রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০২:৪১ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম
◈ রাজশাহীতে রাটা’র প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত ◈ মোড়ক উম্মোচন হলো উন্মেষ সাহিত্য সাময়িকীর ‘বিজয় সংখ্যা ২০২০’ ◈ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ◈ শাহজাদপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ৫ ও কাউন্সিলর ৬০ জন প্রার্থী ◈ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণে বিরোধীতার প্রতিবাদে সোনারগাঁয়ে বিক্ষোভ ◈ মধ্যনগরে বসবাসরত পঙ্গু গোপেন্দ্র দাস খাস ভূমি বন্দোবস্ত চায় ◈ সরকারের বিরুদ্ধে যেকোনো ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করা হবে: এমপি শাওন ◈ বিশ্ব এইডস দিবস : ভয়াবহ মরণব্যাধি এইডস ◈ ভিবিডি গোপালগঞ্জ জেলা কর্তৃক আয়োজিত “আনন্দ আহার” ◈ সম্প্রীতির হবিগঞ্জ সংগঠনের জেলা শাখার সিনিয়র সদস্য নির্বাচিত হলেন শুভ আহমেদ

অস্বস্তি নয় হোক স্বস্তির

প্রকাশিত : ০৫:৪১ AM, ২২ অক্টোবর ২০২০ Thursday ৫৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

সারা বিশ্ব করোনা নামক এক অদৃশ্য ভাইরাসের কাছে বন্দি। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় ১০ মাস ধরে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। বিশেষ করে করোনাভাইরাস একজন আরেকজনের কাছাকাছি অবস্থান করলে ছড়ায় বলে নিজেকে রাখতে হয় দূরত্ব মেনে। আর এই দূরত্ব মেনে চলতে গিয়ে মানুষ তার প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হন না। তবে এর জন্য জীবনযাত্রা থেমে নেই। সবাই নিজ নিজ প্রয়োজনে তার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনছেন। তবে এখন আর মানুষজন আগের মতো মার্কেটে দিয়ে শপিং করতে তেমন একটা আগ্রহী নন। কারণ নিত্যপ্রয়োজনীয় অনেক পণ্য এখন অনেকে অনলাইনে কিনতে বেশি আগ্রহী। বর্তমানে করোনার কারণে হয়তো মানুষ অনলাইনে কিনতে বেশি আগ্রহী। তবে শুধু করোনার কারণে নয়, কয়েক বছর ধরে অনলাইনে কেনাকাটার দিকে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। এর পেছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। প্রধান কারণ হলো, সময় সাশ্রয়। পাশাপাশি রয়েছে যানজটের নিত্য ঝামেলা। এসব কারণে দোকানে গিয়ে কেনার বদলে ঘরে বসেই কিনে ফেলার সুযোগ নানাদিক থেকেই কর্মজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সবার জন্যই সুবিধাজনক। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের। আর এই সুযোগটা করে দিয়েছে ই-কমার্স। কম্পিউটারে বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসেই তার হাতের মুঠোয় নিজের পছন্দের পণ্যটি বেছে নিয়ে কেনা সম্ভব হচ্ছে।

অনলাইন শপিং কোম্পানিগুলোতে অর্ডার করার কয়েক ঘণ্টা বা অল্প সময়ে বা এক বা দুই দিনের মধ্যে বাড়ি এসে অর্ডার করা পণ্য গ্রাহককে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি এখন বিশ্বজুড়ে। এমনকি যে কেউ ঢাকায় বসে বিদেশি পণ্যও কিনতে সক্ষম। এর জন্য তার সেই দেশে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ছে না। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রগতির পাশাপাশি ইন্টারনেট সহজলভ্য হয়েছে। এ ছাড়া স্মার্টফোন বিশ্বকে এনে দিয়েছে মুঠোয়। দৈনন্দিন জীবনে রয়েছে এর সুফল প্রভূত। এখন প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে ঘুমুতে যাওয়া পর্যন্ত প্রতি মুহূর্তে আমাদের প্রয়োজন ইন্টারনেট সুবিধার স্মার্টফোনের ব্যবহার। এটা ছাড়া আমরা বলতে গেলে একেবারেই অচল। কেননা, স্মার্টফোনের কল্যাণে প্রতিদিন মুহূর্তে যেখানে-সেখানে বসে বিশ্বের সব খবর পেয়ে যাচ্ছি হাতের মধ্যে। পত্রিকা পড়া, লাইভ টিভি দেখা সবকিছুই সম্ভব অনলাইনের মাধ্যমে।

এগুলো ছিল পুরোনো খবর। তবে নতুন খবর হলো, এখন মানুষ ঘরে বসেই সব দরকারি পণ্য কিনতে পারছেন। যা আগে সম্ভব ছিল না। বাজারে গিয়ে নানা ঝামেলার মধ্যে তাকে কিনতে হতো তার পছন্দের পণ্যটি। এখন যা ঘরে বসেই সম্ভব। এটা অবশ্যই একটি ইতিবাচক দিক। বাস্তবতা হলো ইন্টারনেটের বহুল ব্যবহারের কারণে আমাদের দেশে অনলাইন মার্কেটিংয়ের ব্যবসা বেশ জমে উঠেছে। দিন দিন এর গ্রাহক সংখ্যাও প্রত্যাশার চেয়ে বাড়ছে। এটা সত্যিই আনন্দের খবর। তবে এমন খবরের পেছনে বিপরীতে কিছু সংকটও দেখা দিয়েছে। এই সংকট বস্তুত অনলাইন বাজারকেন্দ্রিক। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অনলাইন মার্কেটিংয়ের নামে প্রতারণা করে শতকোটি টাকা আত্মসাৎ করে নিচ্ছেন। সহজ সরল মানুষকে বোকা বানাছেন। মানুষও প্রথম প্রথম না বুঝে প্রতারিত হচ্ছেন। এটা ভবিষ্যতের জন্য অবশ্যই সংকটের কারণ। তবে এমন প্রতারণা অনলাইনের মতো সম্ভাবনাময় খাতকে শঙ্কায় ফেলবে নিঃসন্দেহে। কারণ অনেক শিক্ষিত বেকার যুবকরা এখানে যুক্ত হচ্ছেন। বিশেষত শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যাচ্ছে এই খাতে। অল্প সময়ে অনলাইন শপিং বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছে। ইন্টারনেট সংযোগ সম্প্রসারিত হওয়ায় ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ছেন এই ব্যবসা। লাভের মুখও দেখছেন অনেকে। কিন্তু গুটিকয়েক অসাধু মানুষের এহেন কর্মকান্ডে গোটা অনলাইন মার্কেটিং ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পরছে। এটা সত্যিই ভয়ের কারণ। কেননা, এখনো প্রত্যাশিতভাবে সেভাবে জমে উঠেনি অনলাইন মার্কেটিং। কিন্তু তার আগেই যদি এমন কর্মকান্ডের কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে অঙ্কুরেই বিনাশ ঘটবে সম্ভাবনাময় এই খাতটি।

এমন অনেক অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে ক্রেতা তার পছন্দের পণ্যের অর্ডার করলেও বিনিময়ে তাকে কাক্সিক্ষত পণ্যটি দেওয়া হচ্ছে না। তবে পণ্য হাতে পাওয়ার পর এ নিয়ে অভিযোগের যেন শেষ নেই ক্রেতাদের। বিশেষ করে ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত ছবির সঙ্গে পণ্যের মিল থাকে না। যে রকম পণ্যের ছবি দেখে তারা অর্ডার করেছেন, সে রকম পণ্য পাঠানো হচ্ছে না। ক্ষেত্রভেদে খুবই নি¤œমানের পণ্য পাঠানো হয়। যেসব পণ্যের বিষয়ে এ ধরনের অভিযোগ বেশি পাওয়া যায় তা হলো মোবাইল হ্যান্ডসেট, হাতঘড়ি, ব্লেজার, শাড়িসহ অন্যান্য পণ্য। শুধু তাই নয়, দেওয়া হচ্ছে অন্য মানহীন পণ্যও। কখনো কখনো কিছু প্রতারক কাক্সিক্ষত পণ্যের বদলে মাটি বা ইট পাঠানোর ঘটনারও জন্ম দিচ্ছেন। এটা ভয়ানক খবর। ক্রেতাকে ঠকানো হচ্ছে। ক্রেতা এর প্রতিকার চাইলে পরবর্তীতে তাকে দেওয়া হয় হুমকি। এর ফলে যেসব ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছেন তারা আর এই দিকে অগ্রসর হন না এবং পাশাপাশি পরিচিতজনদেরও এ পথে আসতে নিষেধ করেন। তবে সবাই যে এমনটা করছেন, তা কিন্তু নয়। যারা প্রতারণা করছেন তাদের সংখ্যা সীমিত। কিন্তু এই সীমিত সংখ্যার অসীম অন্যায় অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়ে এগিয়ে যাওয়ার মানুষের সংখ্যাও নেহায়ত কম নয়। এটা সৎ অলনাইন শপিং ব্যবসায়ীদের জন্যও অস্বস্তির।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তা হলে এর থেকে প্রতিকার কীভাবে সম্ভব? অবশ্যই সম্ভব। কিন্তু তার আগে নিতে হয়ে কিছু কার্যকর ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। সবার আগে যা প্রয়োজন তা হলো গ্রাহকদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। ক্রেতা যেন বিশ্বাস করেন তিনি যে পণ্যটি কিনছেন তা কিনে তিনি প্রতারিত হবেন না। এই নিশ্চয়তা সবার আগে প্রয়োজন। এ বিষয়ে অবশ্য যারা ব্যবসা করছেন তারাই নিশ্চয়তা দেবেন। তাদের ব্যবসা জনপ্রিয়তা করতে এটা জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন নিরাপত্তা। অনেক সময় দেখা যাচ্ছে, পণ্যটি অর্ডার করার পরও গ্রাহক তার পণ্যটি যথাসময়ে পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে নিরাপত্তা নিশ্চত করতে হবে এবং সর্বোপরি এ বিষয়টি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা প্রয়োজন। ইদানীং অনলাইনে অর্ডার দিয়ে প্রত্যাশিত পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ ক্রমে বাড়ছে। তাই কিছু প্রতারক এই সময়ে বেশি করে প্রতারণার সুযোগ নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে তাই এখনই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে আইনগত ব্যবস্থার পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচিও নেওয়া জরুরি। এর সঙ্গে আরো একটা বিষয় জানানো প্রয়োজন, এই ভার্চুয়াল বাজারের পণ্যের উৎস সম্পর্কে আমরা ওয়াকিবহাল নই। ভুঁইফোড়ের মতো গজিয়ে ওঠা বাজারে বিক্রীত পণ্য থেকে সরকার কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না। বাস্তবতা হলো, বাজারটা কিন্তু খুব ছোট নয়। এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ই-কমার্স বাজারের আকার বছরে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বেশি। গড়ে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ হাজার ক্রেতা অনলাইনে পণ্যের অর্ডার দেন। এই পরিসংখ্যান অন্যান্য দেশের তুলনায় হয়তো কম। কিন্তু দিন দিন এর হার বাড়ছে।

এখন এর জন্য প্রয়োজন সঠিক উদ্যোগ নেওয়া। আরো একটি বিষয়। অনেক বিদেশি পণ্য চোরাই পথে আসছে। ফলে সেখান থেকেও রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। পাশাপাশি পণ্যের মানের নিশ্চয়তা এই বাজারের স্থিতির পূর্বশর্ত সেটা মানতেই হবে। তবে ইচ্ছামতো সাইট খুলে বা ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খুলে ব্যবসা শুরুকে আটকানো প্রয়োজন। এজন্য চাই প্রয়োজনীয় নিবন্ধন। পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স আর ভ্যাট নিবন্ধনও। এজন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে সংকট বাড়বে বৈ কমবে না। সময়োপযোগী আর সম্ভাবনাময় এ খাতের বিকাশ সবার কাম্য, কয়েকজন অসাধুর জন্য অঙ্কুরে বিনাশ নয়। অনলাইনে শপিং সবার জন্য অস্বস্তি নয়, হোক স্বস্তির নাম।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT