রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ২২ অক্টোবর ২০১৯, ৬ই কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

আদর্শিক রাজনীতির শিকড় ধরে সামনে এগোতে হবে: আব্দুর রহমান

প্রকাশিত : ০১:৪২ পূর্বাহ্ণ, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শনিবার ১২৬ বার পঠিত

অনলাইন নিউজ ডেক্স :
alokitosakal

আবদুর রহমান। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির’ দায়িত্ব পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ছাত্রলীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চার নেতার একজন তিনি। আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই নেতা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদকেরও দায়িত্ব পালন করেন।

সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় পত্রিকা দৈনিক আলোকিত সকাল-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। তার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনায় উঠে আসে সমসাময়িক রাজনীতির নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দৈনিক আলোকিত সকালের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট সাব্বির

আলোকিত সকাল: সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ-টেন্ডারবাজসহ অপকর্মের সঙ্গে যুক্তদের দলে জায়গা হবে না বলে হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ‘শুদ্ধি অভিযান’ চলছে। এটাকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন আপনি?

আব্দুর রহমান : অনিয়ম, বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে, এটা সরকারি পর্যায়ে চলছে। সরকারে যারা দায়িত্বে রয়েছে তারাই এ বিষয়টি দেখবে। তবে আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এধরনের অভিযান দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণে সৎ ‍ও মহৎ উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার বলেছেন, উন্নয়নের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ যে কোনও ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি, অন্যায় যেখানেই থাকবে, যে সংগঠনের নেতারাই করবে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

সাংগঠনিকভাবে আমরা প্রত্যেক নেতাকর্মীকে পরামর্শ দিতে পারি যে, আমাদের আদর্শিক রাজনীতিটাকে শক্তভাবে ধরতে হবে। আদর্শিক রাজনৈতিক শিকড়টাকে ধরে আমরা পথ চলি, সামনে এগোই। এটাই হচ্ছে আমাদের রাজনীতি, আকাঙ্ক্ষা বা অঙ্গীকার।

আলোকিত সকাল: ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গণভবনে গিয়েছেন। তাদেরকে কোন ধরনের নির্দেশনা দিয়েছেন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক অভিভাবক শেখ হাসিনা?

আব্দুর রহমান : অনিয়ম ও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনায় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করেছেন। এজন্য দুটি পদ শূন্য হয়েছে। এই শূন্য পদে যারা ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তারা একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে। আমরাও সেখানে উপস্থিত ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাত্রলীগের অভিভাবক। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ছাত্রলীগের গৌরব উজ্জ্বল ইতিহাস আছে। ছাত্রলীগ মানুষের কাছে আবেদনমুখি ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল। সেই জায়গাটা ধরে আগামীতে পথ চলতে হবে এবং ছাত্রলীগের নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, সততা ও দক্ষতার সাথে ধরে রাখতে হবে। ত্যাগী পরীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক কর্মী হিসেবে ছাত্রলীগের প্রতি এটাই হলো মূল নির্দেশনা’।

মানুষের কাছে ছাত্রলীগ জনপ্রিয় ছাত্র সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। সে লক্ষ্যে জনগণের কাছাকছি যাওয়া। জনগণের মন জয় করা। ছাত্রদের যে সকল স্বাভাবিক দাবি-দাওয়া রয়েছে সেগুলোর পক্ষে সরকারকে সহযোগিতা করা। মূলকথা হলো ছাত্রলীগ যাতে জনগণের কাছে, দেশবাসীর কাছে জঞ্জাল-ঝঞ্জাটের বোঝার মতো না হয়। তারা যেন সত্যিকার অর্থেই জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তির সহযোগী হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সেভাবেই তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে। তাদেরকে একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালাও করতে বলা হয়েছে।

আলোকিত সকাল: ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক কতটুকু সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে মনে করেন?

আব্দুর রহমান : ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সব ধরনের সাংগঠনিক কাজ করতে পারবে। তবে তারা যে কাজটি করতে পারবে না, সেটি হলো যে কাজ করলে ছাত্রলীগের বদনাম হয়, সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। ছাত্রলীগের প্রতি মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয় কিংবা হতে পারে এমন কোনও কাজ করা যাবে না। সংগঠনের প্রয়োজনে যেকোনও ভালো কাজ তারা করতে পারবে।

আলোকিত সকাল: আওয়ামী লীগের ২১তম সম্মেলন নিয়ে আপনার ভিশনটা কি?

আব্দুর রহমান : আগামী সম্মেলন যাতে সুষ্ঠু সুন্দরভাবে দেশের মানুষের কাছে সমাদৃত হতে পারে, যাতে জাঁকজমকপূর্ণ সম্মেলনের মাধ্যমে দেশবাসী আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী শুভানুধ্যায়ী সকলে একটা আমেজমুখর পরিবেশে সম্মানটা অনুভব করতে পারবে সেই লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। ভিশন একটাই, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশা-ভরসা অস্তিত্বের ঠিকানা। তাঁর নেতৃত্বে একজন আদর্শিক ও নিবেদিতকর্মী হিসেবে যেন কাজ করে যেতে পারি।

আলোকিত সকাল: সম্মেলন ঘিরে কোনও প্রত্যাশা রয়েছে কিনা?

আব্দুর রহমান : সম্মেলন ঘিরে কোনও পদ-পদবির প্রত্যাশা নেই, আকাঙ্ক্ষাও নেই। আমি মনে করি কোনও পদ-পদবি মানুষের রাজনৈতিক গুণগত চারিত্রিক উন্নয়নের চেয়ে বড় হতে পারে না। সুতরাং একটা পদ-পদবি দিলেই একজন বড় নেতা হবে, বড় কর্মী হবে, এটা আমি মনে করি না।

আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শ ধারণ করে শেখ হাসিনা এদেশের মানুষের আর্থ-সামাজিক মুক্তির জন্য যে কাজ করে যাচ্ছেন সেই কাজে যেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এদেশের মানুষকে তিনি অভাবনীয় একটা জাদুকরী উন্নয়ন উপহার দিচ্ছেন। তাই এই অভিযাত্রার মিছিলে একজন সৈনিক হিসেবে, একজন কর্মী হিসেবে থাকতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি । তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে পারলেই আমার সার্থকতা।

আলোকিত সকাল: সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আবদুর রহমান : আপনাকে ও আলোকিত সকাল পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০১৯ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT