রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২৬ জুলাই ২০২১, ১১ই শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নিকারে মধ্যনগর থানা উপজেলায় উন্নীত হতে পারে , এমপি রতনের ফেইসবুক স্ট্যাটাস ◈ সাহিত্য সকাল : ২৫ জুলাই ২০২১ ◈ সি‌দ্ধিরগ‌ঞ্জে শীতলক্ষ্যা পাড়ে প্রশাস‌নের অভিযান ◈ মোহনগঞ্জে ডাঃ আখলাকুল হোসাইন আহমেদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উদ্বোধন ◈ গোপালপুরে প্রধানমন্ত্রীর মানবিক খাদ্য সহায়তা বিতরণ ◈ ছাতকে লকডাউন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পুলিশ, সেনা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে ◈ বগুড়ায় কাভার্ড ভ্যান চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত ◈ বগুড়া শেরপুরে ফেন্সিডিলসহ গ্রেপ্তার ১ ◈ পোরশায় পরকীয়ায় জড়িয়ে স্ত্রী শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করলেন স্বামীকে ◈ পোরশা মিনা বাজারে কোভিড(১৯) ভ্যাকসিন ফ্রী নিবন্ধন বুথ উদ্বোধন করলেন উপজেলা চেয়ারম্যান

আ.লীগের তৃণমূলের সম্মেলনে অনিশ্চয়তা

প্রকাশিত : ০৭:৩৫ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার ১৬৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পতাকাবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদকাল প্রায় শেষের দিকে। অথচ দলটির ৭৩টি সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের এক তৃতীয়াংশের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। গত তিন বছরে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের মাত্র একটি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন করা গেছে। জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে সব সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের সম্মেলন করার নির্দেশনা দিয়েছেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা। বাকি আছে আড়াই মাসেরও কম সময়। এর মধ্যে অনেক জেলার সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। তাছাড়া সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে অনেকে আত্মগোপনে। সুতরাং এই সংক্ষিপ্ত সময়ে জেলা সম্মেলন করা যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে খোদ কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে।

বর্তমানে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক জেলা ইউনিটের অনেক কমিটি পার করেছে অন্তত ১০ বছর। এর মধ্যে কয়েকবার কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে আশ্বাস পেলেও নির্ধারিত সময়ে নতুন কমিটি পাননি বহু জেলা ইউনিট। এ বছর আর কোনো অজুহাত শুনতে চান না দলটির সভাপতি। তার সাফ কথা যেকোনো মূল্যে তৃণমূলের কমিটি করতে হবে। সম্মেলন হয়নি অনেক উপজেলা ইউনিটেরও।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানায়, দলের কেন্দ্রীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ তৃণমূলে সম্মেলন আয়োজনের দায়িত্বে থাকে। কিন্তু সরকারের দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানে অনেক নেতা প্রকাশ্যে আসছেন না। তাই নতুন জেলা কমিটি গঠনের নির্দেশনা থাকলেও সময়মতো বাস্তবায়ন করা রীতিমতো কঠিন। অনেকেই মনে করছেন, অধিকাংশ জেলায় নতুন সম্মেলন করা সম্ভব হবে না। কিন্তু দলের সভাপতির নির্দেশনায় চাপে রয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা।

তবে সঠিক সময়ে জেলা পর্যায়ে সম্মেলন দেয়ার ব্যাপারে আশাবাদী আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা পর্যায়ে সম্মেলন দিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী) শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই এ বিষয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করব। দলের সভাপতির চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা নিয়ে আমরা জেলা পর্যায়ের সম্মেলনের কাজ এগিয়ে নেব। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। আশা করি সঠিক সময়ের মধ্যে সম্মেলন হয়ে যাবে।

দলীয় সূত্র জানায়, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগে যাতে কোনো দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী জায়গা করে নিতে না পারে, এ কারণেই শুদ্ধি অভিযানের নির্দেশনা। দলের সভাপতি শেখ হাসিনার ইচ্ছা আওয়ামী লীগে স্থান পাবে কেবল দেশপ্রেমিক ও নিবেদিত কর্মীরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এরই মধ্যে আওয়ামী লীগে ঘাপটি মেরে থাকে অসৎ লোকের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। সূত্রে জানা যায়, ওই তালিকায় সাবেক-বর্তমান এমপি মন্ত্রীরাও রয়েছেন। কিন্তু ঠিক কারা কারা রয়েছেন ওই তালিকায় সেটা এখনো কেউ জানে না। তাই গ্রেফতার আতঙ্কে অনেক নেতাই যোগাযোগ বন্ধ রেখেছেন।

সম্মেলনের দায়িত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, একটি জেলা সম্মেলন করতে হলে আগে রুট লেভেলের সম্মেলন করতে হয়। কিন্তু অনেক জেলা শাখা সেগুলো করেনি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পরও অনেকে গাফিলতি করছে। এখন তো আবার অনেককে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নির্দেশনা বাস্তবায়ন করাও গুরুত্বপূর্ণ। জেলাগুলো চাপ দিচ্ছি। সব ইউনিটে সম্মেলন করা সম্ভব না হলেও বেশির ভাগ জেলায় করা সম্ভব হবে বলে আশা করি।

সময়মতো সম্মেলন করা কঠিন হলেও অনেক নেতা আবার আশাবাদী। বেশ কয়েকজন তৃণমূল ও কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলের প্রধান নীতিনির্ধারকের কথা কে কতটা মূল্য দেন সেটা পরীক্ষা করার সময় এখন। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে সম্মেলন করা নেতৃত্বের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগও মনে করেন অনেকে।

দলটির শীর্ষ নেতারা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ মহানগর, জেলা-উপজেলা ও ইউনিয়ন সম্মেলনগুলো যতটা সম্ভব সম্পন্ন করতে বেশ কয়েকটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে দলের বিভাগীয় দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা কয়েক দফায় বৈঠক করেছেন। তৈরি করেছেন খসড়া পরিকল্পনা। অক্টোবরের মধ্যেই ইউনিয়ন, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা আর ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা ও মহানগরের সম্মেলন করতে চান দায়িত্বপ্রাপ্তরা।

সার্বিক বিষয়ে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, শুদ্ধি অভিযান সম্মেলনে কোনো প্রভাব পড়বে না। এটা করা হচ্ছে অসাধুদের চিহ্নিত করতে। তাই যারা এই তালিকায় রয়েছে তাদের বাদ দিয়েই সম্মেলন করা হবে। এতে তাদের আত্মগোপনে থাকা বা প্রকাশ্যে থাকা একই। আমাদের মূল লক্ষ্য নির্দিষ্ট সময়ের আগে সম্মেলন করা। এ লক্ষ্যে কাজ চলছে। শুদ্ধি অভিযান সম্মেলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT