রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৫৭ পূর্বাহ্ণ

জেলার রাজনীতি নড়াইল

আ.লীগে গ্রুপিং, মামলায় জর্জরিত বিএনপি

প্রকাশিত : ০৯:২৬ AM, ১ অক্টোবর ২০১৯ Tuesday ৭৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

স্বাধীনতার পর নড়াইলের দুটি সংসদীয় আসন বেশিরভাগ সময়ই আওয়ামী লীগের দখলে থেকেছে। রাজনৈতিক পালা বদলের কারণে কখনও হাত ছাড়া হয়েছে। দলীয় কোন্দল ও স্থানীয় নেতাদের ভুল বোঝাবুঝির কারণে জাতীয় সংসদ ও স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে জোটের শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টির নড়াইল জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমানকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়। তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি জয়লাভও করেন। তবে নৌকা প্রতীক নিয়ে জয় লাভ করলেও নড়াইলের উন্নয়নে তিনি কার্যকরী কোনো ভূমিকা রাখতে পারেননি।

সব ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন বলে মনে করেন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের অধিকাংশ নেতাকর্মীসহ এলাকাবাসী। যার ফলে শরিক জোট প্রার্থী অ্যাডভোকেট শেখ হাফিজুর রহমানসহ তার দল আওয়ামী লীগের গলার কাঁটা হিসেবে দেখা দেয়। এ কারণে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল-২ আসনে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব পান বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওয়ানডে দলের সফল অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

রাজনীতিবিদরা মনে করেন নড়াইল আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসনে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্ত সময় উপযোগী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজামউদ্দির খান নিলু বলেন, যেহেতু আওয়ামী একটি বড় দল সেহেতু গ্রুপিং লবিং কোন্দল থাকতেই পারে। তবে এ কোন্দল ব্যক্তিগত, দলীয় স্বার্থে কোনো গ্রুপিং নেই। তবে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে সব নেতাকর্মী এক হয়ে নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, জেলার সব নেতারা একই সঙ্গে সব ধরনের কর্মসূচি পালন করলেও থেমে নেই গ্রুপিং। জাতীয় শোক দিবস ১৫ আগস্ট জেলা ছাত্রলীগ একই সঙ্গে করতে পারেনি। এক গ্রুপ জেলা কার্যালয়ে করলেও অন্য গ্রুপ সংবাদ সম্মেলন করে তাদের অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। যা জেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্দনে হয়েছে বলে অনেকে দাবি করেন।

এদিকে সাবেক জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যান্ড. মোহাম্মদ আলী বলেন, বর্তমান জেলা কমিটিতে একাধিক নেতা আছেন যারা স্থানীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন না। তারা ঢাকায় বসে জেলা পর্যায়ে গ্রুপিংয়ের সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছে। যা দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থি ও দলের জন্য ক্ষতিকর।

বিএনপি হতাশা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়নোর চেষ্টা করছে
এক সময়ের তারুণ্যে ভরা প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পরাজয়ের পর নড়াইলে রাজনীতে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। বর্তমান সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম এর নেতৃত্বে দলটি ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। সাধারণ সম্পাদক দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সর্বত্র যোগাযোগ রেখে চলেছেন। যদিও নড়াইলে অনেকদিন ধরে কেন্দ্রীয় ঘোষিত কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন হয় না। সম্প্রতি দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে স্থানীয় একটি কমনিটি সেন্টারে কেন্দ্রীয় নেতাদের এনে ঘটা করে শাহাদাতবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।

তবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রশাসন বিগত দিনে আমাদের কোনো ধরনের দলীয় কার্যক্রম করতে দেয়নি। প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমারা গণতান্ত্রিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারি। সাধারণ নেতাকর্মীরা জানায়, নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর একাধিক মামলা হওয়ার কারণে নেতাকর্মীরা প্রতি নিয়ত কোর্টে হাজিরা দিতে তাদের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়াও একাধিক মামলা নিয়ে অনেক নেতাকর্মী ফেরারি জীবনযাপন করছে। যে কারণে নেতাকর্মীরা এখন পর্যন্ত দলীয় কর্মকান্ডের চেয়ে মামলাকে গুরুত্ব বেশি দিচ্ছে । জেলা বিএনপির সভাপতি, সম্পাদকসহ নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা থাকার কারণে দীর্ঘদিন জেলা বিএনপি কার্যালয়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বর্তমানে যথারীতি সকাল বিকাল দলীয় কার্যালয় খোলা থাকছে।

গোপনে সক্রিয় জামায়াত
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর হরতাল অবরোধে নড়াইলে প্রধান ভূমিকা পালন করে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ নড়াইল জেলা শাখা। তৎকালীন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক বাচ্চুর নেতৃত্বে এ হরতাল অবরোধ পালিত হয়। এনামুল হক বাচ্চুর মৃত্যুর পর অনেকে মনে করেছেন নড়াইলে জামায়াতের অস্তিত নেই। কিন্তু ২০১৭ সালে ভওয়াখালীতে গোপন মিটিংয়ের সময় জামায়াতের একাধিক মহিলা কর্মীকে গ্রেফতারের মাধ্যমে জামায়াতের অস্তিত ধরা পড়ে। প্রকাশ্যে দেখা না গেলেও বর্তমান নড়াইলে জামায়াতের পুরুষ, মহিলা নেতাকর্মীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন এলাকায় গোপন মিটিংয়ের মাধ্যমে তাদের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে। বিগত স্থানীয় নির্বাচনগুলোতে ভোটের আধিক্য তারই প্রমাণ মেলে।

ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় জাতীয় পাটি
নব্বইয়ে এরশাদের পতনের পর নড়াইলে জাতীয় পার্টি নড়াইলে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি। সেই নাজুক অবস্থা থেকে দলকে টেনে তুলতে রীতিমত সংগ্রাম করে যাচ্ছে বর্তমান জেলা কমিটি। দলকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে সব উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন কমিটি ও ওয়ার্ন্ড কমিটি নতুন করে সাজাতে নড়াইলের স্টেডিয়াম পাড়ায় ও নড়াইল চৌরাস্তায় অফিস নেওয়া হয়েছে। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যু উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলসহ কেন্দ্র ঘোষিত কার্যক্রম পালনসহ স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এ সব কর্মসূচির মধ্য দিয়েই দলটি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখছে।

জাতীয় পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট ফায়েকুজ্জামান ফিরোজ বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে ও দলের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে দলীয় অফিস উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে। আমরা মনে করি বিরোধী দল হিসেবে জাতীয় পার্টি আগের তুলনায় নড়াইলে অনেক বেশি শক্তিশালী।

জাসদে হতাশা
জাতীয় সমাজতান্তিক দল জাসদ ভাগ হয়ে যাওয়ার নেতাকর্মীদের মধ্যে একটা হতাশা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ফলে বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্তিক দল ও জাতীয় সমাজতান্তিক দল উভয়েই ভাগ হয়ে যাওয়া নেতাকর্মীদের নিজ নিজ দলে ভেড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ সমাজতান্তিক দল জাসদ কেন্দীয় কমিটির সভাপতি শরিফ নুরুল আম্বিয়ার বাড়ি নড়াইলে হওয়ার করণে দলটি সুবিধা জনক অবস্থায় রয়েছে। জাসদ দেশের চলমান অনিয়ম, ঘুষ, দুর্নীতি নিয়ে তাদের দলকে বড় করতে মাঠে ময়দানে কাজ করছে

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT