রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:২৯ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ পত্নীতলায় পউস ব্লাড এইড এর উদ্যোগে ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ◈ রাজশাহীর পবা উপজেলা পরিষদে মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ◈ ইয়াবাসহ দুই মাদক বিক্রেতা গ্রেফতার করেছে পুলিশ ◈ তাড়াইলে কৃষি বিষয়ক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত ◈ কুড়িগ্রামে আমন ধানের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা ◈ তৃতীয় বারের মতো কিশোরগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ পুলিশ পরিদর্শক নির্বাচিত নাহিদ হাসান সুমন ◈ হোসেনপুরে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতন করে হত্যা ◈ আমতলীতে মাদকসেবীদের আতঙ্কের নাম এস.আই সোহেল রানা ◈ ময়মনসিংহ ত্রিশাল কালীর বাজার স্পোটিং ক্লাবের উদ্যোগে ফুটবল খেলা আয়োজন ◈ ধামইরহাটে রাসায়নিক স্প্রে করে কৃষকের ধান পুড়িয়ে দিল দূর্বৃত্তরা

আলোচনায় আওয়ামী লীগের যেসব নেতা

প্রকাশিত : ০৬:১৩ AM, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Thursday ২২৫ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দুর্নীতি ও দুর্নীতিতে সহায়তার কারণে শুধু ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতারাই নয়, আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন নেতাও আলোচনায় এসেছেন। সরকার ও আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ওই নেতাদের দুর্নীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদের একটি তালিকা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করতেও অভিযান আসছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, দুর্নীতিসহ নানা অপকর্মে আওয়ামী লীগের যার জড়িত তাদের একটি তালিকা গত নির্বাচনের আগেই তৈরি করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনের সময় ব্যবস্থা নেয়া না হলেও এবার তা শুরু হয়েছে। চলতি বছরের ২৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সভায় এ বিষয়ে আলোচনা এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। পরে গত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এছাড়া শূন্য থেকে কোটিপতি হওয়া সারা দেশের উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধেও সাঁড়াশি অভিযান আসছে বলে আওয়ামী লীগের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই অভিযান শুধু ঢাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। সুনামগঞ্জ থেকে সুন্দরবন, কুতুবদিয়া থেকে তেঁতুলিয়া- সারাবাংলায় যেখানে যত দুর্নীতিবাজ ও মাদকবাজ আছে, সেখানে অভিযান চলবে। মাদক, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি যারাই করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে চুনোপুঁটি হোক আর রাঘববোয়ালই হোক।

তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগের অনেক অনুপ্রবেশকারী দলে ঢুকেছে, আবার অনেকের নৈতিক স্খলন ঘটেছে। সেই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রকে পরিশুদ্ধ করার লক্ষে সাঁড়াশি অভিযান চলাচ্ছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে চান। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে দুর্নীতি রোধ করা আমরা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছি। তাই যারা অনিয়ম-দুর্নীতি করছে বা অবৈধভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছে অথবা অপরাধ করার চেষ্টা করছে, তাদের দমন করা হবে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কার্যক্রম মনিটর করছেন। এর আগে তিনি উচ্চপর্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করে এবং সরকারি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন দেখে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে দুদক, এনবিআরসহ সরকারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে তালিকা পাঠানো হয়। সেই অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নজরেও আনা হয়।

জানা গেছে, বিভিন্ন অপরাধ এবং অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে যুক্ত ২৭ জন এমপিকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সংসদ সদস্য হয়েও এরা সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িত বলে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেছে। প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব টিম দিয়ে এই অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখছেন। ধারণা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী ফিরে আসার পর এমপিদের বিরুদ্ধেও এই ক্রাশ প্রোগ্রাম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ২৭ জন এমপির মধ্যে ঢাকার অন্তত তিন জন। এদের একজনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শ্মশানঘাটের জমি দখল করার অভিযোগ রয়েছে। আরেক এমপির বিরুদ্ধে রয়েছে টেন্ডারবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের লালন-পালনের অভিযোগ। মতিঝিল এলাকায় যেমন যুবলীগের ক্যাসিনোর বিষয়ে ১৪ দলের এক শীর্ষ নেতার সম্মতি ছিল, ঠিক তেমনি ঢাকার বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এমপিদের যোগসাজশ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জের একজন প্রভাবশালী এমপি যার সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তাকেও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ঢাকা, ঝিনাইদহ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, যশোর, রাজশাহী, রংপুরসহ অন্তত ১৭টি জেলার ২৭ এমপির বিরুদ্ধে এ ধরনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের যেসব সংসদ সদস্য ও নেতা আলোচনায় :
ক্যাসিনো কেলেঙ্কারিতে আলোচনায় এসেছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদের নাম। ক্যাসিনো চালানো ক্লাবের চেয়ারম্যানের কক্ষে মুরাদের ছবি থাকায় আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। এর আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের থানা পর্যায়ের কমিটি গঠনের সময় পদ বাণিজ্য করার অভিযোগ আসে তার বিরুদ্ধে। এ ছাড়া মন্ত্রী থাকার সময়ে গম কেলেঙ্কারিসহ অবৈধভাবে শ্মশানঘাটের জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে সাবেক খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামের নামে। রাজধানীর ফকিরেরপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের চেয়ারম্যান ও ঢাকার সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেননের নামও আলোচনায় এসেছে। ক্যাসিনো ও ক্লাব নিয়ে মন্তব্য করে গণমাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী।

নতুন করে তালিকায় যুক্ত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এমপি, ভোলার নুরুন্নবী শাওন এমপি, রাজশাহীর এনামুল হক এমপি, রাজশাহীর সাবেক প্রতিমন্ত্রী ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি, টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি আমানুর রহমান আমান, নাটোরের সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ এবং শফিকুল ইসলাম শিমুলসহ আরো অনেকেই। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। ভোলা-৩ আসনের এমপি নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছে এনবিআর। একইসঙ্গে এমপি শাওনের স্ত্রী ফারজানা চৌধুরীর ব্যাংক হিসাবও জব্দের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান খানের বিরুদ্ধে এ সরকারের আমলেই দুর্নীতির মামলা করেছে দুদক। সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধেও দুদক দুর্নীতির মামলা করেছে। কক্সবাজারের বহুল আলোচিত সরকারদলীয় সাবেক এমপি আবদুর রহমান বদি দুদকের মামলায় দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। এরপর তিনি দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হন। শেরপুরের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এবং নরসিংদীর সাবেক এমপি কামরুল আশরাফ খানের দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করেছে দুদক। প্রতিষ্ঠানটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক এমপি আবদুল ওদুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত করছে।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রধানমন্ত্রীর একটি নিজস্ব টিম এই কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছে। সংগঠনের নামে কেউ সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি করলে বা সন্ত্রাসীকে লালন করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাউন্সিলের আগে দলের একটি ক্লিন ইমেজ আওয়ামী লীগ সভাপতি তৈরি করতে চান। এই ক্লিন ইমেজের অংশ হিসেবেই তিনি এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে যুবলীগের কথিত নেতা জি কে শামীম ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের পর আলোচনায় এসেছেন সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতার নাম। এদের মধ্যে রয়েছেন যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট, এমপি শাওনের সঙ্গে তার ব্যাংক হিসাবও জব্দ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ক্যাসিনো বাণিজ্যে যুক্ত যুবলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক আরমান, যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দফতর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আনিস, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টুর নামেও অভিযোগ এসেছে। যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদের বিরুদ্ধে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে যুবলীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাঈনুল হাসান চৌধুরী নিখিলের বিরুদ্ধেও।

জানা গেছে, যুবলীগ নেতা মহিউদ্দিন মহি ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি। এর আগে একটি ক্লাবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া জমিতে ভবন নির্মাণের জন্য এক প্রতিষ্ঠানের কাছে জায়গা দিয়ে ৭০ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, আর কে মিশন রোডের ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাবে মহিউদ্দিন মহির নেতৃত্বে জুয়া ও ক্যাসিনো চলে। মহির বিরুদ্ধে গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ভবন, শিক্ষা ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণেরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। যুবলীগের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক কাজী আসিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানান খোদ যুবলীগের নেতা সর্দার মো. আলী মিন্টু। তার বিরুদ্ধে যুবলীগ অফিসের অফিস সহকারী থেকে দফতর সম্পাদক হওয়ার পর বাড়ি-গাড়ি, পেট্রোল পাম্পসহ সম্পদ পাহাড় গড়ার অভিযোগ করেন মিন্টু। এর পর থেকে যুবলীগ দফতর সম্পাদকদের আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক কাজী আনিসুর রহমান আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার পরিবারও তার খবর জানেন না। মোবাইল ফোন বন্ধ। তবে মঙ্গলবার তার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। ‘ভ্যাকসিন হিরো’ সম্মাননা পাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

গাজী সরোয়ার বাবু যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক এবং হাসপাতালের ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান। বাবুর নেতৃত্বে এই হাসপাতালে রোগীদের জিম্মি করে পকেট কাটা হয়। হাসপাতালে রোগীদের কাছ থেকে একটি ডিম ১৪০ টাকা ও কলা ১৭০ টাকা নেয়া হয়। গত চার বছর ধরে তিনি রোগীদের জিম্মি করে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। সদরঘাটের গ্রেটওয়াল মার্কেটের সভাপতিও এই বাবু। এই মার্কেটের দখল নিয়ে বিএনপির আমলে সংঘর্ষে একজন মারা যান। অভিযোগ রয়েছে, ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে ৪০টি দোকান দখল করে নিয়েছেন বাবু। ওই দোকানগুলো দখল নিয়ে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন ভবনের ঠিকাদারি তার নিয়ন্ত্রণে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহ-সভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টুকেও খুঁজছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। সরকারের বিভিন্ন সংস্থার লোকজন এরইমধ্যে তার বিত্ত-বৈভবের অনুসন্ধান শুরু করেছে। তার বিরুদ্ধে রয়েছে সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ।
(বাঁ থেকে) মোল্লা মো. আবু কাওছার, আরিফুর রহমান টিটু ও দেবাশীষ বিশ্বাস

ক্যাসিনো ব্যবসায় জড়িত থাকার কারণে স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার রয়েছেন আলোচনায়। অভিযান চলা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের সভাপতি কাওছার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ক্লাবটি থেকে ক্যাসিনোর সামগ্রী, বিপুল পরিমাণ টাকা ও অন্যান্য উপকরণ এরইমধ্যে উদ্ধার করেছে। এছাড়া বৈধ দখল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের ঢাকা মহানগরীর দুই শীর্ষ নেতাও আলোচনায় রয়েছেন। তারা হলেন- দক্ষিণের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান টিটু। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধেও নেতাকর্মীদের নানা অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, মহানগরের প্রত্যেকটি থানায় কমিটি দেয়ার নামে কোটি টাকার ওপরে টাকা নিয়েছেন মেহেদী। কিন্তু দীর্ঘদিনেও কমিটি দেয়ার কোনো নাম নেই। এছাড়া ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগর পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান বেশ কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT