রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

অসময়-দুঃসময়ে সব রাজনৈতিক দল

প্রকাশিত : ০৭:৫০ AM, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২৬০ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

 

অসময়ে আওয়ামী লীগ। দুঃসময়ে বিএনপি। ভালো নেই জাতীয় পার্টিও। অন্য দলগুলোতে নেই প্রাণ। সব মিলিয়ে অসময়-দুঃসময় পার করছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ হ্যাটট্রিক সময়ে এসে বিপর্যয়ে রয়েছে। ছাত্রনেতারা চাঁদাবাজির অভিযোগে পদ হারাচ্ছেন। জুয়ার আসর ক্যাসিনো প্রতিষ্ঠায় দলের শীর্ষ ব্যক্তিদের নাম আসছে। অনেকে বহিষ্কৃত হচ্ছেন। প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিরাও বালিশ-পর্দাসহ নানান কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন। সমাধানে পৌঁছতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে।

অন্যদিকে ভালো নেই সংসদের বিরোধীদল জাতীয় পার্টিও। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর এরশাদের স্ত্রী রওশন এরশাদ ও ছোট ভাই জিএম কাদেরের দ্বন্দ্ব স্পষ্ট হওয়ার পর দল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও বড় আঘাত পেয়েছেন। দেবর-ভাবি সমঝোতায় এলেও ক্ষমতার জন্য এ দলের দ্বন্দ্বের চরিত্র সবার জানা। শুধু পদের জন্যই রুহুল আমিন হাওলাদেরকে নিয়ে নাটকের চরিত্রটাও অঙ্কিত।

অন্যদিকে দুঃসময়ে এক সময়ের ক্ষমতাধর, রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দেয়া বিএনপিও। দলের প্রধান বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে দীর্ঘ সময় কারাগারে। এই দলের নেতাদের অভিযোগ— খালেদা জিয়া কারাগারে ভয়ানক অসুস্থ, যেকোনো সময় ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। তিনি এখন দাঁড়াতে পারেন না, চলতে পারেন না। হুইল চেয়ারই একমাত্র ভরসা। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে লন্ডন থেকে তারেক জিয়া এই দলের নেতৃত্ব দিলেও নেই সমন্বয়। খালেদা জিয়ার মুক্তিতে দলের কর্মসূচি নেয়ার ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের নীরবতায় তৃণমূলের নেতারা এই দলের অনেক শীর্ষ ব্যক্তিকেই সন্দেহ করেন। অনেকের ধারণা, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকারের সঙ্গে সমঝোতা ও বন্ধুদেশের প্রেসক্রিপশনে বিএনপিকে চালাচ্ছেন। তাই খালেদার মুক্তিতে দীর্ঘ সময়েও আসছে না কার্যত সিদ্ধান্ত।

এদিকে বামপন্থি-ইসলামপন্থি দলগুলোও অন্যের ইশারায় চলায় দেশের রাজনৈতিক চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল থেকে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে সব দলের আস্থা ভেঙে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগে সাধারণ জনগণ আস্থা রাখলেও এই দলের চলমান কর্মচরিত্রে সবাই হতাশ। কোটি টাকার চাঁদার অভিযোগে সমপ্রতি ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে পদ হারাতে হলো। সেই রেশ না কাটতেই অবৈধভাবে জুয়ার ক্যাসিনো চালানোর অপরাধে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া আটকের পর বহিষ্কার হলেন।

এছাড়া যুবলীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীম এক কোটি ৮০ লাখ টাকা ও প্রায় ২০০ কোটি টাকার এফডিআর চেক, লাইসেন্সবিহীন অস্ত্র, মাদকসহ আটকের ঘটনা নিয়েও বিব্রত আওয়ামী লীগ। এখনো ক্যাসিনো চালোনোর অভিযোগে নাম রয়েছে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর এ কে এম মোমিনুল হক সাঈদসহ অনেকের। তিনবারের রাষ্ট্র নেতৃত্বে থাকা এই দলের অন্য সেক্টরগুলোতেও চলছে দুর্নীতির মহোৎসব। প্রতিদিনই গণমাধ্যমে প্রচার হচ্ছে দুর্নীতির খবর। কখনো বালিশ, কখনো পর্দা, কখনো টেন্ডারে আকাশচুম্বী দুর্নীতি।

এ নিয়ে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দেশের জনগণ রাজনীতি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য ভালো সময় যাচ্ছে না। রাজনীতির এমন সময় দেশের জন্য বড় হুমকির। নিরাপত্তা শঙ্কায় পড়তে পারে বাংলাদেশ। সচেতন জনগণ এখন রাজনীতিবিদদের এড়িয়ে চলছেন। কারণ রাজনৈতিক ব্যক্তিরা অনুচিত কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। যার ফলে দেশে একটা অনিয়ম চলছে, বিশৃঙ্খলা চলছে। অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে এগুচ্ছে এক সময়ে স্বচ্ছ রাজনীতির বাংলাদেশ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল মো. আব্দুর রশীদ আমার সংবাদকে বলেন, সাধারণ মানুষ বিষয়ভিত্তিক চিন্তা করেন। প্রতিটি বিষয়ে তাদের আবেগ-অনুভূতির বিশ্লেষণ থাকে। জাতীয় পার্টিতে যা হলো, ছাত্রলীগে যা ঘটলো, এখন ক্যাসিনো ঘটনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতির শীর্ষ ব্যক্তিরা জড়িয়ে পড়ার খবরে জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ছাত্রলীগের প্রশ্নবিদ্ধ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে নতুন নেতৃত্ব উপহারে স্বস্তিতে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আস্থা রাখার কাজ করেছেন। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর কোন্দল, বিরোধ, ভুলত্রুটি প্রকাশ পাওয়ায় জনগণের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতায় হেরফের হচ্ছে। কিছুটা আস্থার সংকট তৈরি হচ্ছে, এটি অনুমান করা যায়। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কিছু আচরণে জনগণ রাজনীতিবিদদের এড়িয়ে চলছেন, তবে সবাইকে নয়।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হাফিজ উদ্দিন খান আমার সংবাদকে বলেন, বাংলাদেশে সব রাজনৈতিক দলে দুর্নীতি আছে। কেউ দুর্নীতি থেকে মুক্ত নয়। এটা এখন বলার অপেক্ষা রাখে না, কারা দেশ চালায় এ দেশের জনগণ জানেন। দুর্নীতিবাজদের হাতেই এ দেশের সাধারণ জনগণ। যতক্ষণ না দুর্নীতিমুক্ত রাজনীতি হবে ততক্ষণ এ দেশের মানুষের আস্থা রাজনীতিবিদদের ওপর আসবে না। তাই জনগণের আস্থা পেতে হলে আগে রাজনীতিবিদদের দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, রাজনৈতিক দলের ব্যক্তিরাই অনুচিত এমন অনেক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। ছাত্রলীগের ঘটনা ও ক্যাসিনো পরিস্থিতির পর প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকার কারণে তার জনপ্রিয়তা আরও অনেক বেড়ে গেছে। আস্থা এবং ভরসার জায়গায় প্রধানমন্ত্রী অনেক ওপরে চলে গেছেন। রাজনীতিবিদরা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারলে, তৎপর হলে তাদের ইমেজ অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে। অন্যথায় জনগণের বিচারে তিরস্কৃতও হতে পারেন।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী আমার সংবাদকে বলেন, দুর্নীতির দায়ে ছাত্রলীগ সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে পদ ছাড়তে হলো, এখন রাজধানীতে কোটি কোটি টাকার জুয়ার আসর, কিংবা উচ্চাভিলাসী ক্যাসিনো কারা নিয়ন্ত্রণ করতো এই সরকার জানতো। সমপ্রতি যে ঘটনা ঘটছে তা সরকারের আত্মরক্ষা বলেও দাবি করেন এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, অন্য দলগুলো যেমন আমার শুভানুধ্যায়ী তেমনি শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগেরও শুভানুধ্যায়ী। তাই বলছি, শেখ হাসিনা এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে, অনিয়মের বিরুদ্ধে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন তা জনগণের আস্থা অর্জনের জন্যই করছেন। জানা জিনিসগুলোকে সামনে এনে প্রকাশ করছেন। সরকারের আস্থার পাশাপাশি আরও একটা শ্রেণী লাভবান হবে। আর তা হলো পুলিশ প্রশাসন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী মনে করেন, এর মাধ্যমে পুলিশের কমপক্ষে একশ কোটি টাকা বাণিজ্য বেড়ে যাবে।

ক্ষমতাসীন সরকারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, আমি এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, তার পুত্র তারেক জিয়াকেও বলেছি এমন কথা। আপনারা কিছু কাজ করেন, তা হলো আপনাদের সিদ্ধান্ত ঠিক কিন্তু প্রক্রিয়া ভুল। তেমনি আজ শেখ হাসিনাকেও বলবো, সমপ্রতি প্রধানমন্ত্রী যা করছেন তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। ছাত্রলীগ অপরাধ করছে তাদের পদ ছেড়ে দিতে হচ্ছে, যুবলীগ আটক হচ্ছে তারা বহিষ্কার হচ্ছে, তার দলে এমন অগণতান্ত্রিক শাসন হওয়া উচিত নয়। যারা দোষ করছে তাদের আত্মপক্ষের সুযোগ দিতে হবে। সব মিলিয়ে বলবো, দেশে একটা অনিয়ম চলছে, বিশৃঙ্খলা চলছে। ক্ষমতাসীন দলেও নিয়ম নেই, সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টিতেও দ্বন্দ্ব। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুর পর আমরা সেটি দেখতে পেয়েছি। আর খালেদা জিয়া বন্দি হওয়ার পর থেকে তো এই দলও কঠিন সময় পার করছে। তাই আমি বলবো, বাংলাদেশে রাজনীতির জন্য ভালো সময় যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষ রাজনীতির এই দৃশ্যপট নিয়ে গভীর উদ্বেগে আছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT