মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
48 49 days 20 21 hours 53 54 minutes 34 35 seconds

রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

সোমবার ২৭ জানুয়ারি ২০২০, ১৪ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৬:০৬ পূর্বাহ্ণ

গাইবান্ধায় জোড়াতালির চিকিৎসা সেবা রামচন্দ্রপুর পল্লী সাস্থকেন্দ্র

প্রকাশিত : ০২:৩২ PM, ২২ ডিসেম্বর ২০১৯ Sunday ১১৮ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

এন এম সরকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ-
গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর পল্লী স্বাস্থ্য কেন্দ্র। জেলার বেশিরভাগ লোকজনই এটিকে বালুয়া হাসপাতাল হিসেবে চিনে থাকে। একসময় এই স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে চার উপজেলার অন্তত দশ লাখ মানুষ চিকিৎসা সেবা নিত। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির বেহাল দশা। কর্তৃপক্ষের অযন্ত আর অবহেলায় ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে দাড়িয়েছে আঠারো বিঘা আয়তনের উপর ১০ শয্যা বিশিষ্ট বিশাল এই হাসপাতালটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মুল অবকাঠামোসহ আবাসিক ভবনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেয়াল খসে পড়ছে, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় হাসপাতালের অনেক মূল্যবান যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের মাঠে গরু, ছাগল, ভেড়া চড়ছে। অভিযোগ আছে জনশুন্য অবস্থার কারনে রাতে অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদকসেবীর আড্ডা হয় এখানে।

তবে আশার কথা হলো সদ্য এই হাসপাতালে দুইজন এমবিবিএস ডাক্তার যোগদান করেছে। তারা নিয়মিতভাবে আউটডোরে রোগী দেখছেন। বর্তমানে নার্সসহ ১৯ পদের মধ্যে ১৭ টি পদে জনবল রয়েছে। তবে জনবল থাকলেও মেডিকেল অফিসার ও দু-একজন নার্স ছাড়া কেউই নিয়মিত আসেন না এখানে। এক সময়ের ১০ বেডের এই হাসপাতালটি নানা জটিলতায় ২০০৮ সালে ইনডোর বন্ধ হয়ে যায়। তারপরেও নানাভাবে উদ্যোগ গ্রহন করা হলেও আজও তা চালু করা সম্ভব হয়নি।

এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঔষধ নিতে আসা রহমত মিয়া নামে এক ব্যক্তির সাথে কথা হয়, তিনি জানান, ‘আগে এই হাসপাতালে শত শত রোগী আসত। তারা নিয়মিত চিকিৎসা নিত, বেশি অসুস্থ রোগী এখানে ভর্তিও হত। ঔষধের কোন খাটতি ছিল না। রক্ত পরীক্ষা, প্রসাব পরীক্ষা করা হত। বর্তমানে কোনকিছুর ঠিক নেই, গ্যাসের ঔষধ আর জ্বরের বড়ি ছাড়া কিছুই পাওয়া যায় না।’

পাশ্ববর্তী গ্রামের রাকিব মিয়া জানান, ‘আশেপাশে দশ কিলোমিটারের মধ্যে কোন হাসপাতাল নেই। হাসপাতাল বলতে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতাল। অসুখ-বিসুখ হলে দশ কিলোমিটার দুরে জেলা হাসপাতালে যেতে হয়। আগে গর্ভবতী মা ও শিশুসহ সাধারন মানুষ এই বালুয়া হাসপাতালেই চিকিৎসা নিত। তিনি অচিরেই সকল সমস্যা ও প্রতিবন্ধকতা দুর করে এই হাসপাতালটির পূর্বের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।

রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের সাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি নিজে বহুবার সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগসহ আবেদন করেছি এই হাসপাতালটির পূর্বের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য। তারা শুধু আশ্বাস দিয়েছেন কিন্তু কাজের কাজ হয়নি। তবে বর্তমানে সদ্য দুজন মেডিকেল অফিসার যোগদান করেছেন। পুরাতন বিল্ডিংগুলো সংস্কার করে হাসপাতালটির কার্যক্রম সঠিকভাবে চালু করা হলে এই এলাকার হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে।

এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন এবিএম আবু হানিফ জানান, এই হাসপাতালটি স্বাধীনতার আগে তৈরি সম্ভবত ১৯৬২ সালে। প্রশাসনিক কারনসহ নানাবিধ জটিলতা ও জনবল সমস্যার কারনে এই হাসপাতালটির কার্যক্রম বন্ধ হয়েযায়, তবে আমরা আউটডোর সার্ভিস চালু রেখেছি। এই হাসপাতালটি চালুর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন উর্ধতন কর্মকর্তা এই কার্যক্রম পরিদর্শন করে প্রতিবেদন আমাকে দিয়েছেন। সেই প্রতিবেদনের আলোকে জেলা প্রশাসকসহ হাসপাতালটি আমরা পরিদর্শন করে একটি প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ে প্রেরন করেছি। সেই প্রতিবেদনের একটি কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তবে ইতোমধ্যে দুজন মেডিকেল অফিসার সেখানে পাঠানো হয়েছে এছাড়াও নিয়মিত ঔষধ সরববাহ নিশ্চিত করাসহ ইনডোর সার্ভিস চালুর করা জন্য আমরা সচেষ্টয় আছি।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
48 49 days 20 21 hours 53 54 minutes 33 34 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT