রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০, ২০শে আষাঢ়, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১২:৪১ অপরাহ্ণ

শিরোনাম
◈ মেধাবীদের আরো একবার সংবর্ধিত করলো গোপালপুর উচ্চ বিদ্যালয় এ্যালামনাই ◈ নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে মহিলার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার ◈ রাজশাহীতে সাংবাদিকের সঙ্গে পুলিশ কনস্টেবলের মারমুখী আচরণ ◈ ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন করোনায় আক্রান্ত সবার কাছে দোয়া কামনা ◈ ১৪ দিনের জন্য লকডাউন চবি ক্যাম্পাস ◈ গঙ্গাচড়ার তিস্তায় নৌকাডুবি অল্পের জন্য বেঁচে গেল কয়েকটি প্রাণ ◈ মোংলা অনলাইন প্রেস ক্লাবের যাত্রা শুরু ইয়াছিন সভাপতি, আজিজ সম্পাদক ◈ মেহেরপুর শহরে নতুন আরো ৭ জন করোনায় আক্রান্ত ◈ সুন্দরবনকে দস্যু মুক্ত করতে বাগেরহাট জেলা পুলিশের অভিযান শুরু ◈ সিরাজগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি

আমার দৃষ্টিতে একজন সফল রাষ্ট্রদূত

প্রকাশিত : ০৭:২৭ PM, ২০ ফেব্রুয়ারী ২০২০ Thursday ৪৪১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

লেবাননে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার

জসিম উদ্দীন সরকার: সময়টা প্রায় সাড়ে চার বছর আগের। লেবাননের বাংলাদেশ দূতাবাসে যোগ দেন রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার। দূতাবাসে আসার তিনমাস পর আমি ও আমার সহকর্মী তৎকালীন এশিয়ান টিভির লেবানন প্রতিনিধি মনির হোসেন সরকার রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাৎ করি। আমি তখন একুশে টিভির লেবানন প্রতিনিধি ছিলাম। সেদিন প্রায় দেড় ঘন্টা কথোপকথন থেকে প্রবাসীদের প্রতি তার অগাধ ভালবাসার একটা ধারণা পেয়েছিলাম। ভেবেছিলাম হয়ত কথার কথা বলেছেন। অনেকেই শুরুতে এরকম বলে থাকেন। কিন্তু দেখা গেল তিনি অন্যদের চেয়ে একেবারেই আলাদা একজন মানুষ। দূতাবাসে যোগদানের পর প্রথম বছরটি তিনি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছিলেন। দূতাবাসে প্রবাসীদের সঠিক সেবা দেয়া ও দুর্নীতি মুক্ত দূতাবাস করাই যেন তার ব্রত ছিল।

তখন সময়টা এমন যে দূতাবাসের প্রতি সাধারণ প্রবাসীদের কোন আস্থা ছিলনা। দূতাবাস কর্মকর্তাদের কাজে ও ব্যবহারে আপত্তি ও অভিযোগ ছিল প্রায় ৯০ ভাগ প্রবাসীর। রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার দায়িত্ব নেয়ার প্রথম বছরেই দূতাবাসের প্রতি প্রবাসীদের আস্থা ফিরতে শুরু করে। তিনি শক্তহাতে হাল ধরে প্রবাসীদের সেবা শতভাগ নিশ্চিত করেন ও দূর্নীতি মুক্ত দূতাবাস প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা গ্রহন করলে কয়েকজন স্থানীয়ভিত্তিক কর্মকর্তা চাকরি ছেড়ে চলে যায়।

প্রবাসীদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে তিনি চালু করেন দূতাবাসের হটলাইন নাম্বার, যেখানে প্রবাসীরা তাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জানাতে ২৪ ঘন্টা যোগাযোগ করতে পারেন। কারো ব্যবহার খারাপ মনে হলে দূতাবাস বরাবর অভিযোগ করার জন্য অভিযোগ বাক্স সুবিধা চালু করেন তিনি। আগে একটি মৃতদেহ দেশে যেতে সেখানে মাসের পর মাস এমনকি বছর লেগে যেত সেখানে এখন মাত্র ১-২ সপ্তাহের মধ্যে একটি লাশ বিনা খরচ দেশে তাঁর গ্রামের বাড়ি পৌঁছে যায়।

দূতাবাসে প্রবাসীদের আরেক হয়রানীর নাম ছিল দালাল, রাষ্ট্রদূত দালাল মুক্ত দূতাবাস গড়ে তুলেন। অবশ্য এ জন্য তাকে সইতে হয়েছে নানান তিরষ্কার ও অপবাদ। লেবাননে দালালদের উৎপাতে অতিষ্ট হয়ে পরেছিল প্রবাসীরা। দূতাবাসে হাজারো অভিযোগ জমা পরে দালালের বিরুদ্ধে। সাধারণ প্রবাসীরা কোন কাজে দূতাবাসে আসতে হলে দালালের মাধ্যমে আসতে হত। কিন্তু রাষ্ট্রদূত জনাব সরকার সব সময় আহবান করতেন যার কাজ তাকেই দুতাবাসে আসতে। তাছাড়া যারা দালাল ছাড়া সেবা নিতে আসতেন দূতাবাস তাদেরকে অগ্রাধিকার দিতে শুরু করে। ফলে এক সময় ধীরে ধীরে নিঃষ্ক্রিয় হয়ে পরে দালাল গোষ্ঠি।

প্রবাসীদের চিকিৎসা সেবাতেও বিশাল ভূমিকা পালন করেন এই রাষ্ট্রদূত মিঃ সরকার। তিনি লেবাননে বিভিন্ন এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে ধারাবাহিক ভাবে মত বিনিময় সভা করেন। উক্ত মতবিনিময় সভাগুলো থেকে তিনি জানতে পারেন ভাষাগত সমস্যার কারণে প্রবাসীরা ডাক্তারের কাছে রোগের কথা বলতে পারেন না। এছাড়া লেবাননে চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল হওয়ায় অর্থের অভাবে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারেন না প্রবাসীদের অনেকে। তাই তাদের দিকে তাকিয়ে নিয়মিতভাবে জাতি সংঘের অধীনে লেবাননের জলসীমানায় অবস্থিত বাংলাদেশ নৌবাহীনির সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও ঔষধ প্রদানের ব্যবস্থা করেন তিনি।

এছাড়া দূতাবাসের তত্বাবধানে ও রাষ্ট্রদূত মিঃ সরকারের একান্ত হস্তক্ষেপে লেবাননের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়েছেন ২০০ এরও অধিক প্রবাসীকে। বিনামূল্যে করিয়েছেন অনেক বড় বড় অস্ত্রপচারও। তিনি আসার আগে লেবাননের কোন হাসপাতালে বাংলাদেশীদের এমনকি ঢুকতেও দেয়া হত না বিল পরিশোধ করতে পারবে না বলে।

লেবাননে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তাঁর সকল চিন্তা ভাবনা জুড়ে ছিল প্রবাসীদের কল্যাণ। জেল জরিমানা ছাড়া দেশে পাঠিয়েছেন অসংখ্য কাগজপত্র বিহীন অবৈধ প্রবাসীদের। অবৈধ প্রবাসীদের বৈধ করনের দাবি নিয়ে তিনি লেবাননে বিভিন্ন মন্ত্রনালয়ের ঘুরেছেন। গত অক্টোবরে তিনি ঘোষণাও দিয়েছিলেন এ বিষয়ে। জানা গেছে আইনটি ইতোমধ্যে অনুমোদিত হলেও লেবাননের বর্তমান অর্থনৈতিক দূরবস্থার কারণে এর বাস্তবায়ন সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত সরকার কাজ করেছেন বাংলাদেশকে লেবানিজদের কাছে তুলে ধরতেও। তিনি লেবাননে অবসর সময় চষে ফিরেছেন লেবাননের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। যেখানে লেবানিজরা বাংলাদেশকে পরিচ্ছন্নকর্মী ও গৃহকর্মী সাপ্লাই দেয়া দেশ ভাবতেন, সেখানে তিনি বাংলাদেশকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে। তার একান্ত প্ররিশ্রমের ফলে আজ লেবাননের ব্যবসায়িরা বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করছে বাংলাদেশে। লেবাননে গঠিত হয়েছে লেবানন-বাংলাদেশ বিজনেজ কাউন্সিল ও লেবানন – বাংলাদেশ পার্লামেন্টারী ফ্রেন্ডশীপ গ্রুপ।

রাষ্ট্রদূত আব্দুল মোতালেব সরকার লেবাননের দায়িত্ব সফলভাবে শেষ করে দেশে ফিরে যাচ্ছেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের ভালবাসায় সিক্ত তিনি। হাজারো প্রবাসী অশ্রুঝড়া নয়নে বিদায়ী সংবর্ধনা দিয়েছেন তাঁকে। তাঁদের সকলের কথায় ঝরে পরেছে স্বজন হারানোর বেদনা, একমাত্র অভিভাবক হারানোর বেদনা। প্রবাসীদের এত ভালবাসা কয়জন রাষ্ট্রদূতের ভাগ্যেই বা জোটে? তাই নির্ধিদায় বলা যায় স্বার্থক জনম তাঁর।

প্রবাসীদের সমস্যাকে জনাব সরকার নিজের সমস্যা মনে করে কাজ করতেন। একদিন একান্ত আলাপে রাষ্ট্রদূত জানান, তিনি লেবাননে এসে প্রবাসীদের সমস্যা দেখে অনেক ব্যথিত হয়েছিলেন। প্রবাসীদের কষ্ট দেখলে তাঁর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয় বলে জানান তিনি। তিনি আরো ভাবতেন যে ওই সাধারণ প্রবাসীদের একজন যদি তিনি নিজে হতেন তাহলে কি করতেন। সেই ভাবনা থেকে তিনি প্রবাসীদের সকল সমস্যা সমাধানে কাজ করেছেন।

সত্যিই আমি জীবনে এমন কর্মঠ, প্রবাসবান্ধব রাষ্ট্রদূত দেখিনি। তাই আমার চোখে তিনি একজন সফল রাষ্ট্রদূত। লেবানন প্রবাসীদের মনের মনি কোঠায় অনন্তকাল বেঁচে থাকবেন তিনি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT