রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৬ মার্চ ২০২১, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০১:৫৮ অপরাহ্ণ

আতঙ্কে ক্যাসিনো গডফাদাররা

প্রকাশিত : ০৬:১৯ AM, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯ মঙ্গলবার ২৮৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান শুরুর আগেভাগেই দেশ ছেড়েছেন অনেক গডফাদার। অনেকে পালানোর পথ খুঁজছেন। অভিযানের খবর আঁচ করে দেশ ছেড়েছেন ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নিয়ন্ত্রক স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মো. আবু কাউছার। আরামবাগ স্পোর্টিং ক্লাবের নিয়ন্ত্রক ও যুবলীগ নেতা কাউন্সিলর মো. মোমিনুল হক সাঈদ। আর মূল গডফাদার ইসমাইল চৌধুরী সস্রাট লুকিয়েছেন তার কাকরাইল অফিসে। শত শত কর্মীকে নিচে পাহারায় বসিয়ে, পাঁচদিন ধরে তিনি সেখানে অবস্থান করছেন। তার প্রকৃত অবস্থান নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। আসলেই কি তিনি এই ভবনে আছেন।

গোয়েন্দা সূত্র বলেছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর গ্রেফতার এড়াতে এরই মধ্যে গা-ঢাকা দিয়েছেন শ্রমিক লীগ নেতা সাদিকুর রহমান হিরু, তেজগাঁও থানা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক লোকমান হোসেন, যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী সরোয়ার হোসেন বাবু, সহসভাপতি আনোয়ারুল ইকবাল সান্টুসহ অনেক গডফাদার। এ তালিকায় ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের কয়েক নেতাও রয়েছেন। গ্রেফতারের তালিকায় খালেদের সহযোগী রাজু, তুহিনও রয়েছেন। তবে গ্রেফতারের ভয়ে তারাও আত্মগোপনে চলে গেছেন। এসব নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, জমি দখল, টেন্ডারবাজি, মাদক ব্যবসা ও ক্যাসিনোর টাকা গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে।

এই তালিকায় বিএনপির কিছু নামও যুক্ত হতে পারে। ইতোমধ্যে রিমান্ডে থাকা জিকে শামীম তার সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিএনপির কয়েক নেতা জড়িত থাকার তথ্যও দিয়েছেন। যুবলীগ নেতা ও আওয়ামী লীগের এক সংসদ সদস্যও রয়েছেন এ তালিকায়।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর দফতরে যাওয়া অভিযোগের যাচাই-বাছাই শেষে একটা তালিকা তুলে দেওয়া হয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। প্রথম দফায় র‌্যাবের গ্রেফতারের তালিকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ নেতা, কাউন্সিলরসহ অন্তত ২৫ জন প্রভাবশালী রয়েছেন। যাদের ওপর নজরদারি চলছে। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। কিন্তু তাদের অনেকে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনো চালানোর নেপথ্যে কারা জড়িত, সে সম্পর্কে গোয়েন্দাদের কাছে মুখ খুলতে শুরু করেছেন রিমান্ডে থাকা যুবলীগের দুই নেতা খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়া ও জিকে শামীম। সূত্র বলেছে, ঢাকার ক্রীড়া ক্লাবের আড়ালে কারা ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ করত এমন প্রায় ৫০ জন গডফাদারের নাম বেরিয়ে এসেছে জিজ্ঞাসাবাদে। তদন্তের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছেন না সংশ্লিষ্টরা।

আটক খালেদ আর শামীমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন খোঁজা হচ্ছে ব্রাদার্স ক্লাবের সভাপতি যুবলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহিকে। মহিউদ্দিন মহির বিরুদ্ধে গণপূর্ত, বিদ্যুৎ ভবন, শিক্ষা ভবন, খাদ্য ভবনসহ বিভিন্ন এলাকায় টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের তথ্য উঠে এসেছে। রেজা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ঢাকায় একাধিক বাড়ি-ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। অবৈধভাবে কয়েকশ’ কোটি টাকা বানিয়ে শূন্য থেকে এখন কয়েকটি লঞ্চের মালিক হয়েছেন তিনি।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সহসভাপতি আনোয়ার ইকবাল সান্টুকেও খোঁজা হচ্ছে। তার বিত্তবৈভবের অনুসন্ধানে নেমেছেন বিভিন্ন সংস্থার লোকজন। সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত, ওয়াসা, রাজউক, শিক্ষা ও বিদ্যুৎ ভবনের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ভবনে ঠিকাদারি করে কয়েক বছরেই কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন সান্টু। যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাহজাহান ভুঁইয়া তার মূল শক্তি বলে জানা গেছে। জিকে শামীম ও তার একটা সিন্ডিকেট রয়েছে।

গাজী সরোয়ার বাবু যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক। তিনি ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক এবং হাসপাতালের ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, রোগীদের জিম্মি করে তিনি বিপুল টাকা হাতিয়ে নেন। তার বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৪০টি দোকান দখলে নেওয়ার অভিযোগ আছে। এছাড়া সিটি করপোরেশন, ওয়াসা, রাজউকসহ বিভিন্ন ভবনের ঠিকাদারি তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফরিদউদ্দিন রতনকেও খোঁজা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নাম ভাঙিয়ে বিদ্যুৎ ভবনে বড় বড় কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন তিনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের কাছের লোক হিসেবে পরিচিত এই রতন সিটি করপোরেশনের কাজও নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তার এলাকায় মাদক, ফুটপাথ ও টেন্ডারের নিয়ন্ত্রণ তার লোকজনের হাতে।

এদিকে সরকারি সূত্র বলছে, চলমান অভিযান চলবে আগামী ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত। অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে জয়ী হয়ে সরকারপ্রধান শেখ হাসিনা বিজয় দিবস উদযাপন করতে চান। এর পরপরই নতুন বছরে শুরু হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী (মুজিববর্ষ) উদযাপনের পালা। পরের বছর উদযাপিত হবে স্বাধীনতার ৫০ বছর (সুবর্ণজয়ন্তী)। এসব বিশেষ আয়োজনকে আরো স্মরণীয় করে রাখতে সরকার দুর্নীতি ও অনিয়মকে ঝেঁটে বিদায় করে একটি পরিশুদ্ধ অবস্থায় মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক রয়েছেন। তিনি দেশে ফিরলে এ অভিযান আরো জোরদার হবে। সাবেক মন্ত্রী, আমলা ও কিছু এমপির নামও এ তালিকায় যুক্ত হতে পারে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT