রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ০৬ মার্চ ২০২১, ২২শে ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:৪৭ অপরাহ্ণ

আগাম কপির জাত

প্রকাশিত : ১১:৪৫ AM, ৫ অক্টোবর ২০১৯ শনিবার ১৮৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুর গ্রাম দুই যুগ ধরে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা উত্পাদনের জন্য ব্যাপক পরিচিত। প্রতি বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বদলে যায় সমেশপুর গ্রামের দৃশ্য। গ্রামজুড়ে ফসলের মাঠে এখন শুধুই ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা। এই গ্রামের প্রায় ৪০ একর জমিতে প্রতি বছর ১০ কোটিরও বেশি চারা উত্পাদিত হয়। এ থেকে চাষিদের আয় হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা।

চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমেষপুর গ্রামে ১৯৮০ সালের দিকে শুরু হয় ফুলকপি ও বাঁধাকপির চারা উত্পাদন। উত্পাদিত ফুলকফির চারার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ফ্রেশ মাস্টার, ৭৭৭, সিরাজি, মিল্কো ও বাঁধাকপির মধ্যে কে কে, কে কে ক্রস, অটাম, ৭০, সিলভার কাপ ৬৫, মাউন্টেন ও টেসার।

চাষি আবদুর রাজ্জাক জানান, চারা উত্পাদনের জন্য জমিতে ১২ হাত লম্বা ও আড়াই হাত প্রশস্ত করে বিট তৈরি করতে হয়। বীজ বোনার পর চার দিনেই চারা গজাতে শুরু করে এবং অনূর্ধ্ব ১৪ দিনেই তা বিক্রির উপযোগী হয়। প্রতি মাসে একটি বিট থেকে কমপক্ষে দুইবার চারা বিক্রি করা যায়। একটি বিটে চারা উত্পাদন হয় প্রায় ছয় হাজার। গ্রামজুড়ে এরকম তিন থেকে চার হাজার বিট রয়েছে।

ঐ গ্রামের মীর হোসেন, ফজলুল হক, আয়েত আলী, রমিজ উদ্দিন, খলিল, আবুল বাসার জানান, ১৯৮৫ সাল থেকে স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী এবং বেসরকারি বীজ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তারা বীজ সংগ্রহ করে চারা উত্পাদন ও বিক্রি করে আসছেন। আগস্ট থেকে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত তারা চরম ব্যস্ত সময় পার করেন।

মাঠে চারা কিনতে আসা নীলফামারীর আবুল কালাম ও রংপুরের জালাল মিয়া জানান, এক যুগেরও অধিক সময় ধরে তারা সমেশপুর থেকে আগাম জাতের কফি চারা কিনে নিয়ে বিক্রি করেন। ঐ গ্রামের আবদুর রাজ্জাক, সোবান মিয়া, মোক্তল হোসেন, শাহ আলম, আমির আলী জানান, গ্রামের শতাধিক পরিবারের আগাম জাতের কফির চারা উত্পাদন ও বিক্রি করে সুদিন ফিরেছে। ১০০টি চারা ৮০ টাকা থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। কুমিল্লার সীমান্তবর্তী ভারতের ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকা থেকেও অনেকে এসে চারা নিয়ে যান।

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীম হোসেন জানান, ‘ফুলকফি ও বাঁধাকপির চারা উত্পাদনের জন্য কুমিল্লা অঞ্চলে সমেষপুর গ্রাম ব্যাপক পরিচিতি পেয়েছে। আগাম জাতের চারা উত্পাদনের জন্য এখানকার মাটি উর্বর। এখানে প্রতি বছর অন্তত ১০ কোটিরও বেশি চারা উত্পাদিত হয় এবং এসব চারা বেচাকেনা করে চাষিদের আয় হয় প্রায় ৭ কোটি টাকা। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দেওয়া হয়।’

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT