রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ০৬ মে ২০২১, ২৩শে বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৪:০৬ অপরাহ্ণ

আ.লীগের শরিকরা আরও ছোট হচ্ছে

প্রকাশিত : ০৬:০২ AM, ২১ নভেম্বর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ১৮৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

জোটবদ্ধ হয়ে টানা তিনবার ক্ষমতার স্বাদ পেলেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিকরা। নিবন্ধন তো দূরে থাক, নিজস্ব অফিসও করতে পারেনি চারটি দল। নাম সর্বস্ব কাগুজে দলই রয়ে গেছে দলগুলো। বরং ক্ষমতা ভাগাভাগির দৌড়ে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের পর সম্প্রতি ভাঙনের কবলে পড়েছে বেশ কয়েকটি দল।

অর্থাৎ ক্ষমতাসীন জোটের ছোট দলগুলো আরও ছোট হয়ে পড়ছে। নিজেদের ভাগ্য বদলাতে গিয়ে দলের চেহারা তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে একাধিক দল। শরিক ছোট ছোট দলগুলোর ভাঙনে বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়েছে আওয়ামী লীগ।

তথ্য মতে, চলতি মাসেই ক্ষমতাসীন জোটের অন্তত চারটি রাজনৈতিক দল ভেঙে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। যদিও দলগুলোর সাংগঠনিক ভিত শক্ত নয়। গুটিকয়েক নেতাকে ঘিরে পরিচালিত দলগুলো ভেঙে আরও ছোট হয়ে পড়ছে। ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও সুবিধাবাদী প্রবণতার কারণে ছোট ছোট দলগুলো ভেঙে ব্র্যাকেটবন্দি হয়ে পড়ছে। সর্বশেষ ভাঙনের শিকার হয়েছে ওয়ার্কার্স পার্টি, তরিকত ফেডারেশন ও গণতন্ত্রী পার্টি। ভাঙনের কবলে পড়তে যাচ্ছে মাওলানা আব্দুর রশীদ তর্কবাগীশ প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ গণআজাদী লীগ ও সাম্যবাদী দল।

গত শনিবার গণতন্ত্রী পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রেসিডিয়ামের যৌথসভায় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে ডা. শাহদাত হোসেনকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য শরাফাত আলী হীরাকে।

পরে সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক উদ্দিন আহাম্মদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এ ঘটনার একদিন পর সোমবার পাল্টা বৈঠক ডেকে প্রেসিডিয়াম সদস্য শরাফাত আলী হীরা বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন ডা. শাহদাত হোসেন ও তার অনুসারীদের।

জানতে চাইলে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি ব্যারিস্টার আরশ আলী বলেন, ডা. শাহদাত হোসেনকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উনি বহিস্কার নন, আমাদের সাথেই আছেন।

গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদ ডা. শাহদাত হোসেন বলেন, তারা কোনো অফিসিয়াল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়নি। পার্টির অফিসে না বসে পুরনো কাকরাইলের ঠিকানার প্যাড ব্যবহার করে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে এবং মারা গেছেন এমন নেতাদেরও নাম দিয়েছেন। ঢাকায় যারা থাকেন তারা কেউ ছিলেন না বৈঠকে। এটা উপদলীয় চক্রান্ত। যার কারণে দলের সক্রিয় সিনিয়র নেতারা শরাফাত আলী হীরাকে বহিষ্কার করেছে এবং এটা বৈধ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুর-১ আসনের প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব পদ থেকে এম এ আউয়ালকে সরিয়ে দেন দলটির চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারি। এরপর দলটি দুটি বলয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

গত ৯ নভেম্বর রাজধানীর একটি রেস্টুেরেন্ট ১৪ দলীয় আরেক শরিক দল তরিকত ফেডারেশনে ভাঙন ধরে। ওইদিন তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব সাবেক এমপি এম এ আউয়াল তরিকত ফেডারেশন ছেড়ে নতুন দল ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি গঠনের ঘোষণা দেন। এম এ আউয়াল নতুন এই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমএ আউয়াল বলেন, নতুন দল করার বিষয়ে আমি এক বছর ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বড় পরিসরে আত্মপ্রকাশ করবে। বলতে পারেন, এই নামেই আমি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবো।

গত অক্টোবর মাসে একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করে আলোচনায় আসে আরেক শরিক দল ওয়ার্কার্স পার্টি। ওয়ার্কার্স পার্টি চেয়ারম্যান ও ঢাকা-৯ আসনের সাংসদ রাশেদ খান মেননের ওই মন্তব্যে জোটে ও নিজ দলে তোপের মুখে পড়েন তিনি।

এরপর নীতিগত কারণে দলত্যাগ করে ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস নতুন করে ওয়ার্কার্স পার্টি গঠনের ঘোষণা দেন। চলতি মাসের শুরুতে অনুষ্ঠিত ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেস বর্জন করা পার্টির ছয় শীর্ষ নেতা বিমল বিশ্বাসের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নতুন করে ওয়ার্কার্স পার্টির কাউন্সিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এরপর রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে ওয়ার্কার্স পার্টির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম পলিটব্যুরো সদস্য নুরুল হাসান, ইকবাল কবির জাহিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জাকির হোসেন হবি, মোফাজ্জেল হোসেন মঞ্জু, অনিল বিশ্বাস, তুষার কান্তি দাস পার্টির দশম কংগ্রেস বর্জন করেন।

এর আগে ২০১৬ সালে ভাঙনের শিকার হয় জোটের বড় শরিক দল জাসদ। ২০১৬ সালে জাসদ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। একটি অংশের নেতৃত্বে আছেন— সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু ও শিরীন আখতার এমপি। আরেকটি অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, শরীফ নূরুল আম্বিয়া ও নাজমুল হক প্রধান এমপি। বিভক্ত হলেও দুই অংশই আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলে রয়েছেন।

নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়তে যাচ্ছে আরও দুই শরিক দল। বাংলাদেশ গণআজাদী লীগের বর্তমান সভাপতি এস কে সিকদার। তিনি দীর্ঘ ৬ বছর সময় ধরে দলীয় পদ আঁকড়ে রেখেছেন। যার কারণে বাংলাদেশ গণআজাদী লীগের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ সামসুল হক হাসু তর্কবাগীশের নেতৃত্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আনার চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার নেতৃত্বাধীন সাম্যবাদী দলও ভাঙনের মুখে পড়তে যাচ্ছে। নীতিগত কারণ দেখিয়ে কেন্দ্রীয় সদস্য বীরেন সাহার নেতৃত্বে সাম্যবাদী দলের আলাদা বলয় হচ্ছে। অনেকটা একই অবস্থা গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টির। সংগঠনটির বর্তমান সভাপতি জাকির হোসেন।

সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্ব বিকল্পভাবে চাঙ্গা করার চেষ্টা চলছে। বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি অনেক পুরনো দল। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্বের কারণে বিকশিত হয়নি। আমি চেষ্টা করছি- কিভাবে দলটাকে শক্তিশালী করা যায়।

গণআজাদী লীগের প্রধান উপদেষ্টা সৈয়দ সামসুল হক হাসু তর্কবাগীশ বলেন, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। নিজের মধ্যে গণতন্ত্র আগে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, আমরা সে চেষ্টা করছি।

সাম্যবাদী দলের কেন্দ্রীয় সদস্য বীরেন সাহা বলেন, সত্যতা আছে। কারণ দলে সাংগঠনিক সংকট সৃস্টি হয়েছে। দিলীপ বড়ুয়া নিজে একক ব্যক্তিত্ব নিয়ে চলেন, মন্ত্রী ছিলেন, অর্থ-বিত্ত আছে, যার কারণে দলের নেতাদের দৈনতা বা দরিদ্রতার সুযোগে উনি সম্ভব লুটপাট করছেন। আমরা লজ্জা নিবারনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হচ্ছি। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যে দলের কংগ্রেস মধ্যবর্তী প্লেনাম সাংগঠনিক সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে। সেটা না হলে আমরা উদ্যোগি হব।

১৯৯৮ সালে বাম ঘরানার দলগুলো নিয়ে গঠিত হয় ১১ দলীয় জোট। ২০০৪ সালে ন্যাপ (মোজাফ্ফর) ও জাসদকে সঙ্গে নিয়ে ১৪ দলীয় জোট আত্মপ্রকাশ করে। ১১ দলীয় জোটে ছিল— কমিউনিস্ট পার্টি অব বাংলাদেশ (সিপিবি), গণফোরাম (ড. কামাল), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মেনন), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (খালেকুজ্জামান), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মাহবুব), গণআজাদী লীগ, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দল, কমিউনিস্ট কেন্দ্র ও গণতান্ত্রিক মজদুর পার্টি।

ওই ১১ দলীয় জোটের মধ্যে বর্তমানে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছে সাতদল। আর্দশগত দ্বন্দ্ব, নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ থাকায় বাকিরা বের হয়ে গেছে অনেক আগেই। এরপর জোটে যুক্ত হয়েছে- বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (বিটিএফ), জাতীয় পার্টি (মঞ্জু)। বর্তমানে আওয়ামী লীগ জোটভুক্ত দলের সংখ্যা ১২। এরপরও জোটটি ১৪ দলীয় জোট হিসেবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT