রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২০, ১৭ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৩:০৮ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মুরাদ নূরের সুরে কাজী শুভর ‘ইচ্ছে’ ◈ রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির আয়োজনে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ◈ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে বান্দরবানে পালিত হচ্ছে প্রবারণা পূর্ণিমা ◈ ফ্রান্সে বিশ্বনবীকে নিয়ে কটুত্তির প্রতিবাদে ভূঞাপুরে বিক্ষোভ মিছিল ◈ রায়পু‌রে ক‌মিউ‌নি‌টি পু‌লি‌শিং ডে-২০২০ উদযা‌পিত ◈ কাপাসিয়ায় কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ◈ কটিয়াদীতে ট্রিপল মার্ডার : মা ভাইবোন সহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের ◈ হরিরামপুরে চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে জখম ◈ কমিউনিটি পুলিশিং ডে-২০২০ উপলক্ষে মধ্যনগর থানায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ◈ রাসুলকে (সাঃ)’র অপমানের প্রতিবাদে কাপাসিয়া কওমী পরিষদের বিক্ষোভ সমাবেশ

আ.লীগে ছায়াকেও ভয়

প্রকাশিত : ০৬:০৫ AM, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Wednesday ২৩৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

টানা তিন দফা মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। দলের পদপদবী ও প্রভাবকে অপব্যবহার করে কেন্দ্র থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত একটা বড়সংখ্যক নেতাকর্মীর দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ নানা অপকর্মের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থের মালিক হয়েছে। এ সব নেতাকর্মী সরকারের বিভিন্ন দফতরের অসাধু কর্মকর্তা, দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ সদস্যদের সমন্বয়ে ‘দুর্র্নীতির দুষ্টচক্র’ গড়ে তুলেছে। সংঘবদ্ধ এই চক্রের কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক সব অর্জনই ম্লান হতে বসেছে।

রূপপুর বালিশকাণ্ড, ফরিদপুরে পর্দাকাণ্ড- এ রকম বড় বড় সব দুর্নীতির ঘটনায় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছিল সরকারের। এ পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী অপসারণের মধ্য দিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান এ অভিযান সপ্তাহ গড়িয়েছে। এরই মধ্যে এ অভিযানে তছনছ হয়ে গেছে যুবলীগের ক্যাসিনো সাম্রাজ্য। ঢাকার মাঠ কাঁপানো একসময়কার ক্লাবগুলোকে ক্যাসিনো বানিয়ে যুবলীগের একডজনের বেশি নেতা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এ সব ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন।

কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতারাও যুক্ত হয়েছিলেন শত শত কোটি টাকার অবৈধ এ ক্যাসিনো বাণিজ্যে। চলমান অভিযানে একে একে সবাই ধরা পড়ছে। বেরিয়ে আসছে থলের বিড়াল। মন্ত্রী, এমপি, ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতার বাইরের প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের কর্তাব্যক্তি- সবার কাছেই পৌঁছে যেত ক্যাসিনোর অবৈধ টাকার ভাগ। শুধু ক্যাসিনো নয়, সবাইকে ম্যানেজ করে দিব্যি টাকার পাহাড় বানানো টেন্ডারবাজির মোগলও পড়েছে ধরা। আর এ সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, অনিয়ম-দুর্নীতির জালে জড়িয়ে পড়া সাবেক-বর্তমান মন্ত্রীসহ আওয়ামী লীগের হাফ ডজন প্রভাবশালী নেতা, সাবেক-বর্তমান সচিব ও প্রকৌশলী, বিএনপির চার নেতা, পুলিশ কর্তা, সাংবাদিকসহ অনেকেই।

দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে চলমান এ শুদ্ধি অভিযান কোন স্তর পর্যন্ত চলবে, শুধু কি ঢাকা নাকি তৃণমূলেও চলবে এ অভিযান, শেষইবা হবে কবে- এ নিয়ে আওয়ামী লীগের সবস্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। এরই মধ্যে যুবলীগের অনেক নেতা গা ঢাকা দিয়েছেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগের অনেক নেতার মধ্যেও ঢুকে পড়েছে ভয়-সংশয়। দিনের পর দিন রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের যে সব নেতা ধরাকে সরা জ্ঞান করে নানা সামাজিক অপরাধের মাধ্যমে বড় অংকের টাকার মালিক বনে গেছেন তারা এ অভিযানের মধ্যে নিজের ছায়াকেই যেন ভয় পেতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রতি নিবেদিত ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা এ অভিযানকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন।

সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার র‌্যাব ঢাকার গেণ্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের নেতা দুই ভাই, তাদের এক কর্মচারী এবং তাদের এক বন্ধুর বাসায় অভিযান চালিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা, আট কেজি সোনা এবং ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে। ওই দুই আওয়ামী লীগ নেতার মধ্যে গেণ্ডারিয়া থানা কমিটির সহসভাপতি এনামুল হক এনু এবং তার ভাই রুপন ভূঁইয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। থানা পর্যায়ের সহসভাপতি ও যুগ্ম সাধারণ পদধারী নেতাদের বাসায় এত বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ কীভাবে হলো এ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। র‌্যাব সূত্র জানাচ্ছে, গ্রেফতার এনামুল হক ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের একজন শেয়ারহোল্ডার। মূলত ক্লাবটিতে চলা ক্যাসিনোর লাভ থেকে এ বিপুল সম্পদের মালিক বনে গেছেন তারা।

এর আগে, গত বুধবারে যুবলীগের ক্যাসিনো সাম্রাজ্যে প্রথম হানা দেয় র‌্যাব। এ অভিযানের মধ্য দিয়ে রাজধানীর বুকে অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্যের রমরমা চিত্র অবমুক্ত হয়। হতবাক হতে হয় সবাইকেই। সবার চোখের সামনেই বছরের পর বছর ক্যাসিনো চললেও কেউ কিছুই জানল না? অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর অন্যতম হোতা ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতার হওয়ার পর দিতে শুরু করলেন চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। জানা যায়, ঢাকার এক সময়কার খেলার মাঠের জমজমাট ক্লাবগুলো পরিণত হয়েছে ক্যাসিনোতে। ৬০টির মতো ক্যাসিনো চলছিল যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগের একডজন নেতার নিয়ন্ত্রণে। ঢাকায় ক্যাসিনো কালচারের একচ্ছত্র অধিপতি ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী। তার ছায়াতেই কোটি কোটি টাকার অবৈধ ক্যাসিনো বাণিজ্য চলছিল।

ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্যেই গত শুক্রবার টেন্ডারমোগল নামে পরিচিত জে কে শামীমের ডেরায় অভিযান চালায় র‌্যাব। প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা ও ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর এবং ৭ দেহরক্ষীসহ শামীমকে গ্রেফতার করা হয়। যুবদল থেকে যুবলীগ নেতা বনে যাওয়া শামীমের উত্থান রূপকথাকেও হার মানাচ্ছে। মন্ত্রী, এমপি, সচিব, ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতা, পুলিশ, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা, সাংবাদিক সবাইকে ম্যানেজ করে কীভাবে টেন্ডার বাগাতে হয়- সবটাই ছিল তার নখদর্পণে।

চলমান অভিযানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর অনেক নেতাকর্মীর মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান অনেক পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দফতরের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে ভয়। কী হয়, কী হয়- এমন ভাবনায় তারা দুরু দুরু। বিএনপিসহ বিরোধী দলের নেতাদের মাঝেও ভয়-সংশয় ঢুকেছে।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, দলপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতি-অনিয়মের মূল উৎপাটন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ ক্ষেত্রে একেবারে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতিতে এগোচ্ছেন তিনি। দুর্নীতিবাজদের কারণে দল ও সরকারের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে তা পুনরুদ্ধারে এ অভিযান ছাড়া তার সামনে কোনো পথ খোলা ছিল না। গত সপ্তাহে ছাত্রলীগের নতুন নির্বাচিত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে সাক্ষাৎ করতে গেলে শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রলীগের পর যুবলীগকে ধরেছি। সমাজের সব অসঙ্গতি দূর করব। অপরাধ, অনাচার রোধে যা যা করার করা হবে। যাকে যাকে ধরা দরকার, তাদের ধরা হবে। জানি, কাজটা কঠিন, বাধা আসবেই, কিন্তু জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস ফেরাতে সরকার তা করবে।

গত শুক্রবারে জাতিসংঘ অধিবেশনে যাওয়ার আগেও তিনি চলমান শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়ে যান। সূত্র বলছে, এ অভিযান সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। অনেক নেতাই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে আছেন।

মঙ্গলবার সচিবালয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানান, অনিয়ম, দুর্নীতির বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চলমান অভিযানে দলের অনেক নেতাকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের বাইরে যাওয়ার বিষয়ে কতজনের বিরুদ্ধে নির্দেশনা রয়েছে আমি জানি না। সার্ভেইল্যান্সে (নজরদারি) আছে অনেকে, সেটা আমি জানি। সংখ্যাটা আমি ঠিক জানি না।’ দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা নজরদারিতে আছে কি-না জানতে চাইলে কাদের বলেন, ‘সব তো আওয়ামী লীগের লোকজনই। আগে কোন দল ছিল এটা বলে তো লাভ নেই। আমি আমার দলে নিলাম কেন? এখন সে আমার দলের পরিচয়ই ব্যবহার করছে। কাজেই আমরা ঘর থেকেই অভিযান শুরু করেছি।’

ক্ষমতাসীন দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আওয়ামী লীগপ্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে শুদ্ধি অভিযান। দুর্নীতিবাজদের একবিন্দু ছাড় দিতে রাজি নন তিনি। ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতাকে অপসারণের পর ক্যাসিনো ও টেন্ডারবাজিতে জড়িত যুবলীগ নেতাদের গ্রেফতার, এরপর থানা পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতার বাসায় অভিযান। নীতিনির্ধারকরা বলছেন, এটা সবে শুরু। তালিকায় অনেক ‘রাঘববোয়াল’ রয়েছেন। একে একে সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT