রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২০, ১৩ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

অযৌক্তিক ব্যয়ে কেনা হচ্ছে ২শ রেলকোচ

প্রকাশিত : ০৫:৫৬ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Sunday ২০২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বাংলাদেশ রেলওয়েতে ব্রডগেজে প্রায় ৪৪ শতাংশ আয়ুষ্কালহীন যাত্রীবাহী বগি বা কোচ রয়েছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০০ বগি কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে প্রতিটি কোচ চলমান প্রকল্পের চেয়ে প্রায় দুই কোটি টাকা বেশি দাম নির্ধারণ করেছে।

এই বাড়তি ব্যয়ের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এটা অনেক বেশি, তা কমাতে হবে। শুধু তাই নয়, এ প্রকল্পে গাড়ি কেনা না হলেও রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে। এভাবে বিভিন্ন খাতে অযৌক্তিক ব্যয় ধরায় পরিকল্পনা কমিশন আপত্তি জানিয়ে তা সংশোধন করতে বলেছে।

এই প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। উন্নতমানের কোচ কেনার জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় একটি প্রকল্প প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠায়। তা যাচাই-বাছাই করতেই গত বৃহস্পতিবার প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এসব অসঙ্গতি ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে রেল সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেনের সঙ্গে গতকাল যোগাযোগ করা হলে তার ফোন বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন ও পরিকল্পনা বিভাগ) মোহাম্মদ জিয়াউর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথমে বলেন, ‘ব্যস্ত আছি, পরে কথা বলব’। পরে টিএন্ডটি থেকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। মহাপরিচালক মো. শামছুজ্জামান বিদেশে থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।

তার দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত পরিচালক মো. সৈয়দ ফারুক আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘অন্য প্রকল্পের সঙ্গে এর ব্যয় মিলবে না। কারণ এ প্রকল্পে ২০০ কোচের মধ্যে প্রেসিডেন্টের জন্যও হাইফাই কোচ কেনা হবে। এ ছাড়া টুরিস্টদের জন্য ব্যয়বহুল কোচ কেনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।’

রেলপথ মন্ত্রণালয়সহ একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ৪২৮টি ব্রডগেজ কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ১৮৭টির আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে গেছে। যা মোট বগির প্রায় ৪৪ শতাংশ। আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে সব পুরাতন কোচ হস্তান্তর করা হবে। এ ছাড়া পদ্মা সেতু, আলাদা যমুনা রেল সেতু চালু এবং পাশের দেশের সাথে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাও চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য আগামী দুই থেকে চার বছরের মধ্যে প্রায় ৪০০ পুরাতন ও মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী ক্যারেজ (কোচ) বদলানো হবে।

তবে সার্বিক দিক বিবেচনা করে বর্তমানে আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নতমানের ২০০ যাত্রীবাহী ব্রডগেজ কোচ যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে রেলওয়ে মন্ত্রণালয়। ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও রংপুর বিভাগের মধ্যে চলাচলকারী ব্রডগেজে এসব কোচ ব্যবহার করা হবে। এ জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে এক হাজার ৭৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০ কোচ কেনা হবে। এতে ইউরোপীয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের ঋণ ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় করা হবে। ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুনে এসব কোচ কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ জন্য রেলপথ মন্ত্রণালয় ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সংগ্রহ’ নামে একটি প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। তা যাচাই-বাছাই করতে সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় রেল মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে— প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার জন্য নিজস্ব লোকবল দিয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে।

অথচ সেই ব্যয় এবং উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রণয়ন, এমনকি চুক্তি স্বাক্ষরের ব্যয়ও এ প্রকল্পে ধরা হয়েছে। যা মোটেই ঠিক হয়নি। তা সংশোধন করতে হবে বলে সভায় বলা হয়। শুধু তাই নয়, প্রতিটি ব্রডগেজ কোচে ব্যয় ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অথচ এবিডির অর্থে সমজাতীয় একই ধরনের ৫০টি ব্রডগেজ কোচের প্রতিটি চার কোটি ৬১ লাখ টাকা করে কেনা। অর্থাৎ প্রস্তাবিত এ প্রকল্পে প্রতিটি কোচে বেশি অর্থ ব্যয় ধরা হয়েছে এক কোটি ৭৫ লাখ টাকা। প্রস্তাবিত এ দর অত্যধিক এবং অযৌক্তিক বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, প্রকল্প প্রস্তাবে কোনো গাড়ি কেনার কথা বলা না হলেও বিভিন্ন গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি বাবদ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এটা বিভ্রান্তিমূলক। তাই স্পষ্ট হওয়া দরকার বলে সভায় রেল মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়। আগেই নিজস্ব লোকবল নিয়ে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চালানো হয়েছে, সেই ব্যয়ও ধরা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি মন্ত্রণালয়ের অর্থে করা হলেও সেই ব্যয়ও ধরা হয়েছে। এমনকি ঋণদাতা সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করতে যে অর্থ ব্যয় হবে, তাও যুক্ত করা হয়েছে এ প্রকল্পে। যা মোটেই ঠিক নয়। তা সংশোধন করতে হবে বলে সভায় জানানো হয়। এভাবে বিভিন্ন খাতে এটা-সেটা ব্যয় দেখানো হয়েছে। তা অযৌক্তিক হওয়ায় এসব সংশোধন করতে হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT