রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২১ জানুয়ারি ২০২১, ৮ই মাঘ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৮:১৪ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ ফাঁড়ি পুলিশের উদ্যোগে বিট পুলিশিং সভা ◈ ভালুকা পৌর নির্বাচন: প্রচারণায় ব্যস্ত মমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল হাসান ◈ রাজশাহীর পবার মাঝিগ্ৰামে তথ্য আপাদের উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ◈ কিশোরগঞ্জে তামাকের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী ◈ শ্রীনগরে হাঁসাড়ায় শীতবস্ত্র বিতরণ ◈ গাজীপুর মহানগর অসহায় ও হতদরিদ্রদের মাঝে কম্বল ও মাক্স বিতরণ ◈ ময়মনসিংহ রেঞ্জে বিট পুলিশিং সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর উদ্বোধন এবং অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত ◈ নারী ফুটবল লীগে নিজ পরিচয়ে খেলতে চায় রংপুরের সদ্যপুষ্করিনী যুব স্পোটিং ক্লাব ◈ মহেশপুরে মাদক, বাল্যবিবাহ এবং আত্নহত্যা প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্টিত ◈ দশমিনায় গাঁজাসহ গ্রেফতার ১

আবরার ফাহাদ নাম স্মরণ করে রাখার জন্যই এই চরিত্র সৃষ্টি : মালিহা তাবাসসুম

প্রকাশিত : ০৮:৪৮ AM, ২৭ ডিসেম্বর ২০২০ রবিবার ১৪৩ বার পঠিত

তানজিদ শুভ্র, হেড অব সাহিত্য বিভাগ:
alokitosakal

শহীদ সোহওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ পড়ুয়া মালিহা তাবাসসুম বাংলাদেশ বেতারের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। লেখালেখি করেন ছোটবেলা থেকে। আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন থেকেই তার লেখা প্রকাশিত হয় জাতীয় দৈনিকে। লেখালেখির ধারাবাহিকতায় ২০১৯ বইমেলায় প্রকাশ হয় প্রথম বই ‘বৃত্তবন্দি’ এবং ২০২০ বইমেলায় আসে দ্বিতীয় উপন্যাস ‘জিগোলা’। একুশের অমর একুশে বইমেলায় আসবে মালিহা তাবাসসুম এর তৃতীয় উপন্যাস ‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’। আদনান আহমেদ রিজনের প্রচ্ছদে বইটি প্রকাশিত হবে অন্বেষা প্রকাশন থেকে। ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এই লেখিকা। নতুন বই নিয়ে তার সাথে কথা বলেছেন তানজিদ শুভ্র….


আগামী বইমেলায় আপনার তৃতীয় বই “ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স” আসছে। বইটি সম্পর্কে বলতে গেলে শুরুতে আগ্রহ হয় এই প্রচ্ছদ নিয়ে। উপন্যাসের কতটুকু ফুটে উঠেছে প্রচ্ছদে?

একটা প্রচ্ছদে শতভাগ ফুটে উঠে না। প্রথম একটা প্রচ্ছদ করা হয়েছিল তাতে আমার রঙ বিন্যাস ভালো লাগে নি। পরবর্তীতে চূড়ান্ত করা প্রচ্ছদে উপন্যাসের ৮০ শতাংশ ফুটে উঠেছে বলে মনে করি। সোশ্যাল বুলিং এর শিকার মেয়ে চরিত্র দেখা যায় প্রচ্ছদে। উপন্যাসে বিষক্রিয়ায় সিরিঞ্জের ব্যবহার করা হয়েছে। সে বিষয়টি নির্দেশ করতে প্রচ্ছদে সিরিঞ্জের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। যেহেতু সিরিয়াল কিলিং এর ঘটনা আছে তাই লাল রক্তের প্রকাশ পেয়েছে একটা বড় অংশে।

সুন্দর নাম একটা বিষয়বস্তুর অন্যতম সৌন্দর্য।  আপনার এই বইটি নামকরণে কোন বিষয়টির প্রাধান্য দিয়েছেন?

এই বইটা নামকরণে আমি অন্যতম প্রধান চরিত্রকে প্রাধান্য দিয়েছি। আমরা সবাই জানি নায়িকা সবসময় প্রথাগত সুন্দরী, সুতন্বী, লম্বা, ফর্সা হয়। আমার উপন্যাসের প্রধান চরিত্রকে সোশ্যাল বুলিং এর শিকার হওয়া কালো, মোটা প্রথাগত অসুন্দরীকে চিত্রায়ন করেছি। মানুষের মাঝে যে প্রথাগত সৌন্দর্য্যের বিভেদ রেখা একটা মানুষকে হতাশ করে, হীনমন্যতায় ভোগে, ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স গ্রাস করতে থাকে – এ চিন্তায় উপন্যাসে নামকরণ করেছি ‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’। নামকরণের তাৎপর্য একজন পাঠক পড়লে বুঝতে পারবে। আমার দৃষ্টিতে নামকরণ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রকাশিতব্য এই উপন্যাসটি ‘আবরার ফাহাদ’কে উৎসর্গ করেছেন। এমনকি উপন্যাসের অনত্যম চরিত্র এই নামে। নামটি বাছাই করার গল্প যদি বলতেন-

উপন্যাসটি আবরার ফাহাদকে উৎসর্গ করেছি এমনকি একটা চরিত্রের নাম বাছাই করেছি আবরার ফাহাদ। আবরার ফাহাদ নাম স্মরণ করে রাখার জন্যই এই চরিত্র সৃষ্টি। আবরারের হত্যাকাণ্ড আমাকে ব্যাপক নাড়া দেয়। ঘুমাতে পারি নি, আমি কেঁদেছিলাম। আমার বয়সী ছেলেরা হত্যা করে ফেলতে পারে। আবরার বেঁচে থাকতে তো কিছু করতে পারি নাই। ভাবলাম নামটাকে স্মরণীয় করে রাখতে পারলে কেমন হয়। আমার বই এর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত উচ্চারিত হোক নামটি। আমি সিরিজ আকারে এই চরিত্রে আরও লিখতে চাই। এজন্য পাঠকের অনুপ্রেরণা দরকার। দেশের পরিধি ছাড়িয়ে নামটা পৌঁছে দিতে পারলেই আমার স্বপ্ন স্বার্থক হবে।

কুহেলি চরিত্র যদি সোশ্যাল বুলিং এর শিকার হয় তবে অবন্তী চরিত্রের প্রেক্ষাপট কি বই হাতে পাওয়ার আগে পাঠক জানতে পারবে?

কুহেলি চরিত্র সোশ্যল বুলিং এর শিকার হয়। আর অবন্তী একজন সিআইডি অফিসার। দায়িত্ব পালনে ব্যাপক সচেষ্ট। গুরুত্বপূর্ণ ক্লু দিয়ে সিরিয়াল কিলিং কেস এর সাথে যুক্ত হয়। প্রাণবন্ত চরিত্র অবন্তী মজা কম বুঝলেও কাজের প্রতি দায়িত্ব। চরিত্রটি অনেকটা আমার নিজের সাথে মিল আছে। একজন পাঠক আমার সম্পর্কে না জানলেও উপন্যাসটি পড়লে ধাপে ধাপে আমার সম্পর্কে বুঝতে পারবে এই চরিত্রে।

‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’ এর ঠিক কোন বিষয়ের জন্য হলেও একজন  বইপ্রেমির উপন্যসটি পড়া উচিৎ বলে মনে করেন?

‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’ মানে হচ্ছে হীনমন্যতা, নিজের ব্যর্থতার জন্য হতাশায় ভোগা। অধিকাংশ লেখায় নারী চরিত্রকে প্রথাগত সুন্দরী করা হয়। বৃত্তের বাইরে কেউ ভাবে না। প্রথাগত অসুন্দরের জন্য যে সোশ্যাল বুলিং এর শিকার হতে হয় এজন্য ভিকটিমের অবস্থা কেমন হয় তা নিয়ে খুব বেশি লেখক কাজ করেছে বলে মনে হয় না। সবাইকে দেখি সুন্দরীদের নিয়ে কাজ করতে। সোশ্যাল বুলিং এর শিকার হয়ে কেমন বাজে অনুভূতি নিয়ে টিকে থাকার চেষ্টা করে সেটা জানার জন্য হলেও একজন বই প্রেমির এই উপন্যাসটি পড়া উচিৎ হবে। এটা পড়লে পাঠক বলতে পারবে আমাদের দেশেও মৌলিক থ্রিলার লেখা হয়। আমার স্বপ্ন পূরণের জন্য তো অবশ্যই পাঠকের মতামত লাগবে। আমি কতটুকু পেরেছি আর কোথায় সীমাবদ্ধতা তা পড়ার পর একজন পাঠকই বলতে পারবে।

মেডিকেল থ্রিলার লেখার ব্যাপারে একজন মেডিকেল পড়ুয়া হওয়ায় কতটুকু সুবিধা পেয়েছেন বলে মনে হয়?

মেডিকেল পড়ুয়া হওয়ায় মেডিকেল থ্রিলার লেখায় অনেক সুবিধা পেয়েছি। ৩য় বর্ষে ফরেনসিক পড়ে এসেছি। ময়নাতদন্ত করার প্রক্রিয়া, খুনি শনাক্ত, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তথ্য দেওয়া এসব পড়ে এসেছি। আর এসব আছে এই উপন্যাসেও। আমার মনে হয় একজন মেডিকেল পড়ুয়া হয়ে আমি যতটুকু স্বতঃস্ফূর্তভাবে মেডিকেল থ্রিলার লিখতে পেরেছি তা অন্য কেউ লিখলে এমন প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা না পাওয়ায় লেখা ততটা সমৃদ্ধ হবে না।

আগের দুটো বই এ পাঠকের সাড়া প্রাপ্তির পর এই বই এ পাঠকের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ হবে?

আগের বই দুটোতে অভাবনীয় সাড়া পেয়েছি। আমি কল্পনাও করি নি নতুন লেখকের বই মানুষ এভাবে কিনে পড়ে। আমার মনে হয় প্রথম বই এ যতটুকু নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছি তার চেয়ে বেশি পরিশ্রম করায় দ্বিতীয় বই এ নিজেকে তুলনামূলক বেশি প্রকাশ করতে পেরেছি। মেধা, সৃজনশীলতার সাথে সাথে পরিশ্রম না করলে টিকে থাকা যায় না। প্রায় নয় মাস সময় দিয়েছি এই বইটির জন্য। লেখার আগে অনেক থ্রিলার পড়েছি, মুভি, ওয়েব সিরিজ দেখেছি। চেষ্টা করেছি একটা মৌলিক প্লট তৈরির জন্য। পাঠক যখন পড়বে তখন বুঝা যাবে কতটুকু প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছি। তবে আমার প্রথম দুটো বই পড়ার পর প্রকাশিতব্য উপন্যাস ‘ইনফিরিওরিটি কমপ্লেক্স’ পড়লে পাঠক আশাহত হবে না।

লেখালেখির স্বার্থে কিছুদিন সোশ্যাল নেটওয়ার্কে কম সক্রিয় ছিলেন। সেই সময়ের যোগাযোগ রক্ষা আর বর্তমান সময়ের মধ্যে অন্যতম পার্থক্য কোথায়?

 

দীর্ঘ সাড়ে তিন মাসের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় কম সক্রিয় ছিলাম। আমার প্রকৃতিই এমন। যখন কোনো কাজে ব্যস্ত থাকি তখন সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন থাকি। এমনকি আমার জন্মদিনেও অনেকে খুঁজে পায়নি। আর এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছি। বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিব, বাইরে যাব, পাঠকদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসার উত্তর দিব। দুটো সময়ে অবশ্যই অনেক পার্থক্য আছে। তবে আমি মনেকরি একটা কাজের ভালো আউটপুট পাওয়ার জন্য মাঝেমাঝে এমন ডুব দেওয়া ভালো। এরকম ডুব দিলে আরেকটা বিষয় উপলব্ধি হয় যে আমার অনুপস্থিতিতে কে কে আমাকে খুঁজে, স্মরণ করে পরে তা দেখে তাদের কাছে আমার গুরুত্ব বুঝতে পারি।

লেখালেখির বাইরে থেকে একটা জিজ্ঞাসা- যারা এবার মেডিকেল ভর্তিচ্ছু তাদের ব্যাপারে আপনার পরামর্শ কী?

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা একটা ভয়ংকর যুদ্ধ। এই যুদ্ধ জয়ের প্রস্তুতির জন্য নিয়মিত পড়াশোনা তো করতেই হবে। পাশাপাশি লেখালেখি, নাচ, গান, আবৃত্তি এসব থেকে দূরে থাকাই ভালো। আমি যেমন মাঝে মধ্যে ডুব দেই, অনেকটা তেমন। যখন স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে লক্ষ্যে পৌঁছে তখন অন্যান্য কাজের জন্য সময় বের করতে পারবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT