রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

মঙ্গলবার ১৩ এপ্রিল ২০২১, ৩০শে চৈত্র, ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

১০:০০ অপরাহ্ণ

অক্টোবরে চাঙ্গা রেমিট্যান্স

প্রকাশিত : ০৪:৪৭ AM, ৪ নভেম্বর ২০১৯ সোমবার ১১৯ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

চলতি অর্থবছরের প্রতি মাসেই ভালো প্রবৃদ্ধি আছে রেমিট্যান্সে। আর্থিক প্রণোদনা কার্যকরের পর অক্টোবরে আরও চাঙ্গা হয়েছে প্রবাসী আয়। এ মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ১৬৪ কোটি ডলারের অর্থ পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের বছরের একই মাসের তুলনায় যা ৩২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেশি। আর আগের মাস সেপ্টেম্বরের তুলনায় বেড়েছে ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ব্যাংকিং চ্যানেলে বিনিময় হার বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রণোদনার কারণে বৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বেড়েছে বলে ধারণা সংশ্নিষ্টদের।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়াতে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দিচ্ছে সরকার। কেউ ১০০ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাঠালে উপকারভোগী পাচ্ছেন ১০২ টাকা। এই প্রণোদনার অর্থ পরিশোধের জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে তিন হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে সরকার। গত ১ জুলাই থেকে পাঠানো অর্থের বিপরীতে এ সুবিধা দেওয়ার কথা। যদিও নীতিমালা প্রণয়ন এবং নতুন সফটওয়্যার স্থাপন করে তা কার্যকর হয়েছে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে। এখন স্বয়ংক্রিভাবে প্রণোদনা পাচ্ছেন সুবিধাভোগীরা। এর আগে যেসব অর্থ এসেছে নির্দিষ্ট প্রমাণপত্রের বিপরীতে তার বিপরীতেও অর্থ দেবে ব্যাংকগুলো।

রেমিট্যান্সে প্রণোদনায় অনেকে খুশি হলেও এর অপব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য রেমিট্যান্সের বিপরীতে আর্থিক প্রণোদনা দিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছে, ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমালে প্রণোদনা দেওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। শুরুর দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও রেমিট্যান্সে প্রণোদনার বিপক্ষে মত দিয়েছিল। যদিও সরকারি সিদ্ধান্তের আলোকে গত ৬ আগস্ট প্রণোদনার বিষয়ে নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর সময়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৬১৫ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। গত অর্থবছরের ওই ৪ মাসে এসেছিল ৫১১ কোটি ডলার। গতকাল রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০৪ কোটি ডলার বা ২০ দশমিক ৪১ শতাংশ। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এর আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছর প্রবাসীরা এক হাজার ৬৪২ কোটি ডলার সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠান। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের তুলনায় যা ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ বেশি ছিল। ২০১৭-১৮ অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল ১৭ দশমিক ৩২ শতাংশ। এর আগে ২০১৫-১৬ ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রেমিট্যান্স কমেছিল। টানা দুই অর্থবছর রেমিট্যান্স কমায় দুশ্চিন্তায় পড়ে সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন হুন্ডি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষ করে মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে কেউ যেন টাকা পাঠাতে না পারে সে লক্ষ্যে দেশে ও দেশের বাইরে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ব্যাংকিং চ্যানেলে টাকা পাঠাতে বাড়তি খরচ, ব্যাংকিং ভীতি ছাড়াও নানা কারণে ব্যাংকের বাইরে অর্থ পাঠান একশ্রেণির মানুষ। হুন্ডিকারবারিদের অনেকে প্রবাসীর কর্মস্থলে গিয়ে টাকা নিয়ে আসেন। ব্যাংকে টাকা পাঠাতে নানা ঝামেলা পোহালেও হুন্ডি কারবারিরা হাতে হাতে টাকা দিয়ে দেন। অনেক সময় বেতন পাওয়ার আগেই সুবিধাভোগীকে অর্থ দিয়ে পরে নেন। এ প্রবণতা ঠেকাতে রেমিট্যান্সে প্রণোদনা ছাড়াও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে কড়া নজরদারি, হুন্ডি কারবারিদের বিষয়ে সতর্ক করে দূতাবাসগুলোতে চিঠি দেওয়াসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

© ২০২১ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT