রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ

মুশফিকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার ফাইনাল

প্রকাশিত : ০৭:২৯ PM, ১৪ জানুয়ারী ২০২০ Tuesday ২৭ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

বিপিএলের গত আসরে প্রথমবারের মতো ফাইনালে উঠে শিরোপা পেয়েছিলেন তামিম ইকবাল। এবার কি মুশফিকুর রহিমের পালা? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে বোল্ড মোহাম্মদ ইরফান। উইকেটের পেছনে মুশফিকুর রহিমের গগণবিদারী চিৎকার। চেনা উদযাপন। চোখেমুখে ছিল দেখিয়ে দেওয়ার তৃপ্তি। ডান হাত মুষ্টিবদ্ধ করে শূন্যে ছুড়েছেন ঘুষি। জয় নিশ্চিতের পর বাড়তি এই উদযাপন দিল ভিন্ন মাত্রা। শুধু কি জয়? এ জয়ের জন্যই তো মুশফিকের অপেক্ষা দীর্ঘ সাত বছর।

বাংলাদেশের এই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে মুশফিকুর রহিমের অর্জনের শেষ নেই। কিন্তু দেশের সুপারস্টারের হাতে কখনো ওঠেনি শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট। কখনো পারেননি বিপিএলের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ খেলতে। বঙ্গবন্ধু বিপিএল দিয়েই প্রথমবারের মতো মুশফিক উঠলেন ফাইনালে।

খুলনা টাইগার্সকে বিপিএলের ফাইনালে তুলেছেন মুশফিক। সোমবার রাজশাহী রয়্যালসকে উড়িয়ে ফাইনালের নিকিট নিশ্চিত করে মুশফিকের দল। দলকে শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন দারুণভাবে। টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একই গতিতে চলছে খুলনা দলটি। সাফল্যের পেছনে বড় কারণ মুশফিক।

আগের আসরগুলো থেকে এবারের বিপিএলে মুশফিক ছিলেন বেশ গোছাল। ব্যাটিংয়ে দারুণ সময় কাটানোয় বিপিএলজুড়েই তার মুখে অবিরাম হাসি। অথচ বিপিএলের আগের সব আসরেই মুশফিকের অধিনায়কত্ব প্রায় সময়ই ছিল ‘ঠুনকো’। কখনো নিজে দায়িত্ব ছেড়েছেন, না হয় ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে সরিয়ে দিয়েছে। আবার এমন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোতে খেলেছেন, যাদের মাঠের বাইরের ইস্যুতে জাতীয় দলের এ তারকা হয়েছেন বিব্রত।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু বিপিএলে মুশফিক ছিলেন চেনারূপে। ২২ গজে দোর্দন্ড প্রতাপ দেখিয়েছেন। অধিনায়কত্বে ছিলেন অবিশ্বাস্যরকমের চমৎকার। শোনা যায় মাঠের বাইরেও দলকে রেখেছিলেন আগলে। তিনের মিশেলে খুলনা উড়েছে বিপিএলে।

ব্যাট হাতে ১৩ ম্যাচে ৪৭০ রান করে মুশফিক বিপিএলে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। লিগ পর্বে ১২ ম্যাচে ৮ জয় নিয়ে খুলনা উঠেছিল প্রথম কোয়ালিফায়ারে। সেখানে জয় পেয়ে তারা উঠেছে ফাইনালে। এর আগে ছয় আসরে মুশফিক সেরা চারে উঠেছেন তিনবার, তিনবার লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছেন।

প্রথম আসরেই মুশফিক খেলেছিলেন সেমিফাইনাল। তার দল ছিল দুরন্ত রাজশাহী। ১১ ম্যাচে ২৩৪ রান করা মুশফিক দলকে সেরা চারে তুললেও জেতাতে পারেননি সেমিফাইনাল। বরিশাল বার্নাসের কাছে ৮ উইকেটে হেরে বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে।

দ্বিতীয় আসরেও মুশফিকের একই পরিণতি। সিলেট রয়্যালসের হয়ে ১৩ ম্যাচে ৪৪০ রান করে মুশফিক ছিলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। কিন্তু সেমিফাইনালে চিটাগং কিংসের কাছে ৩ উইকেটে হেরে ফাইনালে ওঠা হয়নি উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের।

তৃতীয় আসরে সিলেট সুপারস্টার্সের জার্সিতে মুশফিক বিপিএলে সবচেয়ে খারাপ সময় কাটিয়েছেন। মাঠে ১০ ম্যাচে করেছিলেন মাত্র ১৫৭ রান। ছয় দলের টুর্নামেন্টে পাঁচে থেকে শেষ করেছিল তার দল। ১০ ম্যাচে তার দল জিতেছিল মাত্র ৩টি, হেরেছিল ৭টি।

চতুর্থ আসরে বরিশাল বুলসের হয়ে ১২ ম্যাচে মুশফিকের রান ৩৪১। সেবারও শেষ চারে যাওয়া হয়নি তার। আট দলের টুর্নামেন্টে তার দল সপ্তম হয়ে বিদায় নেয় টুর্নামেন্ট থেকে। ১২ ম্যাচে বরিশাল জিতেছিল ৪টিতে, হেরেছিল ৮টি।

পঞ্চম আসরে আইকন ক্রিকেটার হিসেবে মুশফিককে লুফে নেয় রাজশাহী কিংস। সেবারও ব্যাট হাতে সময়টা খারাপ যায় মুশফিকের। ১২ ম্যাচে রান মাত্র ১৮৫। আট দলের টুর্নামেন্টে তার দল হয়েছিল ষষ্ঠ। ১২ ম্যাচে ৪ জয় ও ৮ পরাজয় নিয়ে মিশন শেষ করে রাজশাহী।

বিপিএলের সবশেষ আসরে তার দল ছিল চিটাগং ভাইকিংস। পরিণত মুশফিক ১৩ ম্যাচে ৪২৬ রান তুলে দলকে দারুণভাবে নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন এলিমিনেটর ম্যাচে। সেখানে সাকিবের দলের বিপক্ষে আর পেরে ওঠেনি চিটাগং। আবার শেষ চার থেকে বিদায় নেন মুশফিক।

সাত বছর পর মুশফিক বিপিএলের ফাইনালে। শিরোপা থেকে মাত্র এক পা দূরে। বিপিএল ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২২৫৩ রান করা মুশফিকের এবার শিরোপার আক্ষেপ ঘুচবে তো? নাকি তার দীর্ঘ প্রতীক্ষা আরও দীর্ঘ হবে? মুশফিকভক্ত আর খুলনা; সবারই হয়তো একটাই চাওয়া- বিপিএলের সোনালি ট্রফিটা যেন মুশফিকেরই হয়!

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
56 57 days 18 19 hours 00 01 minutes 31 32 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT