রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:১৯ অপরাহ্ণ

আদালতের শোকজের পরেও দ্রুতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা!!

আদালতের শোকজের পরেও দ্রুতো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা!!

প্রকাশিত : ১১:৩০ AM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ১৫৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

উপজেলা পরিষদ মার্কেট নির্মাণের বিরুদ্ধে ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের শোকজাদেশ সত্বেও কাজ বন্ধ না রেখে রাজাপুর উপজেলা প্রশাসন উল্টো ভূমি দস্যুর ষ্টাইলে দ্রুতো গতিতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদীপক্ষ আদালতের আদেশকে উপেক্ষা করে দখল তৎপরতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সরাসরি রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও সোহাগ হাওলাদারকে দায়ী করেছে। আদালতকে অগ্রাহ্য করে একজন সরকারী কর্মকর্তার এহেন আক্রোশ মূলক ভূমিকার কারনে বর্তমানে মামলার বাদী জাওয়াদ মুন ও তার মাসহ পুরো পরিবার অতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

বাদির লিখিত অভিযোগে জানা গেছে, রাজাপুর উপজেলা পরিষদ চত্তরের সীমানা প্রাচীরের পাশ ঘেঁষে ৪৭নং রাজাপুর মৌজার ১৮৪৩ দাগে ৯৭ শতাংশ জমি সাব কবলা দলিল মূলে মালিক মৃত হাজী এছাহাক উদ্দিন হাওলাদার। তার মৃত্যুর পর ৪পুত্র ও ৩ মেয়েসহ ওয়ারিশগন উক্ত ভোগ দখল করে আসছিল। গত ২৯ অক্টোবর মঙ্গলবার ইউএনও সোহাগ হাওলাদার কোন পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উক্ত জমিতে বেআইনী ভাবে ঢুকে বসত বাড়ির বেশ কয়েকটি ফলের গাছসহ রান্না ঘর ভেঙ্গে ফেলে ওসেই জমিতে উপজেলা পরিষদ মার্কেটের নির্মাণ কাজ শুরু করেন।

এ সময় জমির মালিকপক্ষ বাড়িতে না থাকায় লোক মুখে খবর পেয়ে তাদের ওয়ারিশগনের একজন ইউএনও সোহাগ হাওলাদারের কাছে গিয়ে উক্ত জমি ব্যক্তি মালিকানাধীন বলে জানালে তিনি উল্টো এ জমি জেলা পরিষদের মালিকানাধীন বলে দাবি করেন। বাধ্য হয়ে গত ৩০অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঝালকাঠির রাজাপুর সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন জমির মালিক হাজী এছাহাক উদ্দিনের দৌহিত্র জাওয়াদ মুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যানকে বিবাদী করে (দেং মং নং ১৭৯/২০১৯ইং) একটি মামলা দায়ের করেন।

ঝালকাঠির রাজাপুর সহকারী জজ আদালতে মামলার শুনানীঅন্তে বিবাদী রাজাপুর উপজেলা চেয়ারম্যান ও নির্বাহী কর্মকর্তাকে কারন দর্শানোর জন্য শোকজ নোটিশ পাঠান। বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার গোপনীয় শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আদালতের কারন দর্শানো নোটিশটি গ্রহন করেন।

এ বিষয় মামলার বাদী জাওয়াদ মুন সাংবাদিকদের জানান, বিরোধীয় ১৮৪৩নং দাগের পুরো জমি আমাদের পারিবারিক সম্পত্তি। এ জমির মধ্যে জেলা বা উপজেলা পরিষদের কোন জমি নেই। তার পরেও কোন নোটিশ ছাড়াই ইউএনও তার লোকজন নিয়ে অবৈধভাবে আমাদের জায়গায় ঢুকে অনেকগুলো কাঠাল, আমড়াসহ ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলেন। এমন কি আমাদের ব্যবহৃত রান্না ঘর ভেঙ্গে ফেলে সেখানে বেশ কয়েকটি পিলার স্থাপন করেছে।

নিরুপায় হয়ে আমরা আদালতে মামলা দায়ের করলে তিনি আরও ক্ষিপ্ত হন এবং আরো বাড়তি লোকজন নিয়ে নিজে দাড়িয়ে থেকে কাজের তদারকি করছেন। আদালতের কারন দর্শানো নোটিশ পাবার পরেও তিনি কাজ বন্ধ না করে তিনি গত শুক্র ও শনিবারে বিরোধীয় উক্ত জমিতে আরও দ্রুত গতিতে নির্মান কাজ করিয়ে যাচ্ছেন ।

এ বিষয়ে বাদী পক্ষের আইনজীবি সুভাষ চন্দ্র দত্ত বলেন, একজন সরকারী কর্মকর্তার নামে আদালত থেকে কোন বিষয়ে শোকজ বা কারন দর্শনোর নোটিশ দিলে নোটিশের জবাব দেয়ার আগ পর্যন্ত তিনি সেই কাজ করা থেকে বিরত থাকেন। তারপরেও যদি তিনি সেই কাজ করেন তাহলে তা আদালত অবমাননার সামিল বলে গন্য হয়।

এ ব্যাপারে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহাগ হাওলাদার সাংবাদিকদের বলেন, আমি আদালতের শোকজ নোটিশ পেয়েছি। নোটিশে দশদিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাই আমি যথা সময়ে জবাব দেব। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যেতে পারেন কি না ? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এসব আদালতের বিষয় তাই এ বিষয়ে আমি বেশী কথা বলতে চাই না।#।#

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT