রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৯:০৮ পূর্বাহ্ণ

জেলার রাজনীতি : বরগুনা

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে কোন্দল জাতীয় পার্টি হ য ব র ল

প্রকাশিত : ০৭:২১ AM, ৩ অক্টোবর ২০১৯ বৃহস্পতিবার ২৪৩ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

দেশের সর্ব দক্ষিণে ছয়টি উপজেলা ও চারটি পৌরসভা নিয়ে উপকূলীয় জেলা বরগুনা গঠিত। বরগুনা সদর-আমতলী-তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন গঠিত এবং বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন গঠিত হয়েছে। বরগুনার রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘদিন দুটি দলের সাংগঠনিক তেমন কোনো তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে না।

ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ নেতারা রয়েছেন যার যার পেশা নিয়ে ব্যস্ত। দলীয় অনেক কর্মসূচিতেই জেলা কমিটির সভাপতি ও সম্পাদকমণ্ডলীর অনেক নেতাকেই দেখা যায় না। বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কর্মসূচির সমর্থনে রাজপথে নামতে পারে না পুলিশি বাধায়। দলীয় কার্যালয় চত্বরেই তাদের কর্মসূচি শেষ করতে হয়। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলনের জেলা-উপজেলা কমিটি রয়েছে নামে মাত্র। সিপিবি, ন্যাপ ও জাসদের অবস্থা আরও করুণ।

আওয়ামী লীগ : বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। কারও কারও ভাষায় বরগুনাকে বলা হয় দ্বিতীয় গোপালগঞ্জ। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে দেশের একমাত্র বরগুনা জেলা কারাগারেই হানাদার বাহিনী নিরীহ বন্দিদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালায়। ১৯৭১ সালের ২৯ ও ৩০ মে শতাধিক বন্দি বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে শহীদ হন।

বিগত জাতীয় সংসদ নিবার্চনে তিনটি ছাড়া প্রতিটি নির্বাচনে বরগুনা সদর আসন থেকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। বরগুনা-আমতলী-তালতলী উপজেলা নিয়ে বরগুনা-১ আসন গঠিত। বরগুনার বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা উপজেলা নিয়ে বরগুনা-২ আসন গঠিত। বরগুনা-২ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ বিজয় অর্জন করে।

বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর। ৭১ সদস্যে জেলা কমিটিতে চতুর্থবারের মতো সভাপতি নির্বাচিত হন বর্তমান সংসদ সদস্য (বরগুনা-১ আসন) অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং চতুর্থবারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন জাহাঙ্গীর কবির। ৭১ সদস্যের জেলা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দুজন, সাংগঠনিক সম্পাদক দুজনসহ ১৫-২০ জন নেতাকে বিভিন্ন কর্মসূচিতে দেখা গেলেও অন্যদের তেমন একটা দেখা যায় না। দলের সব নেতাই ব্যস্ত নিজ নিজ পেশা নিয়ে। বরগুনাসহ চারটি পৌর কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে।
জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ ২০১৮ সালে শেষ হয়েছে। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে উপজেলা ও জেলা সম্মেলন করার জন্য কেন্দ্র থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্মেলন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ইতোমধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ওয়ার্ড, উপজেলা ও পৌর কমিটির পুনর্গঠনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মনোনয়নকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে, যা এখনও অব্যাহত আছে। গত সংসদ নির্বাচন থেকে এখন পর্যন্ত কিছু দিবসভিত্তিক কর্মসূচি ছাড়া দলের কোনো সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই।

বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মধ্য বিরোধ প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। যার প্রভাব তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। বিগত সংসদ নির্বাচনে বরগুনা-১ আসনে মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বর্তমান সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃতে¦ দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে জেলা আওয়ামী লীগ। এ সময় সংবাদ সম্মেলন করে এক গ্রুপ অন্য গ্রুপের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ উত্থাপন করে। যার রেশ ধরে বর্তমানেও এই গ্রুপিং প্রকাশ্য রয়েছে। সম্প্রতি আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে এবং এই গ্রুপিং আরও জোরালো হয়েছে।

বিএনপি : বরগুনা জেলা বিএনপির সর্বশেষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। সে সম্মেলনে সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম। বরগুনায় বিএনপির মধ্যেও রয়েছে দলীয় কোন্দল। সাবেক সভাপতি মাহাবুবুল আলম ফারুক মোল্লার সমর্থক নেতাকর্মীরা এখনও বর্তমান কমিটিকে মেনে নিতে পারেনি। দলীয় সভা-সমাবেশ ও কর্মসূচিতে ফারুক মোল্লাসহ তার সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায় না। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, আমাদের ছয়টি উপজেলার মধ্যে যেসব উপজেলার ও ওয়ার্ড কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, বর্ষা মৌসুমের পর ২০১৯ সালের মধ্যে সে জেলার কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।

জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহাবুবুল আলম ফারুক মোল্লা বলেন, জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটি গঠন করা হয়েছে অসাংবিধানিকভাবে। আমরা যারা আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি তাদের মূল্যায়ন না করায় বরগুনায় বর্তমানে বিএনপি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সঠিকভাবে এ বিষয় উপলব্ধি করলে বিএনপি আবার সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে তিনি দাবি করেন।

সাবেক জেলা বিএনপির সভাপতির বক্তব্যের বিরোধিতা করে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হালিম বলেন, ম্যাডাম যদি অসাংবিধানিকভাবে কমিটি করে থাকেন তাহলে তাদের উচিত ম্যাডামের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনা। তারা ম্যাডামের মুক্তি আন্দোলনে একদিনের জন্যও রাজপথে আন্দোলনে অংশ নেয়নি। বার্ধক্যের কারণেই তারা দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারছেন না বলে তিনি দাবি করেন।

জাতীয় পার্টি : বরগুনায় জাতীয় পার্টি অবস্থা হ-য-ব-র-ল। জাতীয় পার্টির ১০১ সদস্যের জেলা কমিটি গঠনের পর দীর্ঘ দেড় বছরেও কোনো সভা হয়নি। জেলা জাপা সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান হানিফ মাতুব্বর বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর আহ্বায়ক কমিটি করা হয়েছে। তবে ওয়ার্ড কমিটি নেই। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পেলে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করা হবে।

জাতীয় পার্টি কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান মনছুর বলেন, বরগুনায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার জন্য শিগগিরই তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে সভা ডাকা হবে। বর্তমানে ওয়ার্ড কমিটি পৌর কমিটি ও উপজেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে না থাকায় সাংগঠনিকভাবে বরগুনায় জাতীয় পার্টি পিছিয়ে রয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন : বরগুনায় ইসলামী আন্দোলন এক সময় সাংগঠনিক দিক থেকে শক্তিশালী থাকলেও বর্তমানে সাংগঠনিক তৎপরতা আগের মতো নেই। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল জেলা সম্মেলনে মাওলানা মো. অলিউল্লাহকে সভাপতি ও মাওলানা জাকির হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে ২৬ সদস্যের জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এ পর্যন্ত ৬ উপজেলায় এবং বেতাগী, পাথরঘাটা ও আমতলী পৌর কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT