রেজি. নং- ১৯৬, ডিএ নং- ৬৪৩৪

রবিবার ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ৬ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

০৮:৪৭ পূর্বাহ্ণ

অ্যান্টিবায়োটিকে বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

প্রকাশিত : ০৬:২২ AM, ১৪ জানুয়ারী ২০২০ Tuesday ৩২ বার পঠিত

আলোকিত সকাল রিপোর্ট :
alokitosakal

হাত বাড়ালেই অ্যান্টিবায়োটিক, স্বেচ্ছায় হাতুড়ে ডাক্তার এমনকি দোকানির পরামর্শে ভোগাসে অ্যান্টিবায়োটিক গিলছে সাধারণ মানুষ। রেজিস্ট্রার চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অ্যান্টিবায়োটি সম্পূণরূপে ফার্মাসিতে বিক্রি বন্ধ করা না গেলে, আগামীতে সাধারণ হাঁচি কাশিতেও মৃত্যুর ঘটনা বাড়বে বলে আশঙ্কা ওষুধ বিশেষজ্ঞদের।

জানা গেছে, প্রেস ক্রিপশন ছাড়াই বছরে বিক্রি হচ্ছে অন্তত ৫০ কোটি পিস অ্যান্টিবায়োটিক। নিয়ম না মেনে মাত্রাতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের ফলে জীবাণু ধ্বংস করার সামর্থ্য হারাচ্ছে জীবন-রক্ষাকারী এ ম্যাজিক ড্রাগ। গবেষণায় উঠে এসেছে, আইসিইউতে মৃত্যু হওয়া ৮০ ভাগ রোগীর শরীরে পাওয়া জীবাণুগুলো সব অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভয়ঙ্কর এ পরিস্থিতি মোকাবিলার অন্যতম প্রধান পথ যে কোনো মূল্যে অ্যান্টিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিইউতে ভর্তি শুভজিত এবং অমিত। বয়স ৩০ না পেরুলেও দুজনের শরীরেই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিঃশ্বেষ প্রায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, ২০টি অ্যান্টিবায়োটিকের কেবল একটি কাজ করছে দুজনের শরীরে। প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে নিয়ম না মেনে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ায় তাদের শরীরে ওষুধের চেয়েও শক্তিশালী এখন জীবাণু।

এক চিকিৎসক বলেন, একটি অ্যান্টিবায়োটিক যখন আগামী ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে অকার্যকর হয়ে যাবে, তখন এ ধরনের রোগীদের শরীরে জীবাণু আক্রান্ত হলে, তাদের আর অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে চিকিৎসা করানো যাবে না। ফলে তারা মৃত্যুর ঝুঁকিতে পাড়বে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ও ছোটখাট সমস্যায় অ্যান্টিবায়োটিক সেবন ও নিয়ম মেনে কোর্স পূরণ না করায় শরীরে জীবাণুর বিরুদ্ধে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়েও প্রকৃতি ও পরিবেশে থাকা এসব ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স জীবাণু শরীরে প্রবেশ করায় মৃত্যুর কাছে হার মানছে অনেক শিশুও।

এক চিকিৎসক বলেন, আমার কাছে প্রমাণ আছে তিনটা রোগীর, তারা তিনজনই অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করত এবং এই তিনজনেরই শরীরে এখন অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করছে না। এক ফার্মাসিস্ট বলেন, এখানে আমরা ১০০ প্রেসক্রিপশন পেলে তার মধ্যে ৭০টা তেই অ্যান্টিবায়োটিক থাকে। আমার কাছে তিনটি শিশু রোগী আসছে। প্রকোপ কমাতে জ্বর, সর্দি, হাঁচি কাশির মতো সাধারণ অসুখে রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক না দেওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

এক ফার্মাকোলোজিস্ট বলেন, ধরেন যোগ্য চিকিৎসক সাধারণ কারণেও একজন রোগীকে অ্যান্টিবায়োটিক দিচ্ছেন, সেই অ্যান্টিবায়োটিকটি তিনি নিয়ম মেনে গ্রহণ করছেন না। তবে সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমানো।

সম্প্রতি ব্যবস্থাপত্র ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কাজ করছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর।

ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের এক কর্মকর্তা বলেন, ফার্মেসিগুলো ধীরে ধীরে একটি স্টান্ড্যান্ট ফার্মেসিতে রূপান্তরিত করা হবে। মানসম্পন্ন অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি হচ্ছে কি না। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ম্যানুফ্যাক্সিং সঠিকভাবে নিশ্চিত করছে কি না তা কিন্তু নিময়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।

শেয়ার করে সঙ্গে থাকুন, আপনার অশুভ মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি Alokito Sakal'কে জানাতে ই-মেইল করুন- dailyalokitosakal@gmail.com আপনার পাঠানো তথ্যের বস্তুনিষ্ঠতা যাচাই করে আমরা তা প্রকাশ করব।

Alokito Sakal'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।




মুজিববর্ষ: বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন
56 57 days 18 19 hours 12 13 minutes 04 05 seconds

© ২০২০ সর্বস্বত্ব ® সংরক্ষিত। Alokito Sakal | এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বে-আইনি, Design and Developed by- DONET IT