রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০, ৬ই কার্তিক, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৭:৫১ পূর্বাহ্ণ

অনুপ্রবেশে আক্রান্ত আওয়ামী লীগ

প্রকাশিত : ০৭:৪৪ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ Monday ১১৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শোষণ ও বৈষম্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতির মূলমন্ত্র। জনগণের মুক্তির এই মন্ত্রে উজ্জীবিত করেই গণমানুষকে সঙ্গে নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দিয়েছে দলটি। কিন্তু ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগ যেন একশ্রেণির নেতাকর্মীর দুর্নীতি-অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খলতার জাঁতাকলে বন্দি হয়ে পড়েছে। অসৎ ও লোভী এসব নেতা নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থে জলাঞ্জলি দিচ্ছে দল আর দেশের স্বার্থ।

যে কোনো মূল্যে অবৈধ উপায়ে অর্থ আয় করে সমাজের মধ্যে একটা অস্থিরতা ও বৈষম্য সৃষ্টি করছে। এর বিপরীতে যারা আওয়ামী লীগের আদর্শকে লালন করে সৎভাবে রাজনীতি করছেন তারা হয়ে পড়েছেন কোণঠাসা। বেপরোয়া ও মনোস্টার বনে যাওয়া নেতাদের লাগাম টেনে ধরতে আওয়ামী লীগে শুরু হয়েছে শুদ্ধি অভিযান।

চলমান শুদ্ধি অভিযানে যারা ধরা পড়ছে তাদের একটা অংশ আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশকারী। বিভিন্ন সময়ে এসব নেতাকে হাইব্রিড, সুবিধাভোগী, কাউয়া নেতা বলা হলেও দলের প্রভাবশালী নেতারাই তাদের দলে টেনে এনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়েছে, পৃষ্ঠপোষকতা করেছে।

এসব অনুপ্রবেশকারীতে রীতিমতো আক্রান্ত আওয়ামী লীগ। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতাদের মাধ্যমে প্রবেশ করে ক্যাসিনো কেলেঙ্কারি, টেন্ডারবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতির মাধ্যমে প্রচুর টাকা কামিয়েছেন তারা। এসব টাকার বড় অংশই তারা পাচার করেছেন বিদেশে। আওয়ামী লীগ ও দলের নেতাদের ব্যবহার করেই সম্পদের পাহাড় গড়েছেন অনুপ্রবেশকারীরা। শুধুই সুবিধা নেওয়া এসব নেতার অপকর্মের কারণে দুর্নামের ভাগী হতে হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারকে।

অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে আওয়ামী লীগের তৃণমূলে ক্ষোভ বহু বছরের। ২০০৮ সালে ক্ষমতার পালাবদলের ডামাডোলে অনেকেই ভোল পাল্টে আওয়ামী লীগে প্রবেশ করে। তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্কহীন অনেক নেতাই নিজ দলের প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিএনপি-জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীকে আওয়ামী লীগে নিয়ে আসে। ছলেবলে কৌশলে এসব লোকই একসময় নানা অপকর্মের মাধ্যমে প্রভাবশালী নেতা বনে গেছেন। কেউ কেউ এমপি পর্যন্তও হয়েছেন। আওয়ামী লীগে এলেও এসব অনুপ্রবেশকারীর বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে সখ্য রয়েছে। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রাক্তন দলের নেতাদের অর্থ সহায়তা দিয়েছেন। আবার সুযোগ বুঝে অপকর্মের মাধ্যমে সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগে এ রকম অনুপ্রবেশকারী নেতাকর্মীর সংখ্যা ৫০ হাজারের কম নয়। অন্যদল থেকে আসা বড় এ সংখ্যক নেতাকর্মী নিয়ে উভয় সংকটে আছেন আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড। কেননা, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে অনেক প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতা খর্ব হয়ে যাবে। তবে অনুপ্রবেশকারী কিংবা আওয়ামী লীগের অকৃত্রিম সভ্য যেই হোক না কেন, অসৎ-দুর্নীতি-অনিয়ম-উচ্ছৃঙ্খলতায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ মাসের মাঝামাঝিতে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতাকে চাঁদাবাজির অভিযোগে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যুবলীগ নেতাদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে নিউইয়র্কের ম্যারিয়ট মারকুইজ হোটেলে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় প্রধানমন্ত্রী চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে তার অবস্থান ফের পষ্ট করেন। তিনি বলেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট বলতে চাই, এই অসৎ পথ ধরে কেউ উপার্জন করলে, অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতা বা অসৎ কাজে যদি ধরা পড়ে, তবে সে যেই হোক না কেন, আমার দলের হলেও ছাড় হবে না, এর বিরুদ্ধে আমাদের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ব্যাপকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প নিচ্ছি। যে পরিমাণ উন্নয়ন প্রকল্প আমরা নিচ্ছি, তার প্রতিটি টাকা যদি সঠিকভাবে ব্যয় হতো, ব্যবহার হতো, আজকে বাংলাদেশ আরও অনেক বেশি উন্নত হতে পারত। এখন আমাকে খুঁজে বের করতে হবে এখানে কোথায় লুপহোল, কোথায় ঘাটতিটা, কারা কোথায় কীভাবে এ জায়গাটা ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় শুদ্ধি অভিযান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কড়া বার্তার পর ক্যাসিনো, বার ও টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে অভিযানে নামে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব অভিযানে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষকলীগ ও বিসিবির পরিচালকসহ বেশ কয়েকজন নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। কয়েকজনের ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে, বিদেশযাত্রায়ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এ অভিযানের মধ্যেই চলমান অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরূপ মন্তব্যও করেন জাতীয় সংসদের একজন হুইপ।

গ্রেফতারদের মধ্যে তিনজনকে পাওয়া গেছে, যারা এক সময় ভিন্ন মতাদর্শের রাজনীতি করতেন। এদের একজন এক সময় বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ফারুক-রশীদদের হাতে গড়া ফ্রীডম পার্টির ক্যাডার ছিলেন। অন্য দুজন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদিকে অবৈধ ক্যাসিনো ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান যখন সবখানেই সমাদৃত হচ্ছে তখন জাতীয় সংসদের হুইপ ও পটিয়ার আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী অভিযানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কড়া বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এ সূত্র ধরেই বেরিয়ে আসে তিনি এক সময় যুবদলের রাজনীতি করতেন।
শুদ্ধি অভিযানে প্রথম গ্রেফতার হন ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া।

রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবে বসানো ক্যাসিনো পরিচালনা করতেন তিনি। এ ছাড়া ১৫টি ক্যাসিনো থেকে চাঁদা পেতেন তিনি। অবৈধভাবে ক্যাসিনো চালানোর পাশাপাশি তার গুলশানের বাসায় অভিযানে মেলে বিপুল পরিমাণ টাকা, বিদেশি মুদ্রা, ইয়াবা ও অবৈধ অস্ত্র। আর রাজধানীর কমলাপুরে মেলে তার টর্চার সেল। এ সব ঘটনায় খালেদের বিরুদ্ধে চার মামলা হয়।

র‌্যাবের হাতে গ্রেফতারের পর খালেদকে যুবলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়। খালেদের বাবা এক সময়কার বিএনপিপন্থি প্রভাবশালী আইনজীবী আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। ছেলেবেলা থেকেই বেপরোয়া খালেদ বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি রশীদ-ফারুকের ফ্রীডম পার্টির ক্যাডার হয়ে ১৯৮৯ সালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার বাড়িতে গুলি ও বোমা ছোড়ে। ভয়ঙ্কর প্রকৃতির খালেদ শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হলেও আইনজীবী বাবার কল্যাণে বেঁচে যান। ফ্রীডম পার্টির এই সশস্ত্র ক্যাডার এক সময় যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের হয়েও রাজনীতি করেছেন তিনি। ২০০৮ সালে ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর ২০১০ সালে খালেদ যুবলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। অচিরেই খিলগাঁও বাজার কমিটির সভাপতি হন। যুবলীগে প্রথমে তাকে শাহজাহানপুর থানা শাখার সভাপতি পদ দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তিনি মহানগরের সাংগঠনিক পদ দাবি করেন। ২০১২ সালের পর মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের ছত্রছায়ায় ঢাকার এক অংশের নিয়ন্ত্রণ আসে খালেদের হাতে।

২০১৭ সালের পর সম্রাটের আশীর্বাদে মতিঝিল, ফকিরাপুলের কমপক্ষে ১৭টি ক্লাব নিয়ন্ত্রণে নেন খালেদ। এর মধ্যে ১৬টি ক্লাব নিজের লোকজন দিয়ে আর ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাব সরাসরি তিনি পরিচালনা করতেন। প্রতিটি ক্লাব থেকে প্রতিদিন কমপক্ষে এক লাখ টাকা করে নিতেন তিনি। এসব ক্লাবে ক্যাসিনোর পাশাপাশি ছিল মাদকের ছড়াছড়ি। পাওয়া যায় ইয়াবাও।

চলমান অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ঢাকার টেন্ডার মোগল হিসেবে পরিচিত জি কে শামীম এক সময় যুবদল করতেন। বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস যখন গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সে সময়েই তার ঠিকাদারিতে প্রবেশ। ধূর্ত শামীম একসময় টেন্ডারবাজিতে পটু হয়ে ওঠেন। গণপূর্তের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাকে তিনি ঘুষের মাধ্যমে ম্যানেজ করার কৌশল আয়ত্তে নেন।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি রাজনৈতিক ভোল পাল্টিয়ে ফেলেন। মির্জা আব্বাসের ঘনিষ্ঠ থেকে আওয়ামী লীগের গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আব্দুল মান্নান খানের স্নেহধন্য হয়ে ওঠেন। এ আমলেই তিনি সরকারি কাজের বড় বড় টেন্ডার বাগিয়ে নিতে শুরু করেন। বলা চলে আব্দুল মান্নান খানের আশীর্বাদেই টেন্ডার মোগলে পরিণত হন শামীম।

ক্যাসিনো-কাণ্ডে গ্রেফতার আরেক মহারথী লোকমান হোসেন ভূঁইয়াকে নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছে শাসক দল। বিসিবির পরিচালক ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক লোকমানকে দুদিনের হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে র‌্যাব গণমাধ্যমে জানিয়েছে, লোকমান নিজের ক্ষমতার দাপটে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ক্যাসিনোর জন্য ভাড়া দিয়েছিলেন। গত দুই বছরে ক্যাসিনো থেকে অবৈধভাবে আয় করা ৪১ কোটি টাকা তিনি অস্ট্রেলিয়ায় পাচার করেন। তার কাছ থেকে ক্যাসিনো চালানোর জন্য ক্লাব ভাড়া নিয়েছিলেন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মমিনুল হক ওরফে সাঈদ।

১৯৯৬ সালে বিরোধীদলীয় নেতা থাকাকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ছিলেন লোকমান হোসেন। এর আগে, ১৯৯৩ সালে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হন লোকমান। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালুর ঘনিষ্ঠ তিনি। বর্তমানে তিনি বিসিবি সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা নাজমুল হাসান পাপনের ঘনিষ্ঠ। লোকমান ক্রিকেট বোর্ডে আসেন ২০১২ সালে। সে সময় ক্রিকেটের সঙ্গে তার কোনো সংশ্লিষ্টতাই ছিল না। বিসিবি সভাপতি পাপনের আনুকূল্যে তিনি একপর্যায়ে বিসিবি পরিচালক হয়ে যান। পাপন জানিয়েছেন, লোকমান তার বন্ধু।

এদিকে চট্টগ্রামের ক্লাবগুলোতে জুয়া খেলার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে সরকারের কড়া সমালোচনা করেন জাতীয় সংসদের হুইপ। পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের মহাসচিব শামসুল হক চৌধুরী বলেন, ক্লাবগুলোকে তো আর সরকার টাকা দেয় না। তার এ বক্তব্যের পর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার ফেসবুকে দাবি করেন, হুইপ শামসুল ক্লাবে জুয়া থেকে ১৮০ কোটি টাকা আয় করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক দিদারুল আলম চৌধুরী দাবি করেছেন, শামসুল হক চৌধুরী এক সময় ডবলমুরিং থানা যুবদলের সেক্রেটারি ছিলেন। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টির রাজনীতিও করেছেন।

দিদারুল আলম আরও দাবি করেন, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে আসেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। এ সময় উপস্থিত অন্যদের ধরে নির্বাচনী প্রচারণার মাইক হাতে নেন শামসুল হক চৌধুরী। জিয়াউর রহমানের উপস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগকে লাগামহীনভাবে গালাগালি করাতে সেদিন জিয়াউর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হন শামসুল হক। সেদিন তার ‘বিচ্ছু শামসু’ নামটি জিয়াউর রহমান দিয়েছিলেন।

দিদারুল আলম চৌধুরী বলেন, জিয়ার প্রোডাক্টের কাছে কখনো বঙ্গবন্ধু কিংবা তার মেয়ের জন্য ভালোবাসা থাকবে না। থাকবে শুধু বাইরের একটা রূপ দিয়ে ব্যবহার করে উনার থেকে কিছু হাতিয়ে নেওয়া। প্রকৃতপক্ষে তার অন্তরে বিএনপি-জাতীয় পার্টি। মুখের ওপর তিনি আওয়ামী লীগ।

ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে চলমান শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হওয়া বা আলোচিত নেতাদের মধ্যে একটা অংশ অন্য দল থেকে আসা অনুপ্রবেশকারী। প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়াতেই তারা আওয়ামী লীগে প্রভাব বিস্তার করেছেন। এ সব অনুপ্রবেশকারীকে আওয়ামী লীগ থেকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম সম্প্রতি এক সভায় বলেছেন।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা অনুপ্রবেশকারীদের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT