রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২০, ৮ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৬:০৯ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ নাটোরের লালপুরে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত ◈ নাটোরে এমপির নির্দেশে নলডাঙ্গা পৌরসভার রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু ◈ নাটোরের বাগাতিপাড়ায় এক শিক্ষককে কারাদণ্ড দিলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত ◈ শুভ্র’র খুনীদের ফাঁসির দাবিতে মুক্তিযোদ্ধা ও সন্তানদের মানববন্ধন ◈ ধর্ষণ মামলার আসামী শরীফকে সাথে নিয়ে পুলিশের অস্ত্র উদ্ধার ◈ টঙ্গীবাড়িতে মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৯ জেলেকে কারাদণ্ড ১জনকে অর্থদণ্ড ◈ ধামইরহাটে প্রতিহিংসার বিষে মরলো ১৫ লাখ টাকার মাছ, আটক-২ ◈ হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের ঐতিহ্যবাহী কুপি বাতি ◈ ভালুকায় কোটি টাকা মুল্যের বনভুমি দখল রহস্যজনক কারনে নিরব বনবিভাগ ◈ নেয়াখালীতে ছেলের পরিকল্পনাতেই মাকে পাঁচ টুকরো

আধুনিক যান্ত্রিক সভ্যতার বিকাশে হারিয়ে যেতে বসেছে পালতোলা নৌকা

প্রকাশিত : ০৭:১৯ PM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০ Wednesday ৫২ বার পঠিত

আহম্মেদ কবির, তাহেরপুর প্রতিনিধি:
alokitosakal

এক সময়ে সুনামগঞ্জ তাহিরপুর হাওর নদনদী গুলোতে সারি সারি পাল তোলা নৌকা চোখে পড়লেও,সময়ের বিবর্তণ জৌলুস হারানো নদ-নদীর করুণ অবস্থা আর যান্ত্রিক সভ্যতা বিকাশের ফলে বিলুপ্তির পথে আবহমান গ্রামবাংলার লোকসংস্কৃতির অন্যতম বাহন ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নৌকা। মাঝেমধ্যে হঠাৎ দু’একটা পালতোলা নৌকা চোখে পড়লেও,সময়ের বিবর্তনে এসব নৌকায় আগের মতো মানুষ আর চলাফেরা করে না । নববধূরা আর শ্বশুরবাড়ি থেকে বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য পালতোলা নৌকার বায়না ধরে না।

উপজেলার পাটলাই, রক্তি বৌলাই, যাদুকাটা ও টাঙ্গুয়ার হাওর এলাকার বেশির ভাগ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিল নদী হাওর এবং পালের নৌকা।বিশ থেকে পঁচিশ বছর পূর্বে এই হাওরাঞ্চলের পাটলাই,বৌলাই,যাদুকাটা, রক্তি নদী সহ কয়েকটি নদীর নৈসর্গ রূপের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়ে ছিল, সারি সারি নৌকা। এসব নৌকায় ছিল রঙিন পাল। স্বচ্ছ পানির কলতান আর পালে লাগা বাতাসের শনশন শব্দ অনুভূতি জুগিয়েছে প্রাণে।

যান্ত্রিক শব্দের দূষণ মুক্ত নিরিবিলি এই পালতোলা নৌকায় নদী ভ্রমণে কতটা তৃপ্ত হতো তা সত্যি ভুলে যাওয়ার নয়। এবং পাটলাই, বৌলাই, রক্তি, ও যাদুকাটার পাড় থেকে সারি সারি নৌকার ছন্দবদ্ধ চলা আর বাতাসে পাল উড়ার মনোরম দৃশ্য দেখে সত্যি মনপ্রাণ আনন্দে নেচে উঠতো ।

দেশের দ্বিতীয় রামসার সাইট টাঙ্গুয়ার হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা পাটলাই নদী দিয়ে দল বেঁধে চলা কয়লা ও চুনাপাথর পরিবহনকারী পালতোলা নৌকার সে সময়ের দৃশ্য সত্যি মন জোরানো। আর মাঝনদী থেকে ভেসে আসা দরাজকণ্ঠে ভাটিয়ালি গানের সুর শুনে মনে তৃপ্ত এনে দিতো। নদীকে ঘিরে এক সময় পালতোলা নৌকা ছিল যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। এপাড় থেকে ওপাড়ের যাত্রীদের ভাসিয়ে নিয়ে যেত নৌকা। তবে কালের পরিক্রমায় এসব নৌকা এখন অতীত। এখন নদীতে যেটুকু সময় পানি থাকে বিশেষ করে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে নৌকা চলাচল করে। পালতোলা নৌকার দেখা মিলে না।এ অঞ্চলে এক সময় যাত্রীবাহী গয়না, একমালাই নৌকা, কোষা নৌকা, ডিঙিনৌকা,পেটকাটা নাও, বোঁচা নাও সহ বিভিন্ন ধরণের পালের নাওয়ের ব্যবহার ছিল।

যান্ত্রিক সভ্যতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে পালতোলা নৌকা। কদর নেই মাঝি-মাল্লাদেরও। নৌকায় পাল এবং দাঁড়-বৈঠার পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ডিজেলচালিত ইঞ্জিন। মাঝেমধ্যে দু’একটা পালের নাও এখনো নদ-নদী হাওরে বুকে চোখে পড়লেই মনে পড়ে যায় সেই পুরনো দিনের স্মৃতির কথা। এই পালের নাওকে উপজীব্য করে যুগে যুগে কবি-সাহিত্যিকরা রচনা করেছেন তাঁদের অমূল্য সৃষ্টি কবিতা, ছড়া, গল্প, গান পালা ইত্যাদি। প্রখ্যাত শিল্পীরা তৈরি করেছেন উঁচু মানের শিল্পকর্ম। শুধু দেশী কবি-সাহিত্যিক-শিল্পী বা রসিকজনই নন বরং বিদেশী অনেক পর্যটকের মনেও আলোড়ন সৃষ্টি করেছে পালের নাও।

স্থানীয় প্রবীণ মুরব্বিদের সাথে আলাপচারিতায় জানা যায় এ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের নৌকাই ছিল এখানকার মানুষের যাতায়াত ও পরিবহনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। আর এ সব নৌকা চালানোর জন্য পালের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। হাজারীপাল, বিড়ালীপাল, বাদুরপাল ইত্যাদি পালের ব্যবহার ছিল নৌকাগুলোতে। পালের নৌকার পাশাপাশি মাঝিদেরও বেশ কদর ছিল একসময়। প্রবীণ মাঝিরা নৌকা চালানোর বিভিন্ন কলাকৌশল সম্পর্কে বেশ পারদর্শী ছিলেন। তাঁদের হিসেব রাখতে হতো জোয়ার-ভাটার, বিভিন্ন তিথির এবং শুভ-অশুভ ক্ষণের। কথিত আছে বিজ্ঞ মাঝিরা বাতাসের গন্ধ শুঁকে বলে দিতে পারতেন ঝড়ের আগাম বার্তা। রাতের আঁধারে নৌকা চালানোর সময় দিক নির্ণয়ের জন্য তারা নির্ভর করতো আকাশের তারার উপর। তাই তারা চালানোর পূর্বেই শিখে নিতেন কোন তারার অবস্থান কোন দিকে।

এ বিষয়ে সচেতন মহলের মতামত এ অঞ্চলে নৌকাই ছিল পূর্বের একমাত্র বাহন।সময়ের বিবর্তনে যুগের চাহিদা অনুযায়ী ইঞ্জিন নৌকা বা ট্রলারের চাহিদা লক্ষণীয়। তাই বলে গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ভুলে গেলে চলবে না।সেই আদি যুগের বাহন নৌকাগুলোর কদরও যাতে সব সময় থাকে তারও একটা ব্যবস্থা আমাদেরই নিতে হবে।

উনারা বলেন আধুনিক সভ্যতার যুগে যান্ত্রিক যানবাহনের ভারে হয়তোবা হারিয়েই যাবে, আদি যুগের লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্যবাহী পালতোলা নাও।মাঝেমধ্যে

টাঙ্গুয়ার হাওর পাড়ের প্রবীণ মুরব্বী কপিলনুর মিয়া বলেন,পূর্বে ঘাটে ঘাটে সারিবাঁধা পালতোলা নৌকা বাঁধা থাকতো। এখন সেই ঘাট দখল করে নিয়েছে ইঞ্জিলচালিত শ্যালো নৌকা। এসব নৌকার ভট ভট বিকট শব্দে নদীর শান্ত পরিবেশ বিঘ্নিত হয়। কালের আবর্তে এক সময় পরবর্তী প্রজন্মের শিশুরা ভুলে যাবে পালের নাও, পালের নাও, পান খেয়ে যাও” ইত্যাদি ছড়া। বিচিত্র রঙের পালের বাহারিতে ঝলমল করবে না, এ দেশের নদ-নদী, খাল-বিল।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT