রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ১৭ এপ্রিল ২০২১, ৪ঠা বৈশাখ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৬:৩৪ অপরাহ্ণ

জেলার রাজনীতি, কুমিল্লা

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে কোন্দল

প্রকাশিত : ০৭:৪৩ AM, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯ শুক্রবার ৩৬৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রাজনৈতিকভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিভক্ত। তবে কুমিল্লার রাজনীতি বলতে দক্ষিণ জেলার রাজনীতিকে বোঝায়। এখানেই রয়েছে মহানগরীসহ জেলার সব অফিস আদালত। জেলার রাজনীতি ঘুরপাক খাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে ঘিরেই। জামায়াত ও জাতীয় পার্টি টিকে আছে কোনোভাবে। এ ছাড়া জাসদ, সিপিপি, ন্যাপ, কমিউনিস্ট, সাম্যবাদী দল, গণআজাদী লীগ ও মজদুর পার্টিসহ অন্য রাজনৈতিক দলের বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি ছাড়া সাংগঠনিক তৎপরতা চোখে পড়ে না।

আওয়ামী লীগ : কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন শুধু ক্ষমতা আর পদের দীর্ঘ নাম। যে যেভাবে পারছে শুধু ক্ষমতার ভাগ নিয়ে ব্যস্ত। তবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। আমাদের এখানে কোনো সাংগঠনিক স্থবিরতা নেই’। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের স্বজনদের নিয়ে পকেট কমিটি নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে। তবে আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হকের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিন থেকে চলে আসছে।

জানা গেছে, একসময়ের প্রভাবশালী নেতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট আফজল খান এখন দক্ষিণ জেলার রাজনীতিতে পদশূন্য। এমপি আ ক ম বাহাউদ্দীন বাহার মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর একই কমিটির সহ-সভাপতি অধ্যক্ষ আফজল খানের মেয়ে বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। ফলে দলীয়, জাতীয় ও স্থানীয় সব কর্মসূচি দুই গ্রুপ মহানগরী আওয়ামী লীগের ব্যানারে পরিচালনা করে পৃথকভাবে। কেউ অনুষ্ঠান করে টাউন হলে, কেউ মডার্ন কমিউনিটি সেন্টারে। গত ১৫ আগস্ট জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঐকান্তিক চেষ্টায় কুমিল্লা মহানগর আ.লীগ যে মিছিল করেছিল সেটাতে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে দুই পাশে রেখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অংশ নেয়। এর বাইরে দুগ্রুপের অংশগ্রহণে একসঙ্গে কোনো অনুষ্ঠান করার নজির নেই।

উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ দীর্ঘ তিন দশকেও একটি দলীয় কার্যালয় তৈরি করতে পারেনি। চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে তারা ব্যবহার করছে। এই জেলায় সবসময় মুরাদনগরের আ.লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি উত্তর জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন। আর এই অংশের অন্য সাংসদরা সেটা পছন্দ না করায় দলীয় কর্মসূচিতে বিভিন্ন পদের নেতারা অংশ নিলেও সংসদ সদস্যরা যার যার নির্বাচনি এলাকায় দলীয় কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। জেলা সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, আমরা শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামব।

বিএনপি : কুমিল্লায় সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির প্রভাবশালী নেতা আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর থেকেই দলীয় গ্রুপিং শুরু। একপক্ষে রয়েছেন সাবেক এমপি রাবেয়া চৌধুরী সমর্থিত অংশ অন্য গ্রুপে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। সাক্কু সদর সমঝোতার রাজনীতির কারণে রাবেয়া গ্রুপের নেতাকর্মীর মাঠে নামতে না পারলেও সাক্কু সমর্থিতরা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারছেন পুলিশি বাধা ছাড়াই। এ ছাড়াও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকও অনেকটা কোণঠাসা সাক্কুর সমঝোতার রাজনীতির কারণে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর মধ্যে দলাদলি দীর্ঘদিনের দলাদলিতে দলীয় কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারছে না দল। অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ব্যালান্স করে দিন পার করছেন। এ ছাড়াও দলের মহানগরী কমিটির কর্তৃত্ব নিয়েও সাক্কু ইয়াসিন দুপক্ষের মাঝে বিরোধ চরমে। নগরীর ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে বিএনপির দলীয় কার্যালয় এখন সাক্কু সমর্থিতদের দখলে। অন্যদিকে রাবেয়া চৌধুরী ও হাজী ইয়াছিন সমর্থিত দক্ষিণ জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক সমর্থিতরা ধর্মসাগর দক্ষিণ পাড়ে ইয়াছিনের ব্যক্তিগত জায়গায় গড়ে উঠা অফিসে কর্মসূচি পালন করেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, সরকারের মামলা-নির্যাতনের কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঠিকমতো মাঠে নামতে পারছেন না। এ জন্য কিছুটা স্থবির মনে হচ্ছে।

আগে দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও হোমনা-তিতাসের সাবেক মন্ত্রী এম কে আনোয়ার, দাউদকান্দি-মেঘনার সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুরাদনগরের কাজী শাহ মোফাজ্জ্বল হোসেন কায়কোবাদ, দেবীদ্বারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীসহ প্রমুখ নেতাদের কারণ সবসময় নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত ছিল। সম্প্রতি এম কে আনোয়ারের মৃত্যুসহ সরকারদলীয় হামলা-মামলায় উত্তর জেলার রাজনীতিতে দলীয় কর্মসূচি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। তবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন রাজনীতিতে অনেকটা সক্রিয়। এ ছাড়াও উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি পদে চান্দিনার খোরশেদ আলমের মৃত্যু পরবর্তী দলীয় কার্যক্রম একেবারেই শূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উত্তর জেলা সভাপতি দেবীদ্বারের সাবেক এমপি মনজুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রী সহ-সভাপতি, তার ছেলে এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক। আরেক সহ-সভাপতি বিদেশে থাকেন। মন্জুরুল আহসান মুন্সী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, যিনি নির্বাচন করবেন তার পছন্দের লোক কমিটিতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।

জাতীয় পার্টি : জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এখানে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত এমপি অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান। গত সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা বরুড়া আসনের এমপি অধ্যাপক মিলনের তৎপরতায় মাঝে মাঝে কিছু কর্মসূচি পালন হলেও বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য পদে পরাজিত হওয়ার পর অনেকটা সরে দাঁড়িয়েছেন দলীয় কর্মসূচি থেকে। মহানগরী সভাপতি সালামত আলী খান বাচ্চু বলেন, জেলায় জাতীয় পার্টির মোটামুটি কার্যক্রম রয়েছে।

জামায়াত : কুমিল্লায় সবসময় জামায়াতের একটা শক্ত অবস্থান ছিল। ৪ দলীয় জোটের সময় বিএনপিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিতে হতো। তবে গোপনে তৎপর রয়েছেন সাবেক এমপি ডা. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ ছাড়াও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন নিয়েও বিএনপির সঙ্গে দরকষাকষি করত। তবে বর্তমানে সরকারের কঠোর নীতির কারণে জামায়াতের প্রকাশ্যে কোনো কার্যক্রম নেই পুরো জেলায়।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT