রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

বৃহস্পতিবার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

০৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ

শিরোনাম

অনলাইনের ক্যাসিনো রুখবে কে?

প্রকাশিত : ০৬:৩৮ AM, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯ রবিবার ৩০৬ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

রাজধানীতে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে চলছে। একের পর এক ধরা পড়ছে মানুষকে কপর্দকশূণ্য করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া এসব জুয়া আসরের হোতাদের। তাই বলে থেমে নেই ক্যাসিনো। কারণ হাতের মুঠোয় আছে স্মার্ট ফোন। বোতাম টিপলেই মুহূর্তে ঢুকে পড়া যায় তিন পাত্তি গোল্ডের অবৈধ ক্যাসিনোতে।

‘তিন পাত্তি গোল্ড’ হলো অনলাইনে ক্যাসিনোর একটি অ্যাপ। এই ভার্চুয়াল জুয়ায় দিন দিন আসক্ত হয়ে পড়ছেন দেশের ‘অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন’ ব্যবহারকারী সব বয়সী মানুষ। এদের বেশিরভাগই স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

ভারতীয় কয়েকজন নাগরিক বিদেশে বসেই এ খেলা পরিচালনা করেন। তবে বাংলাদেশে রয়েছে তাদের কয়েক’শ ডিলার।

আরও জানা গেছে, রাত-দিন ২৪ ঘণ্টাই চলে ‘তিন পাত্তি গোল্ড’। কারণ এটি খেলতে কোনো ক্লাবে যেতে হয় না। ভার্চুয়াল জুয়াটি ঘরে বসে নিজের মোবাইল ফোনে খেলছে লোকজন। আর খোয়াচ্ছে অর্থকড়ি। প্রাথমিকভাবে কম খরচ হলেও মাস শেষে খোয়া যাওয়া অর্থের পরিমাণ মোটা অঙ্কে পৌঁছে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এই জুয়ার ডিলার। তাদের কাছ থেকে বিকাশ, নগদ, রকেট কিংবা অন্যান্য মাধ্যমে চিপস বা কয়েন কেনেন জুয়াড়িরা। এভাবে প্রতিবছর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে দেশের কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে হুন্ডির মাধ্যমে।

অনলাইনের এই জুয়ার জন্য সাড়ে ৭ লাখ চিপস কিনতে হয় ৮০ টাকায়। ১ কোটি ১৫০ টাকায়, ৩ কোটি ৩ লাখ চিপস ৪২০ টাকায়, ৭ কোটি ৫০ লাখ চিপস ৮৫০ টাকায় ও ১৬ কোটি চিপস কিনতে খরচ হয় ১ হাজার ৭ শ’ টাকা। আর জেমস কিনতে খরচ হয় ১শ’ জেমস ৮০ টাকা, ১ হাজার ৭৫ জেমস ১৫০ টাকা, ৫ হাজার ৫শ’ জেমস ৮৫০ টাকা, ১১ হাজার ৫শ’ জেমস ১ হাজার ৭ শ’ টাকা ও ৬২ হাজার ৫শ’ জেমস কিনতে গুণতে হয় ৮ হাজার ৪ শ’ টাকা। অ্যাপের নিয়ম অনুযায়ী এই মূল্যে কিনতে প্রয়োজন পড়ে ক্রেডিট বা ডেভিড কার্ড। এ কারণে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ঝুঁকে পড়ছেন তারা। রয়েছে চিপস শেয়ারের সুবিধা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশে আছে এমন চিপস শেয়ারের শতাধিক এজেন্ট। তারা বিভিন্নভাবে খেলায় যুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এদের সবার রয়েছে ফেসবুক পেজও। এমন একজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইচ্ছা পোষণ করা হয় ১ কোটি চিপস কেনার। নিয়ম অনুযায়ী ১ কোটি চিপসের মূল্য ১৫০ টাকা হলেও তারা চায় ১ হাজার টাকা। আরেকটি নম্বরে ফোন করেও ঠিক একই পরিমাণ অর্থ চাওয়া হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোল্ড তিন পাত্তির সঙ্গে জড়িত এবং চিপস ডিলারদের শিগগির নজরদারিতে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, অনলাইনে জুয়া প্রতিরোধ বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। এর আগেও ক্রিকেট খেলা নিয়ে যেসব সাইটে জুয়া হতো সেগুলো আমরা বন্ধ করেছি। একটা বন্ধ করা হলে আরেকটি তারা খুলে ফেলে। এটা নিয়মিত মনিটরিং করা দরকার, আমরা মনিটরিং করছিও। তিনি বলেন, অনলাইনে চিপস বিক্রির ডিলারদের আমরা আইনের আওতায় আনতে কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করলে হবে না, পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। কারণ, যারা এ জুয়া খেলেন তারা বাসায় বসেই খেলেন।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

এই বিভাগের জনপ্রিয়

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT