রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ১৯ মে ২০২১, ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৩:২৪ পূর্বাহ্ণ

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে আমানত কমেছে

প্রকাশিত : ০৪:২৯ AM, ২৫ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ১৯৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

পিপলস লিজিংয়ের অবসায়নের সিদ্ধান্ত এবং আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দুর্বল পরিস্থিতির প্রভাবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) খাতে গত মার্চের তুলনায় জুন প্রান্তিকে আমানত কমেছে। গত মার্চ শেষে এ খাতে আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৬ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা। জুনে কমে দাঁড়িয়েছে ৪৩ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। ‘এনবিএফআই পরিসংখ্যান’ নামে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এই খাতে স্বল্পমেয়াদি আমানতই বেশি, যা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে হচ্ছে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত দীর্ঘমেয়াদে লিজ অর্থায়ন করে থাকে। কম সময়ের জন্য আমানত নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য ঋণ দেওয়ার কারণে দায়-সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সংকট বেড়েছে বলে মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের বড় অংশই ব্যাংক, বীমাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া। এ খাতের আমানতের ৮৬ শতাংশই তিন মাস থেকে ২ বছর পর্যন্ত মেয়াদের। আর ঋণের বড় অংশ পাঁচ বছরের বেশি সময়ের জন্য বিতরণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খারাপ অবস্থার কারণে মেয়াদি আমানত নবায়নের প্রবণতাও কমে গেছে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আমানতের ২১ দশমিক ৬৭ শতাংশ ৬ মাসের কম মেয়াদি। ৬ মাস থেকে এক বছরের কম মেয়াদি আমানত রয়েছে ২৩ দশমিক ১৬ শতাংশ। আর এক বছর থেকে ২ বছর মেয়াদি আমানত ৪০ দশমিক ৬২ শতাংশ। দুই থেকে ৩ বছর মেয়াদি আমানত রয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া মাসিক সুবিধা, ডাবল বা ট্রিপল বেনিফিট স্কিমে রয়েছে ৮ দশমিক ১২ শতাংশ আমানত। পেনশন, বিশেষসহ অন্যান্য স্কিমে রয়েছে বাকি আমানত। আমানত পরিস্থিতি এ রকম হলেও ঋণ বা লিজের বড় অংশই রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মোট ঋণের ৩৯ দশমিক ৬২ শতাংশ দেওয়া হয়েছে জমি, ভবন বা ফ্ল্যাট খাতে। যার বেশিরভাগের মেয়াদ ৫ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত। এ ছাড়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি, যন্ত্রপাতি, শেয়ার ও সিকিউরিটিসহ বিভিন্ন মেয়াদি ঋণ দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ভালো অবস্থানে থাকা ডেল্টা ব্র্যাক হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কিউএম শরিফুল আলা সমকালকে বলেন, স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা সবার জন্যই সমস্যার। বন্ড মার্কেট উন্নত হলে আর এ সমস্যা থাকত না। তিনি জানান, সাধারণত ৮০ শতাংশ আমানত নবায়ন হয়। ব্যাংকের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। তবে যখন কোনো প্রতিষ্ঠানের অবস্থা খারাপ অবস্থায় পড়ে তখন আমানত তুলে নেওয়ায় সংকট দেখা দেয়।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, তিন মাসের ব্যবধানে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর আমানত এক হাজার ২৮৬ কোটি টাকা কমে ৮ হাজার ৪৭৮ কোটি টাকায় নেমেছে। তবে সরকারি ব্যাংকের আমানত ২ হাজার ৬১ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২২২ কোটি টাকা হয়েছে। বীমা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পেনশন তহবিলের পরিমাণ চার হাজার ৩৬২ কোটি টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ কোটি টাকায় নেমেছে।

ব্যাংকগুলো চলতিসহ যে কোনো মেয়াদের আমানত নিতে পারলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তিন মাসের কম মেয়াদে কোনো আমানত নিতে পারে না। এমনিতেই ব্যাংকের তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠান তেমন আমানত পায় না। এর মধ্যে আবার আমানতকারীর অর্থ ফেরত দিতে না পারায় পিপলস লিজিং অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পিপলস লিজিং ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সংকটের চিত্র সাম্প্রতিক সময়ে সামনে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে আমানত পেতে বেশি সমস্যায় পড়েছে এসব প্রতিষ্ঠান।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, ব্যাংকগুলো বেশি মুনাফার জন্য একটি সময় এসব প্রতিষ্ঠানে নানাভাবে অনেক টাকা খাটিয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান টাকা ফেরত দিতে না পারায় এখন অনেক ব্যাংক আমানত রাখতে চাইছে না। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবির মুখে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোকে এ পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT