন জামা লুকিয়ে রাখা

প্রকাশিত : 01:12 AM, 2 May 2022 Monday 234 বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দীর্ঘ এক মাস রোজার পর ঈদ আসে আনন্দের বার্তা নিয়ে। আনন্দের দিনগুলো নিয়ে থাকে আমাদের নানা স্মৃতি। ঈদ মানেই ঘরে ফিরে পরিবার পরিজনের সাথে মিশে আনন্দ ভাগাভাগি করা। আবার অনেক কর্মজীবী থাকে যাদের বাড়ি ফেরা হয় না উৎসবের দিনেও। এমন নানা পেশার মানুষের সাথে তাদের ঈদ স্মৃতি নিয়ে কথা বলেছেন তানজিদ শুভ্র
 
সংবাদ পাঠক চৈতী সরওয়ার। ঈদের দিনও সংবাদ উপস্থাপন করতে হবে তাকে। তিনি বলেন, ঈদ বরাবরই আনন্দের। বিশেষ করে রোযার ঈদ আমার কাছে একটু বেশিই আনন্দময় মনে হয়। পরিবারের সাথে সময় কাটানো, নতুন জামা কেনা এসব নিয়ে এখনো অনেক এক্সাইটেড থাকি। এখন আর সালামি পাইনা যদিও, সালামি দিতে হয়। এটার মধ্যেও আনন্দ কাজ করে।
শৈশব স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ছোটবেলার ঈদ গুলোই আসলে স্মরণীয়। ঈদের জামা লুকিয়ে রাখা, যাতে ঈদের আগে কেউ দেখে না ফেলে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই গোসল করে সেই জামা গায়ে দিয়ে বড়দের কাছে গিয়ে সালামি নেয়া, পরিবারের সবাই মিলে ঈদের নাটক দেখা। এখন চাইলেও সেই দিনগুলো আর ফিরে আসবে না। ছোটবেলার ঈদ গুলোই স্পেশাল।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে কাজ করার এতো গুলো বছরে শুধু ঈদ থেকে শুরু করে স্পেশাল দিনগুলোতে কখনো ছুটি কাটাইনি। ঈদের দিনেও অফিসে যেতে হয়, নিউজ পড়তে হয়। নয়তো জনসাধারণ ঈদের সময় খবরাখবর পাবেন কীভাবে! তাঁদের জন্য ঈদ আনন্দ অফিসে পালন করি আমরা। এটাও মন্দ লাগে না। বিশেষ দিন গুলোতে অফিসে উৎসব উৎসব মহল থাকে, এটাও যেমন আনন্দ দেয় আবার পরিবারকে তখন মিস করি, পরিবারের লোকজন হয়তো দুপুরে খাবার টেবিলে বসে আমাদেরকে মিস করতে থাকেন। তবুও ঈদ আমাদের সবার, ঈদের দিনটা কতটা রঙিন রাখা যায় ব্যক্তি জায়গা থেকে যেই প্রচেষ্টা করি সবসময়। 
ঈদ নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী সাইফ শুভ। তিনি বলেন, ছোটবেলার ঈদের স্মৃতি গুলো মজার ছিল বেশ। যখন ছোট ছিলাম শীতের দিনে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে ঈদ হতো, শীতের মধ্যে গোসল করতে হবে সেই ভয়ে বিছানা ছেড়ে উঠতে চাইতাম না। আম্মা গরম পানি করে দিতেন জোর করে বিছানা থেকে উঠে গোসল করতে পাঠাতেন, এরপর সেমাই খাইয়ে আব্বার সাথে ঈদের নামাজ কোথায় করতে ঈদগাহে পাঠাতেন। 
নামায শেষ করে কোনমতে আব্বা আম্মার কাছ থেকে সালামি আদায় করার পর আমাকে আর কেউ খুঁজে পেত না, সারাদিন বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতাম, পটাকা কিনতাম একটু পর পর সেসব ফাটিয়ে উল্লাস করতাম। সেসময়ের গান শোনা নিয়ে শুভ বলেন, তখন আইয়ুব বাচ্চু, জেমস, হাসান এবং বিপ্লব ভাইয়ের ঈদ উপলক্ষে নতুন নতুন গান আসত বাজারে, সেই সব নতুন সিডি কিনে রাখতাম ঈদের দিন ফুল সাউন্ডে সেইগুলো বাজাবো বলে মাইকের দোকান থেকে আগের রাতেই মানে চাঁদ রাতেই সাউন্ড বক্স ভাড়া করে আনতাম ১৫০ টাকায় সকাল টু সন্ধ্যা।
শুভ আরও বলেন, বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে রিক্সা করে ঘুরে বেড়াতাম। একবার ঈদের দিন বন্ধুর বাবার বাইক চালিয়ে ঘুরতে গিয়ে পা ভেঙেছিলাম। আম্মার সে কি কান্না, আরেক দিকে আব্বার বকা! ডাক্তার বলেছিল দুই মাস লাগবে হাড় জোড়া লাগতে, আমি তো মনে মনে বিশাল খুশি, স্কুলে যেতে হবে না কমপক্ষে দেড় মাস এই আনন্দে। এভাবে কাটতো আমার ছোটবেলার ঈদ খুব মনে পড়ে সেসব দিন খুব মধুর ছিলো সে সব দিন। 
শুভ যোগ করেন, ছোটবেলার ঈদ আর এখকর ঈদের আনন্দ অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে, এখন ঈদে সকাল থেকে সন্ধ্যা অব্দি পরিবারকে সময় দেই, তারপর পুরানো বন্ধুবান্ধব একজায়গায় একত্রিত হই গাড়ি নিয়ে ছুটে বেড়াই কার কেমন দিন যাচ্ছে, সুখে আছে না দুঃখে এসব আলোচনা করতে করতেই দিন পার হয়ে যায়।
তরুণ কথাসাহিত্যিক মোহাম্মদ অংকন বলেন, ঈদ মানে আমার কাছে শুধু আনন্দ-উৎসবই মনে হয় না, ঈদ মানে শহর থেকে গ্রামে ছুটে গিয়ে প্রিয় মানুষদেরকে বুকে জড়িয়ে নেওয়ার যে প্রশান্তি, তা কল্পনাতিত আনন্দ। ঈদ-উৎসব কীভাবে যে আপনজনকে কাছে টানে, তা বলে বোঝানো যাবে না। ঈদের দিনের কথা ভাবলে শৈশবের সেইসব ঈদের দিনের কথা মনে পড়ে। মনে পড়ে চাঁদরাতে মাটির ব্যাংক ভেঙে হিসাবে বসা- কত টাকা জমল বছর শেষে! কিন্তু সব টাকা নিয়ে ঈদগাহে যাওয়া হত না। মা কিছুটা রেখে দিত। কিন্তু সকালে ঈদগাহে সব টাকা ফুরিয়ে আবার এসে মায়ের আঁচল, বিছানার নিচ থেকে কিংবা তরিতরকারির ডালা থেকে বাকি টাকা নিয়ে বিকেলের ঘোরাঘুরিটাও সেরে ফেলতাম। আর তারপর রাতে বাড়িতে এসে মায়ের হাতের রান্না খেয়ে ঈদটাকে পরিপূর্ণ করে তুলতাম। সেইসব দিন খুব মিস করি। 
সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী আলমগীর ইসলাম শান্ত একজন আবৃত্তি শিল্পী। তার কাছে সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে বুকেতে বুক মিলানোর দিনই হলো ঈদ। ঈদের দিনের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তখন আমি সম্ভবত চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। ঈদের আগে আগে সাধারণত আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য নতুন জামা কাপড় কেনা সহজ ছিলো না। তাই পালা বদল করেই আমাদের নতুন জামা কেনাকাটা করতে হতো কোনো কোনো বছর। সে বছরে আমার নতুন জামা কিনে দেবার পালা এসেছিল। কিন্তু আব্বার কাছে সে বছরে নতুন জামা কেনার মতো টাকা ছিলো না। আমার ছোটমন, কিছুতেই মানতে পারছিল না। যদিও  আমি আর জোর করি নি সেবার নতুন জামার জন্য। আব্বা আমাকে খুব স্নেহ করতো। তাই জামা কেনার সামর্থ্য না থাকলেও পঞ্চাশ টাকার  একজোড়া নতুন জুতো কিনে দিয়েছিল। খুব আনন্দ পেয়েছিলাম নতুন জুতোজোড়া পেয়ে। দূর্ভাগ্যবশতঃ ঈদের দিনই নতুন জুতো জোড়ার একটি হারিয়ে যায়। খুব কান্না পাচ্ছিলো আর সেই ঈদের দিনই অনেক রাত পর্যন্ত বাইরে ছিলাম জুতো না খুঁজে পেয়ে। কি করে আমি মুখ দেখাবো আব্বাকে, ভেবে পাই না। এত অভাবের সংসারে আব্বা আমার জন্য নতুন জুতো কিনে দিয়েছে আর আমি প্রথম দিনেই তা হারিয়ে ফেলেছি। এদিকে আমার খোঁজে পুরো এলাকা-মহল্লা তোড়জোড় করে ফেলছে আমার আব্বা। আমার কোনো হদিস না পেয়ে আব্বা সেবার খুব ভয় পেয়েছিল বোধহয়। যখন রাতে আমি বাড়িতে যাই আর আব্বার মুখোমুখি হই, আব্বা আমাকে পরম স্নেহভরে বুকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠলেন। আমিও কিছু বুঝে উঠবার আগেই কেঁদে ফেললাম আব্বার বুকে মুখ গুঁজে। ঐ একবারই আমি আমার আব্বাকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলাম। বহু দিন বহু বছর হয় আব্বাকে জড়িয়ে ধরি নি। আব্বা, তোমাকে একবার জড়িয়ে ধরতে চাই।
সামাজিক সংগঠক রুহিত সুমন এবং শেখ রিফাদ মাহমুদের কাছে ঈদের আনন্দ আরেক রকম।
 
ময়ূরপঙ্খী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান রুহিত সুমন বলেন, ঈদ মানে আনন্দ, খুশি, উৎফুল্লতা। আসলে ছোটবেলার ঈদ উৎসবটি বেশি আনন্দের ছিল। সারা মাস রোযা রেখে ঈদের নামায পরেই মা-বাবার কাছ থেকে সালামী নিয়ে বেড়িয়ে পরতাম ঘুরতে। সে যে কতো মজার স্মৃতি ছিল। আর যেহেতু সমাজকর্মী হিসেবে ছোট বেলা থেকেই সামাজিক কাজের সাথে জড়িত, সেহেতু প্রত্যেক ঈদের আগেই প্রচেষ্টা থাকতো সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও নারীদের মাঝে ঈদ উপহার, খাবার ও নতুন জামা তুলে দেবার। এদের মুখে হাসি ফুটিয়ে আমিও তৃপ্ত হতাম। তিনি আরও বলেন, এখন পেশাদারিত্বের কাজে ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় আগের মতো সেই আমেজটি থাকে না। স্মৃতিচারণ করে রুহিত বলেন, ছোটবেলার ঈদ ও মায়ের হাতের সেমাই খুব মিস করি। কারণ, আমার মমতাময়ী মা অনেক আগেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন ।
শেখ রকিবুল ইসলাম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শেখ রিফাদ মাহমুদ বলেন, আমার ছোটবেলায় ঈদ মানে ছিলো চাঁদ রাতে কে কয়টা পটকা-বাজি ফোটায় এমন প্রতিযোগিতা, ঈদ মানে ছিলো ঈদের দিনে কার কত বেশি সালামী হলো সে নিয়ে হিসাব-নিকাশ, ঈদ মানে ছিলো নতুন জামা কিনার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়া।
তিনি বলেন, দিন যাচ্ছে বড় হচ্ছি, দায়িত্ব বেড়ে যাচ্ছে। এখন ঈদ এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নতুন জামা উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা সাজাতে, ব্যস্ত হয়ে হয়ে পড়ি অসহায়ের মাঝে ঈদ খাদ্য সামগ্রী উপহারের তালিকা তৈরিতে।
এখন ঈদে নতুন জামা কেনা নিয়ে আগ্রহ কাজ করেনা। যত দিন যাচ্ছে আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। এখন মনে প্রশান্তি পাই শত শত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর জন্য ঈদে নতুন জামা উপহার দেওয়ার মাধ্যমে। বিগত ৫ বছর ধরে এভাবেই চলছে আমার ঈদ।
অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করার আহ্বান জানিয়ে রিফাদ বলেন, যারা ঈদের দিনেও ভালোমতো খেতে পায় না, নতুন জামাকাপড় কেনার সামর্থ্যও থাকে না। আমাদের উচিত সাধ্যমত সাহায্য-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে ধনী-গরিব সবাই মিলেমিশেই আনন্দে-উৎসবে ঈদ উৎযাপন করা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- [email protected] আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২২ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT