রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

শনিবার ৩১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:০৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ সরকার বাজার শ্রমিক ইউনিয়ন গ্রুপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুলতান ও সম্পাদক সেলিম ◈ শেরপুর প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সাথে ইংল্যান্ডের কাউন্সিলর মর্তুজার মতবিনিময় ◈ রাজশাহীর দূর্গাপুর থানার ওসি খুরশিদা বানুর তৎপরতায় আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি ◈ নতুন দায়িত্বে নূরে আলম মামুন ◈ ভাষা সৈনিকের নাতি শুভ্র’র খুনীরা যতই শক্তিশালী হোক তারা রেহাই পাবে না…..গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ◈ ২ টাকার খাবারের কার্যক্রম এবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় ◈ মুজিববর্ষ উপলক্ষে ‘আলোর মিছিল’ এর স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচী পালন ◈ রাজশাহীতে মানবাধিকার রক্ষাকারী নেটওয়ার্ক সভা ◈ রায়পু‌রে পুকু‌রে প‌ড়ে দুই শিশুর করুন মৃত‌্যু ◈ পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে কাতার প্রবাসীর সংবাদ সম্মেলন

আওয়ামী লীগে সম্রাট আতঙ্ক

প্রকাশিত : ০৯:১৭ AM, ১ অক্টোবর ২০১৯ Tuesday ৮১ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ক্যাসিনো ও চাঁদাবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ হওয়ার ভয়েই ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগ সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের আটকের বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরুর দিন থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন, এ সময় লেনদেনের যে বর্ণনা ও যাদের নাম বলা হয়েছে, তা কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগে একাধিক মত রয়েছে। তারা কোনোভাবেই ঐকমত্যে আসতে না পারায় সম্রাটকে নিয়ে ধোঁয়াসা বেড়ে চলেছে।

সম্রাটকে গ্রেফতার প্রসঙ্গে বারবার বলা হলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে র‌্যাব-পুলিশের কর্তাব্যক্তিরা ‘সবুজ সংকেত’-এর অপেক্ষায় আছেন। দেশের শীর্ষ মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা মিথের সৃষ্টি হয়েছে। ক্ষমতা ব্যবহার করে ক্যাসিনো, চাঁদা ও টেন্ডারের বদৌলতে নিজে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন, বিলিয়েছেনও। যাদের আশীর্বাদে তিনি বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন, তারা কেউ পাশে নেই। মূলত সম্রাটের স্বীকারোক্তির দায় বহনের যে প্রভাব দলের ভাবমূর্তির ওপর পড়বে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই তাকে গ্রেফতার নিয়ে ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।

সম্রাটের অন্যতম সহযোগী দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া গ্রেফতারের পর থেকে আজও রিমান্ডে আছেন। অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে গুলশান ও মতিঝিল থানায় চারটি মামলা করা হয়। তিনি অকপটে সম্রাটসহ শীর্ষ নেতাদের নাম বলেছেন এসব অপকর্মের হোতা হিসেবে।

২০ সেপ্টেম্বর টেন্ডার মোগল যুবলীগ নেতা জি কে শামীম সাত দেহরক্ষীসহ গ্রেফতার হন। নগদ, এফডিআর, মার্কিন ডলার ও সিঙ্গাপুরি ডলার মিলে উদ্ধার হয় দেশি মুদ্রায় ২০০ কোটি টাকা। রিমান্ডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ভয়ংকর খুনি জিসান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র এবং টেন্ডার নিয়ে রাঘববোয়ালদের কমিশন নেওয়ার তথ্য তুলে ধরেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া আওয়ামী লীগের সবাইকে টাকা দিয়ে কেনা যায় বলে দাবি করেছেন তিনি। যুক্তি ও প্রমাণ নিয়ে তিনি দাবি করেছেন, প্রভাবশালী শীর্ষ নেতাদের সংশ্লিষ্টতার কথা। খালেদ-শামীম অকপটে তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় তালিকায় উপরে রেখেছেন সম্রাটকে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর সম্রাটের ক্যাসিনো কর্মী দক্ষিণের ওয়ার্ড যুবলীগের মাঝারি দুই নেতার বাসা থেকে নগদ পাঁচ কোটি পাঁচ লাখ টাকা ও আট কেজি ৬৩ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নড়েচড়ে বসে সবাই। যুবলীগ নেতাকর্মীদের বাসা, অফিসে টাকার স্তূপ, তাহলে মূল ক্রীড়নকের দখলে থাকা টাকার অংকটা কেমন হবে, তা নিয়ে কৌতূহল বাড়তে থাকে।

সবার মুখে সম্রাটের নাম। গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন ঢাকায় ১২টি গুরুত্বপূর্ণ ক্লাবসহ ১৭টি স্পটে ক্যাসিনো চলত সম্রাটের ইশারায়। প্রতিদিন এসব জুয়া থেকে তার নজরানা আসত কোটি টাকার উপরে। নিজের অফিসে ও কাকরাইলের একটি জায়গায় ‘অল ইন’ বা ‘চুঙ্গি ফিট’ আসর চালাতেন। টাকার বস্তা নিয়ে তিনি সিঙ্গাপুরে জুয়া খেলতে যেতেন। সেখানে ভিআইপি জুয়াড়ি হিসেবে খ্যাতি ও সমাদর রয়েছে।

ক্যাসিনোর সবখানে সম্রাটের নাম আলোচিত হলেও গতকাল পর্যন্ত কোনো মামলায় তার নাম নেই। সবমিলে র‌্যাবের অভিযানে ১৭টি মামলা হয়েছে গতকাল পর্যন্ত; কিন্তু একটিতেও আলোচিত এই নেতার নাম পাওয়া যায়নি।

খালেদ গ্রেফতার হওয়ার পরই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন, ছাত্রলীগের পরে এবার যুবলীগকে ধরেছি। তিনি সম্রাটের বিষয়ে ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু নিজের প্রভাব ও শক্তি দেখাতে অভিযানের শুরুতেই সম্রাট দল-বল নিয়ে কাকরাইলে নিজের কার্যালয়ে অবস্থান নেন। সেখানে কড়া প্রহরার মধ্যে থেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন প্রশাসনকে। মূলত সে সময় থেকেই তিনি প্রশাসনের নজরদারির মধ্যে, তবে গ্রেফতার ঘোষণায় দ্বিধায় পড়ে যায় সম্রাটের উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগে। সম্রাটের সুবিধাভোগীর তালিকায় প্রতিদিন রাতে কার্যালয়ের নিচে বিনামূল্যে ভরপেট খেতে পাওয়া অভুক্ত রিকশাচালক থেকে শুরু করে মন্ত্রী, এমপি, রাজনীতিবিদ, সংগঠনের নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন। প্রযুক্তির সহযোগিতায় সম্রাট তথ্য প্রমাণও ধরে রেখেছেন, এসব জানার পরে দ্বিধায় পড়ে যায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডাঙায় না তুলে বড়শিতে গেঁথে পানিতে রেখে খেলানোর মতোই তারা সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে।

গ্রেফতার সুগম করতে স্ত্রীসহ সম্রাটের ব্যাংক হিসাব তলব, সাগরেদদের আটক ও স্বীকারোক্তি আদায়সহ দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ‘সময় হলেই দেখতে পাবেন’-এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রীও বলেছেন ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’। সবাই অপেক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরা নিয়ে।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সাহেবনগর গ্রামে জন্ম নেওয়া সম্রাট বাবা হারিয়েছেন বছরখানেক আগে। ঢাকাতে এক ভাই বাদল যুবলীগ ও ছোট ভাই রাশেদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। মা থাকেন বড় ভাইয়ের বাসায়, নিজে পরিবার নিয়ে সর্বশেষ ছিলেন ডিওএইচএসে।

নব্বইয়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সম্রাট ছাত্রলীগের নেতা হিসেবে রমনা এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সে সময় নির্যাতন ও জেল খাটেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে একাধিক মামলার আসামি হতে হয়। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের বিজয়ে ভূমিকা ও প্রভাবশালী যুবলীগ নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছা ছিল, সেখান থেকে বঞ্চিত হয়ে নজর দিয়েছিলেন দক্ষিণের মেয়রের চেয়ারে। গত মেয়র নির্বাচনে অর্ধশত কাউন্সিলর মনোনয়ন ও তাদের বিজয়ে সহযোগিতা করেন সম্রাট।

হকার উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য দক্ষিণের মেয়রের সঙ্গে সম্রাটের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে মতিঝিল, গুলিস্তান ও পল্টন এলাকার অভিযান নিয়ে। ফুটপাতে দোকান বসানোর সুযোগ দিয়ে তার লোকেরা প্রতিদিন চাঁদা তুলতেন। টেন্ডার, ক্যাসিনো ও দলীয় পদ বিক্রির বাইরে প্রতি মাসে মোটা টাকা যোগ হতো এ খাত থেকে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT