রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ০৩ আগস্ট ২০২১, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ

০৯:৫০ পূর্বাহ্ণ

অনাদরের আগাছায় দিচ্ছে টাকা

প্রকাশিত : ০৮:৫৭ AM, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সোমবার ৪৫৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

ভাদ্র-অশ্বিনজুড়ে শরৎকালের রাজত্ব। শরতেই দেখা যায় শুভ্র ঘন কাশফুল। আর এ ফুল বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা।

এ বছর কাশফুলের চাষ করেছেন উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের গোলাম সরোয়ার বিশ্বাসের ছেলে আব্দুল হক, পাইকপাড়া গ্রামের সাখাওয়াত হোসেন, বারপাখিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনসহ কয়েকজন।

কৃষকরা জানান, এক সময় গ্রামে মাটির ঘর ছিল। ঘরগুলোতে ছাউনির জন্য খড় ব্যবহার করা হতো। এখন আর সেই ঘর নেই। কিন্তু রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে পান চাষ। আর পানের বরজে খড় ও কাশফুল ব্যবহার হচ্ছে।

তারা আরো জানান, কোনো কোনো ফসলি জমিতে বিচ্ছিন্নভাবে আগাছা হিসেবে খড় ও ঝাঁটি গজিয়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে কৃষকরা আগাছা দমনের সময়ে সেগুলো কেটে ফেলে। কিছুদিন পর ফসলের মধ্যে ফের গজায়। কেননা এ কাশফুলের মূল চলে যায় মাটির গভীরে। তখন তারা বাধ্য হন ওই জমিটি ঝাঁটি বা কাশফুলের জন্য রাখতে।

পাইকপাড়া গ্রামের কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, কাশফুল চাষে তেমন কোনো খরচ নেই। বর্ষা মৌসুমে এ গাছের চারা গজালে গাছ শক্ত রাখতে সামান্য ফসফেটের সঙ্গে কিছু পটাশ দিতে হয়। আর জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তা দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হয়। এরপর শীতে জমি থেকে কেটে ভালো করে শুকিয়ে রাখলে ক্ষেত থেকেই বরজ মালিকরা কিনে নেন।

তিনি আরো বলেন, প্রায় ২৫ বছর ধরে এ জমিতে অন্য কোনো চাষ করা হয় না। জমিটি আলাদা রেখে দেয়া হয়েছে কাশফুল ও খড়ের জন্য। অন্য ফসল চাষ করলে উৎপাদন খরচ বাদে যে লাভ পাওয়া যেত তার চেয়ে অনেক বেশি লাভ পাচ্ছি কাশফুলে।

বারপাখিয়া গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ক্ষেতে কাশফুল ছাড়াও পাওয়া যায় চিকন জাতের খড় বা ছন। এছাড়া উভয় গাছই পানের বরজের ছাউনিতে ব্যবহার করা হয়।

উপজেলার বলরামপুর গ্রামের পান চাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, পানের বরজে খড় ও কাশফুলের খুবই প্রয়োজন। আগে এ গাছ গ্রামাঞ্চালের ভিটে বা বন-বাদাড়ে পাওয়া যেত। এখন সব জমি আবাদি হয়ে গেছে। তৈরি হচ্ছে নতুন ঘরবাড়ি। যে কারণে এখন আর কাশফুল ও খড় তেমন একটা পাওয়া যায় না। অল্প পাওয়া গেলেও আকাশ ছোঁয়া দাম। তারপরও এর বিকল্প নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল করিম বলেন, কৃষকরা অনাবাদি জমিতে কাশফুল চাষ করে বরজ মালিকদের কাছে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT