রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৮ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ কুড়িগ্রাম সদরে ইউপি নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ রাজশাহীর মোহনপুরে নৌকার প্রতীক পেলেন যারা ◈ শ্রীনগরে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন যারা ◈ চেয়ারম্যান প্রার্থী আলহাজ্ব শাহ আলমের নির্বাচনী উঠান বৈঠক। ◈ তাহিরপুর সীমান্তে ভারতীয় মাদকের চালান সহ বিভিন্ন মালামাল আটক ◈ ফুলবাড়ীর ছয় ইউনিয়নে নৌকার মাঝি হলেন যারা ◈ সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে কলমাকান্দায় মানববন্ধন ◈ ডাচ্-বাংলা ব্যাংক শশিকর বাজারে শুভ উদ্বোধন ◈ তাহিরপুরে তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষন কমিটির সভা ◈ রাজারহাটে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন ত্রাণ ও দূর্যোগ প্রতিমন্ত্রী

ইমুর পুষা বিড়াল টিমটিম বাবু

শরিফুল ইসলাম

প্রকাশিত : ০৯:৩২ AM, ২৫ অক্টোবর ২০২০ রবিবার ২৩৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ইমু শহরের একটি নামকরা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। হালকা পাতলা গড়নে ছিমছাম গোলগাল মুখ,গায়ের রঙ যাকে বলে লাল মুলার মতো- চঞ্চল স্বভাবের একটি মেয়ে। বাবা মায়ের অতি আদরের সন্তান। বাবা একজন সরকারি চাকরিজীবী, এই শহরেই কোনো এক জায়গায় সে অফিস করে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনে বাবা মা’র সাথে ইমু ঘুরতে যায়। কোনো কোনো দিন পার্কে আবার কোনো দিন রেস্তোরাঁয়। যেদিন তারা রেস্তোরাঁয় খেতে যায় সেদিন ফেরার সময় বাসায় খাবার নিয়ে ফিরে। বাসায় ইমুর দাদু আর টিমটিম বাবু থাকে। ইমু তার বাবাকে বলে- ‘বাবা, আমরা যা যা খেয়েছি সবই বাসায় নিয়ে চলো, বাসায় তো দাদু আর টিমটিম বাবু আছে’।
ইমুর বাবা ঠিক তাই করে। সমস্ত খাবার ব্যাগ ভর্তি করে বাসায় পৌছে। বাসায় পৌছেই দেখে টিমটিম বাবু ইমুর জন্য গেটের কাছে বসে অপেক্ষা করছে, ইমুকে দেখতে পেয়ে টিমটিম বাবু দৌড়ে আসে আর অমনি ইমু তাকে কোলে তুলে নেয়। ইমুকে দেখে টিমটিম বাবুর দৌড়ে আসে আর আসাটাই হচ্ছে টিমটিম বাবুর স্বভাব অন্যদিকে টিমটিম বাবুকে কোলে নিয়ে সোহাগ করতে করতে ঘরের ভিতর যাওয়াটা হচ্ছে টিমটিম বাবুর প্রতি ইমুর ভালোবাসা।
এখন আসি এই টিমটিম বাবুটি কে?
টিমটিম বাবু হচ্ছে একটি বিড়াল, ইমুর পুষা বিড়ালটির নামই হচ্ছে টিমটিম বাবু। ইমু আদর করে বিড়ালটির নাম রাখে টিমটিম তারপরে আরো আদরে আদর ঢেলে নাম রাখে টিমটিম বাবু। টিমটিম বাবুকে নিয়ে ইমুদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা পাঁচ জন। ইমু, ইমুর বাবা, ইমুর মা, ইমুর দাদু এবং টিমটিম বাবু। টিমটিম বাবুকে সবাই ভালোবাসে, যদিও প্রথম প্রথম ইমুর মা টিমটিম বাবুকে বিড়াল বলে ঘৃণা করতো তবে এক সময় থেকে আর করতো না। ইমু যখন স্কুলে থাকতো ইমুর মা’ই টিমটিম বাবুকে খাবার দিতো।

ইমু তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তো। ক’দিন পরেই ইমুর বার্ষিক পরিক্ষা। স্কুল ছুটির পর ইমুর দাদু ইমুকে নিয়ে রিকশা করে বাসায় ফিরছে। হাঠাৎ রিকশা থেকে ইমুর চোখ পড়ে রাস্তার একটি বিড়ালছানার উপর। ইমু বিড়ালছানাটি দেখেই খুশিতে -‘দাদু……’ বলে চিৎকার করে উঠে। তারপরেই শুরু হয় বায়না -‘দাদু আমি বিড়ালছানা নিবো, আমি বিড়ালছানা নিবো’।
দাদু বাধ্য হয়েই রিকশাওয়ালাকে থামিয়ে সেই বিড়ালছানার কাছে যায়। অবশেষে যা হবার তাই, ইমু বিড়ালছানাটা নিয়ে বাসায় ফিরে। টিমটিম বাবু তারপর থেকেই হয়ে যায় বাসার একজন স্থায়ী সদস্য। বাসার প্রত্যেকটি স্থানে টিমটিম বাবুর আসা যাওয়া শুরু হয়। কখনো সিঁড়ি বেয়ে ইমুদের নিচের তলায় আরেক বাসায় চলে যায়। তবে একদিন কি জানি কি হলো, হঠাৎ টিমটিম বাবু হাঁপিয়ে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ইমুর পাশে এসে বসলো, ইমু কিছু বুঝতে পারলো না! তার কিছুক্ষণ পরেই ইমু লক্ষ করল যে টিমটিম বাবুর পা বেয়ে রক্ত ঝরছে।
ইমুদের নিচের তলায় একটি দুষ্ট ছেলে থাকে। পশু পাখি দেখলেই সে নানান ভাবে মারধর করে। ইমু দেখেছে সেই ছেলেটি একদিন একটি পাখিকে কি রকম শাস্তি দিয়েই না মেরে ফেললো। ঐ রকম স্বভাবের জন্য ঐ ছেলের মা-বাবাও তাকে শাসন করে না। ইমুর স্পষ্ট ধারণা হলো টিমটিম বাবুর পা বেয়ে রক্ত ঝরার কারণ হলো ঐ নিষ্ঠুর ছেলেটি।

তারপর বেশ ভালোই চলছে ইমু আর টিমটিম বাবুর বন্ধুত্ব। তার কয়েক মাস পর, ইমু তার দাদুর কাছে বসে গান শিখছে। ইমুর দাদু সুন্দর গান গায় এবং এক সময় গানের শিক্ষকতা করেছে। ইমুরো গানের প্রতি বেশ ঝোঁক। হারমোনিয়াম তবলা নিয়ে ইমু এবং ইমুর দাদু বসার ঘরে গান চর্চা করছে কিন্তু টিমটিম বাবু কোথায়?
অন্যান্য দিন ইমু যখন গান চর্চা করে টিমটিম বাবু ঠিক তার সামনে বসে থাকে। আজ টিমটিম বাবু নেই কেনো?
ইমু মনে মনে ভাবলো হয়তো আছে কোথাও, চলে আসবে এখুনি। কিন্তু না, ইমু গান চর্চা শেষ করে বেরিয়ে এলো বসার ঘর থেকে। তার নিজের ঘরেও খুঁজে দেখলো, কোথাও নেই টিমটিম বাবু।
ইমু বাধ্য হয়ে মা.. মা.. বলে চেঁচাতে শুরু করলো। ইমুর মায়েও কোনো সাড়া দিলো না। তারপরে রান্নাঘরের কাছে গিয়ে আবারো মা বলে ডাকলো ইমু। ইমুর মা রান্নাঘরের এক কোণায় থেকে মুখ ঢেকে শুধু একবার ইমুর দিকে তাকালো। ইমু বললো -‘মা কি হয়েছে’?
ইমুর মা চোখ মুছতে মুছতে মেঝেতে পড়ে থাকা টিমটিম বাবুর নিথর দেহ’টার দিকে তাকালো।
ইমুর বুঝতে আর অসুবিধা হলো না যে টিমটিম বাবু আর নেই আমাদের মাঝে।
এভাবেই শেষ হলো একটি বন্ধুত্ব একটি ভালোবাসা। তবুও শেষ হয়ে যেনো শেষ হলো না টিমটিম বাবুর স্মৃতি ইমুর অনুভব থেকে। ইমু এখনো খুঁজে পায় তার জামার মাঝে তার ভালোবাসা তার আদরের টিমটিম বাবুর হালকা বাদামী লোক। ইমুর চোখের উপর ভেসে উঠে সেদিনের টিমটিম বাবু আর তার হাসিখুশি মুখটা।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT